Nipun Services
  Toronto, Ontario, Canada
  A  House of  Quality & Trust

  Nipun  Services

  Provide accurate services

News and Views Post New Entry

Mohiuddin Ahmed

Posted by Nipunservices on May 8, 2014 at 5:25 PM

.

প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে জেনারেল জিয়াউর রহমান গুম ও খুনের রাজনীতি চালু করেছেন। কথাটা মোটেও সত্য নয়। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক মানুষ নিরুদ্দেশ কিংবা নিহত হয়েছিলেন। অবস্থা এমন চরমে পৌঁছেছিল যে সরকারি পত্রিকা দৈনিক বাংলায় নির্মল সেন একটা উপসম্পাদকীয় লিখে সবার নজর কেড়েছিলেন। এর শিরোনাম ছিল, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’। এটা ১৯৭৪ সালের ঘটনা। বিএনপি নেতারা প্রায়ই এই শিরোনামটি উল্লেখ করে জনসভা কিংবা সেমিনারে তর্জনী উঁচিয়ে কথা বলেন। তবে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি তঁারাও দিতে পারেননি। একটি উদাহরণই যথেষ্ট, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পরবর্তীকালে ‘জজ মিয়া’ চিত্রনাট্যের প্রযোজনা। তাই তঁাদের কথাও সাধারণ নাগরিকেরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নেন না।

.

সাত খুন অবশ্য ঘটল দ্বিতীয়বার। প্রথমবার ঘটেছিল চুয়াত্তরের ২ ও ৩ এপ্রিলের মধ্যবর্তী রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্য সেন হল থেকে সাতজন ছাত্রকে ধরে এনে মুহসীন হলের টেলিভিশন কক্ষের সামনে দঁাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সকালে আমি ওই জায়গায় কয়েক ইঞ্চি পুরু জমাট বঁাধা রক্ত দেখেছিলাম। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছিল। মিছিলে স্লোগান ছিল ‘হত্যাকারীদের ফঁাসি চাই’। কয়েক দিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শফিউল আলম প্রধানসহ ১৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই হত্যাকাণ্ড ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এক অংশের মধ্যে নোংরা দলাদলির প্রতিফলন, যার পেছনে কোনো আদর্শের ছিটেফেঁাটাও ছিল না। ছাত্রলীগের ওপর কর্তৃত্ব রাখাটাই ছিল মুখ্য। বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল। কয়েক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিক্ষক শফিউল আলম প্রধানের মুক্তি দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তঁারা ভুলে গিয়েছিলেন, নিহত ব্যক্তিরাও তঁাদের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমষ্টিগত নৈতিক স্খলন সম্ভবত তখন থেকেই শুরু। শাস্তির পুরো মেয়াদ না খেটেই তঁারা মুক্ত হন। প্রধান এখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯-দলীয় জোটের শরিক এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ‘অতন্দ্র প্রহরী’।

.

১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারকে হটিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এর পটভূমি আমরা জানি। ওই সময় দেশের আইনশৃঙ্খলব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমের সরকারি বাসভবন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমদুকে গ্রেপ্তার করা হলে সাত্তার সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে যায়। এরশাদ এই ঘটনাগুলোকে পুঁজি করতে পেরেছিলেন। এটাও সত্য যে সাধারণ মানুষ হঁাফ ছেড়ে বেঁচেছিল। এক-এগারো যখন ঘটল, সাধারণ মানুষ তখনো খুশি হয়েছিল। যারা এটা বিশ্বাস করেন না, তঁারা গণভোট নিয়ে এটা যাচাই করে দেখতে পারেন।

‘অগণতান্ত্রিক শক্তি’ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার জন্য ওত পেতে আছে বলেও নেতা–নেত্রীরা দাবি করেন৷ তবে জনসমর্থন ছাড়া কোনো শক্তি কখনোই ক্ষমতা দখল করতে পারেনি, দখল করলেও টিকে থাকতে পারেনি৷ এটা আমরা দেখেছি ১৯৫৮ সালে, ১৯৮২ সালে এবং সর্বশেষ ২০০৭ সালে। আর এটা সমাধান নয়, প্রতিবারেই তা প্রমাণিত হয়েছে। তবে এটাও তো সত্য, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অতীত থেকে কোনো শিক্ষাই নেয়নি। এবারে নেবে কি?

মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক৷

Categories: ____ Neutral Views ........

Post a Comment

Oops!

Oops, you forgot something.

Oops!

The words you entered did not match the given text. Please try again.

Already a member? Sign In

0 Comments

Oops! This site has expired.

If you are the site owner, please renew your premium subscription or contact support.