Nipun Services
  Toronto, Ontario, Canada
  A  House of  Quality & Trust

  Nipun  Services

  Provide accurate services

News and Views Post New Entry

Joakes and Love

Posted by Nipunservices on June 13, 2013 at 3:45 PM

"ঘড়িটা দাও তো ।" সকালে অফিসের জন্য তৈরী হতে হতে আম্মাকে বললেন আব্বা ।
 

আম্মা ঘড়িটা এগিয়ে দিলেন ।"তোমার ঘড়ি তো চলেনা , থেমে আছে ।" আব্বা কিছু বললো না । ঘড়িটা পড়ে দরজা খুলে অফিসে জন্য চলে গেলেন ।

 ..

সন্ধ্যা বেলা । বাসায় বসে টিভি দেখছি । আম্মা চা নিয়ে এলেন আমার জন্য । "কয়টা বাজে রে ?" বলে আমার রুমের

 ডিজিটাল দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালেন ।

 ..

"জানিস তোর আব্বার ঘড়ি নষ্ট । একটা নতুন ঘড়ি কিনতে বললাম , কিছু বলেনা । নষ্ট ঘড়ি পড়ে কেউ অফিস যায় ?"

 আমি চুপ করে চা খেতে লাগলাম । আম্মা কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে গেলো ।

 ..

আমার দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকালাম । লাল ডিজিটের পরিবর্তনে দিকে তাকিয়ে কিছুটা অতীতের ফিরে আসা হলো মনে...

 ক্লাস টু তে পড়ি তখন । সবাই কার্টুন ওয়ালা কালারফুল ঘড়ি পড়ে স্কুলে যায় । আমার নাই । স্কুল থেকে ফিরে সন্ধ্যায়

 আব্বাকে বললাম "আব্বু , আমার জন্য একটা ঘড়ি আনবা , ঠিক আছে ? কার্টুন ওয়ালা ।" "আচ্ছা এনে দিবো কালকে ।" আব্বার আশ্বাস ।

 ...

পরদিন স্কুল থেকে বাসায় এসে ছটফট করছি আব্বা কখন আসবে ! নতুন ঘড়ি পড়বো , কি মজা ! আব্বা এলেন , কিন্তু ঘড়ি আনেননি । ভূলে গেছিলেন । আমি কান্নাকাটি শুরু করলাম

 ।

 আমাকে বললেন কাল যেভাবেই হোক কিনে আনবেন । আমি শুনছিলাম না । তিনি অপরাধীর মত মুখ করে বসে রইলেন ।

 রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । পরদিন সকালে , আমাকে নিয়ে আব্বা স্কুলে যাচ্ছেন । আমার মুখ কান্না কান্না । বন্ধুদের বলেছিলাম আজ নতুন ঘড়ি পড়ে যাবো । ঘড়ি তো নেই ।

 ...

মাঝপথে কেক খাওয়াতে নিয়ে আমার স্কুল ব্যাগটা খুলে একটা বক্স বের করলেন আব্বা । বক্সের ভিতর থেকে কার্টুনওয়ালা একটা ঘড়ি আমার হাতে পড়িয়ে দিয়ে হেসে বললেন ,"দেখ তো বাপ , পছন্দ হয় কিনা ?" আমি কেক খাওয়া বাদ দিয়ে খুশীতে চিত্কার দিয়ে উঠলাম ! আমার নতুন ঘড়ি ! 

...

পরে জেনেছিলাম , ঐরাতে আব্বা আবার বেরিয়ে গিয়ে অনেক খুঁজে ঘড়িটা কিনে এনেছিলেন । দোকান পাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুঁজে আনতে প্রচুর কষ্ট হয়েছিল তার । 

...

অতীত থেকে ফিরে এলাম । ডিজিটের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমার চোখেও কিছুটা পরিবর্তন । চোখটা ভেজা ভেজা !!

 বুকে কেমন একটা শূন্যতা । রাতে আব্বা ভাত খাচ্ছেন । আমি আম্মার রুমে গেলাম ।

 -আম্মা ।

 -হু , কিরে ?

 -একটা কথা ।

 -কি ?


আম্মার হাতে আমার হাতঘড়িটা দিলাম । -এইটা আব্বাকে দিও । আমার কথা বইলোনা । আমি আরেকটা কিনে নিবো পরে । আমার থেকে ঘড়ির প্রয়োজন আব্বার বেশী ।

 ...

আমি রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম । আম্মা কিছুটা অবাক ! কিছুক্ষণ পর , আম্মা আব্বাকে বলছে ।

 আমি শুনছি । -নাও ঘড়ি । -কিসের ঘড়ি ? -আমি তোমাকে দিলাম । -তুমি ঘড়ি পাইছ কই ? -ঘড়ি এনে দেয়ার লোকের অভাব আছে ?

 ..

বলে আম্মা হাসতে লাগলেন । ঘড়ি পেয়ে আব্বার কেমন লাগে , সেটা দেখতে পর্দার ফাঁক দিয়ে আব্বার দিকে তাকালাম ।

 টিভির হালকা আলোয় দেখলাম বৃদ্ধ লোকটা ঘড়ির ডায়ালটার দিকে তাকিয়ে আছে । চোখের কোণে কিছু একটার ঝিলিক ! আনন্দ অশ্রু ! আমার মনটা ভরে উঠলো । এত অল্পতে মানুষ খুশী হয় ?!

 ..

একটা সত্য উপলব্ধি হলো । শেষ বয়সে বাবা মায়ের শখ আহ্লাদ বলতে তেমন কিছু থাকেনা । একটি ঘড়ি , কয় টাকা আর

 সেটার দাম ? কিন্তু পরিবার থেকেই প্রাপ্তিটাই শেষ বয়সে তাদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ্য । তাদের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চেষ্টাগুলোই আমাদের সন্তানের জন্য পূণ্যের অবলম্বন ।

"ঘড়িটা দাও তো ।" সকালে অফিসের জন্য তৈরী হতে হতে আম্মাকে বললেন আব্বা ।

আম্মা ঘড়িটা এগিয়ে দিলেন ।"তোমার ঘড়ি তো চলেনা , থেমে আছে ।" আব্বা কিছু বললো না । ঘড়িটা পড়ে দরজা খুলে অফিসে জন্য চলে গেলেন ।

..

সন্ধ্যা বেলা । বাসায় বসে টিভি দেখছি । আম্মা চা নিয়ে এলেন আমার জন্য । "কয়টা বাজে রে ?" বলে আমার রুমের

ডিজিটাল দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকালেন ।

..

"জানিস তোর আব্বার ঘড়ি নষ্ট । একটা নতুন ঘড়ি কিনতে বললাম , কিছু বলেনা । নষ্ট ঘড়ি পড়ে কেউ অফিস যায় ?"

আমি চুপ করে চা খেতে লাগলাম । আম্মা কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে গেলো ।

..

আমার দেয়াল ঘড়িটার দিকে তাকালাম । লাল ডিজিটের পরিবর্তনে দিকে তাকিয়ে কিছুটা অতীতের ফিরে আসা হলো মনে...

ক্লাস টু তে পড়ি তখন । সবাই কার্টুন ওয়ালা কালারফুল ঘড়ি পড়ে স্কুলে যায় । আমার নাই । স্কুল থেকে ফিরে সন্ধ্যায়

আব্বাকে বললাম "আব্বু , আমার জন্য একটা ঘড়ি আনবা , ঠিক আছে ? কার্টুন ওয়ালা ।" "আচ্ছা এনে দিবো কালকে ।" আব্বার আশ্বাস ।

...

পরদিন স্কুল থেকে বাসায় এসে ছটফট করছি আব্বা কখন আসবে ! নতুন ঘড়ি পড়বো , কি মজা ! আব্বা এলেন , কিন্তু ঘড়ি আনেননি । ভূলে গেছিলেন । আমি কান্নাকাটি শুরু করলাম

আমাকে বললেন কাল যেভাবেই হোক কিনে আনবেন । আমি শুনছিলাম না । তিনি অপরাধীর মত মুখ করে বসে রইলেন ।

রাতে না খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম । পরদিন সকালে , আমাকে নিয়ে আব্বা স্কুলে যাচ্ছেন । আমার মুখ কান্না কান্না । বন্ধুদের বলেছিলাম আজ নতুন ঘড়ি পড়ে যাবো । ঘড়ি তো নেই ।

...

মাঝপথে কেক খাওয়াতে নিয়ে আমার স্কুল ব্যাগটা খুলে একটা বক্স বের করলেন আব্বা । বক্সের ভিতর থেকে কার্টুনওয়ালা একটা ঘড়ি আমার হাতে পড়িয়ে দিয়ে হেসে বললেন ,"দেখ তো বাপ , পছন্দ হয় কিনা ?" আমি কেক খাওয়া বাদ দিয়ে খুশীতে চিত্কার দিয়ে উঠলাম ! আমার নতুন ঘড়ি !

...

পরে জেনেছিলাম , ঐরাতে আব্বা আবার বেরিয়ে গিয়ে অনেক খুঁজে ঘড়িটা কিনে এনেছিলেন । দোকান পাট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খুঁজে আনতে প্রচুর কষ্ট হয়েছিল তার ।

...

অতীত থেকে ফিরে এলাম । ডিজিটের পরিবর্তনের সাথে সাথে আমার চোখেও কিছুটা পরিবর্তন । চোখটা ভেজা ভেজা !!

বুকে কেমন একটা শূন্যতা । রাতে আব্বা ভাত খাচ্ছেন । আমি আম্মার রুমে গেলাম ।

-আম্মা ।

-হু , কিরে ?

-একটা কথা ।

-কি ?

আম্মার হাতে আমার হাতঘড়িটা দিলাম । -এইটা আব্বাকে দিও । আমার কথা বইলোনা । আমি আরেকটা কিনে নিবো পরে । আমার থেকে ঘড়ির প্রয়োজন আব্বার বেশী ।

...

আমি রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম । আম্মা কিছুটা অবাক ! কিছুক্ষণ পর , আম্মা আব্বাকে বলছে ।

আমি শুনছি । -নাও ঘড়ি । -কিসের ঘড়ি ? -আমি তোমাকে দিলাম । -তুমি ঘড়ি পাইছ কই ? -ঘড়ি এনে দেয়ার লোকের অভাব আছে ?

..

বলে আম্মা হাসতে লাগলেন । ঘড়ি পেয়ে আব্বার কেমন লাগে , সেটা দেখতে পর্দার ফাঁক দিয়ে আব্বার দিকে তাকালাম ।

টিভির হালকা আলোয় দেখলাম বৃদ্ধ লোকটা ঘড়ির ডায়ালটার দিকে তাকিয়ে আছে । চোখের কোণে কিছু একটার ঝিলিক ! আনন্দ অশ্রু ! আমার মনটা ভরে উঠলো । এত অল্পতে মানুষ খুশী হয় ?!

..

একটা সত্য উপলব্ধি হলো । শেষ বয়সে বাবা মায়ের শখ আহ্লাদ বলতে তেমন কিছু থাকেনা । একটি ঘড়ি , কয় টাকা আর

সেটার দাম ? কিন্তু পরিবার থেকেই প্রাপ্তিটাই শেষ বয়সে তাদের জন্য আনন্দের উপলক্ষ্য । তাদের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র চেষ্টাগুলোই আমাদের সন্তানের জন্য পূণ্যের অবলম্বন ।

Categories: Brief Stories, Part -1

Post a Comment

Oops!

Oops, you forgot something.

Oops!

The words you entered did not match the given text. Please try again.

Already a member? Sign In

0 Comments

Oops! This site has expired.

If you are the site owner, please renew your premium subscription or contact support.