Nipun Services
  Toronto, Ontario, Canada
  A  House of  Quality & Trust

  Nipun  Services

  Provide accurate services

News and Views Post New Entry

Abu Sayeed Ahamed

Posted by Nipunservices on November 13, 2014 at 9:50 AM Comments comments (0)

এইচ টি ইমাম সাহেব ছাত্রলীগ কর্মীদের লিখিত বিসিএস পরীক্ষা দিয়ে ভাইবা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকার কথা বলায় আপনারা এত সমালোচনা করছেন!! কিন্তু লিখিত পরীক্ষা থেকে ভাইবা পর্যন্ত কাজে গতিশীলতা আনার জন্য প্রযোজ্য স্পীড মানির ব্যাপরটা যে উনি বেমালুম চেপে গেলেন তার প্রশংশা করতে পারছেন না!! ধিক্কার দিচ্ছি, আপনাদের তীব্র ধিক্কার দিচ্ছি।

Khomenee Ehsan

Posted by Nipunservices on October 28, 2014 at 4:20 PM Comments comments (0)

 

 .

ইসলামপন্থা, সেক্যুলারিজম, আঁতাত মুর্দাবাদ

কাল মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায় দেবে অান্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেক্যুলার পরাধীন ট্রাইব্যুনাল কী রায় দেবে জানি না। তবে আমি ভাবি ইসলামের কথা।

খন্দক যুদ্ধের পরে যে বিচার হলো, তাতে ইহুদিদের একটি সম্প্রদায়ের ৪০০ জনকে হত্যা করা হয়েছিল। তারা কিন্তু কাউকে হত্যা করেনি, কিন্তু বেঈমানীর দায়ে তাদের সব পুরুষকে হত্যা করেছিলেন নবীজীর (সা.) সাহাবীরা (রা.)।

জামাতের লোকেরা শোকরিয়া আদায় করতে পারেন যে বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম নাই, যদি থাকতো তাহলে মুক্তিযুদ্ধের পরই তাদের সবাই নিহত হতেন এবং তাদের নারীরা দাসীতে পরিণত হতেন।সেক্যুলাররাও শোকরিয়া আদায় করতে পারেন যে বাংলাদেশে ইসলাম কায়েম নাই, যদি থাকতো যুদ্ধাপরাধ নিয়ে তারা ব্যবসা করতে পারতেন না।

ইসলাম কায়েম থাকলে যুক্তি ও চেতনার দ্বন্দ্ব কাজ করে না, তখন বিচারটা হতো এই জায়গা থেকে যে কোনো কমিউনিটির উপর আক্রমণকারী শত্রুদের সাথে আঁতাত ও চক্রান্ত করার একমাত্র শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

হয়তো ইসলামের বিধানে সবার অসুবিধা তাই ইসলামপন্থী ও সেক্যুলারদের কেউই কোনো দিনই বলেনি ১৯৭১ এ নিহতদের ৯৫ ভাগই মোসলমান, তাই বিচার হতে হবে ইসলামের বিধান অনুযায়ী।

ইনসাফ একমাত্র ইসলামই কায়েম করতে পাের, সেটা এখানে না হলে আখেরাতে হবে, তাই ট্রাইব্যুনালকে আমি পাত্তা দেই না।

 


Liaquat Ali Former MP

Posted by Nipunservices on October 13, 2014 at 8:55 AM Comments comments (0)

পরিবারতন্ত্র ধ্বংস ছাড়া বাংলাদেশের কোন মুক্তি বা গনতনত্র আসবে না - পরিবারতন্ত্র ধংসের জন্য আভ্যন্তরীণ মুক্তিযুদ্ধ জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে ।

.

প্রিয় বাংলাদেশ কোন পথের যাত্রী তুমি?

----------------- লিয়াকত আলী, প্রাক্তন সংসদ সদস্য।

× গনতনত্র

× সমাজতনত্র

× ধর্ম নিরাপক্ষতা

× জাতীয়তাবাদ

.

বাংলাদেশের প্রথম পবিত্র সংবিধান, এই চার মূলনীতির স্তম্ভের উপর রচিত। এবং চার নীতির উপর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত।

.

১৯৭৫ সালে ১৫ই আগষ্টের জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এই পবিত্র চার স্তম্ভকে কেড়ে নিয়ে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানের মত একটি ধর্মান্ধ মৌলবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চেয়েছিল। এই চক্র বছরের পর বছর চেষ্ঠা প্রচেষ্ঠা ষড়যন্ত্র কূট কৌশল গ্রহন করেও তাহাদের আশা পূর্ণ করতে পারনি।

আজ জাতির জনক সিংহ পুরুষ বঙ্গবন্ধু দল আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হসিনার হাতেই একে একে চার নীতিকে কবরস্থ করে দেওয়া হল।

.

১) ৫ই অক্টোবরের এক পক্ষ, সত্যিকারে বিরোধী দল বিহীন, ভোটার বিহীন, সংসদীয় গনতন্ত্রের ইতিহাসে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৫ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হওয়ার, নজিরহীন ঘটনা, দেশের রাষ্ট্রপতি, প্রথানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সাংবিধানিক দ্য়ায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গের ভোট দিতে না গিয়ে সাংবিধানকে অবজ্ঞা অবহেলা তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার নজীরের মধ্য দিয়ে গনতন্ত্রের দাফন সম্পন্ন করে দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশের কোন সচেতন মানুষ বিশ্বাস করে না, জনগণের ভোটে নির্বাচিত, জনপ্রতিনিধিত্বকারী কোন সরকার দেশ শাসন করছে। এবং সত্যিকারের কোন বিরোধিদল সংসদে জনগণের কথা বলছে। সরকার, বিরোধিদল দু'টোই ভুয়া।

.

২) চোর বাটপার লুটেরা চোরাকারবারী দলীয় তস্করদের হাতে দেশের পুরা অর্থনীতি এবং সমূদর অর্থ ভান্ডারকে তুলে দিয়ে সমাজতন্ত্রকে সমাধিস্থ করে দেওয়া। নীতি আদর্শ সমতা সততা, জনগনের স্বার্থ, জনগণে অধিকার, অংশদারীত্ব আজকের অর্থনীতিতে নাই। সমাজতন্ত্র এখন যাদুঘরের ফ্লোর নিদ্রামগ্ন। আওয়ামী লীগ তার উপর ঘুম পাড়ানির গান শুনাচ্ছে। এবং হাতে লাঠি নিয়ে শিয়রে বসে আছে, ঘুম থেকে উটতে চাইলে, এক বাড়িতে আবার পুতে দেবে আওয়ামী লীগে হাসিনা।

.

৩) মৌলবাদী, ধর্ম ব্যবসায়ী, অপধর্মের ধ্বজাধারীদের কাছে নতজানু হয়ে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চিন্তার স্বাধীনতা, ধর্ম পালন, না পালনের স্বাধীনতা উপর জবরদস্তি করার মাধ্যমে, ধর্ম নিরেপক্ষতাকে জলাঞ্জলি দেওয়া।

৪) বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের কোন কথা, কোন প্রচার, চেতনা প্রচারের কোন চিহ্ন এখন আর খুঁজে পাওয়া যায় না দেশের প্রধানমন্ত্রী কালোপট্রি মাথায় বেঁধে, সব মথায় করে নিয়ে গিয়ে সৌদি বাদশার পদচরণে উৎস্বর্গ করে এসেছেন সেই ১৯৯৬ সালে, তারপর থেকে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের দর্শনের কথা বঙ্গবন্ধুর আওয়াম লীগের কোন সভা সমিতি সেমিনার, জনসভা কাউন্সিলের শোনা যায় না, পোষ্টার ফেস্টুন ব্যানার দেওয়াল লিখনে আর দেখা যায় না। এখন অঘোষিত ধর্মীয় বিকৃত জাতীয়তাদের জোয়ার বহিতে শুরু হয়ে গেছে।

Kh. Alam

Posted by Nipunservices on September 11, 2014 at 9:30 AM Comments comments (0)

হরতাল অভিশাপমুক্ত বাংলাদেশ চাই, দুরনিতিমুক্ত পুলিশ চাই।

.

জনগণ চাইলে আইন করে হরতাল বন্ধ করা যেতে পারে - শেখ হাসিনা

.

ভারতে রাজনৈতিক কর্মসূচী হিসেবে হরতাল নয়, বন্ধ্ পালন করা হয়। তাও বছরে দুই-একবারের বেশি নয়। জনগণকে জোর করে বন্ধ্ পালনে বাধ্য করা হলে আইনের আশ্রয় নেয়ার সুযোগ রয়েছে দেশটির সাধারণ মানুষের। তবে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয় সামনে এলে কখনও কখনও বন্ধ্ আহ্বান করা হয়। সার্কভুক্ত নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ভয়াবহ রাজনৈতিক কোন্দল থাকলেও সেখানে বড় কোন ইস্যু ছাড়া হরতালের মতো কর্মসূচী দেয়া হয় না। এছাড়া চীন, জাপান, থাইল্যান্ড ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে হরতাল পালনের খবর পাওয়া যায় না। আর আমেরিকা, যুক্তরাজ্যও ইউরোপের রাজনৈতিক কর্মসূচী হয় শান্তিপূর্ণ উপায়ে। মানববন্ধন এবং সর্বোচ্চ বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।

.

জনগণ আবার চায় নায় কবে? আমি তো মনে করি কোন দলই চায় না এটা বন্ধ হোক। হরাতাল বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অভিশাপ, এই অভিশাপ থেকে জাতি মুক্তি চায়। সমস্থ হরতালের জন্য বাংলাদেশ কতো বছর পিছিয়েছে তা আজ হিসাব করা দরকার এবং এর ক্ষতিপূরণ আদায়ের বেবস্থা করা জরুরি।

 

Alam

Posted by Nipunservices on September 9, 2014 at 1:35 PM Comments comments (0)

নিরপেক্ষ চিন্তা করার জন্য বিশাল মন ও জ্ঞান দরকার। আর এটা সম্ভব হয় না অনেক গুণী মানুষের পক্ষেও। ফলে সৎ জ্ঞানী মানুষ সাধারণত অভাবী হয়, কিন্তু সুখে থাকে। এরা তখন নিরবে কাজ করে সমাজের ভারসাম্য রক্ষা করে। এরাই সমাজের আলো।

Asit Roy

Posted by Nipunservices on September 9, 2014 at 1:30 PM Comments comments (0)

জনসংখ্যা ষোলো কোটি বা আরও যদি বৃদ্ধি পায়, তাতে করে সমস্যা হয়ত সমান থাকবে বা জটিলতর হবে। নির্ভর করছে, ঐ ষোলো কোটির মধ্যে চিন্তাশক্তি-সম্পন্ন মানুষের অনুপাত কত? গরু-মস্তিষ্ক-সম্পন্ন হয়ে ভালো মানুষ বা উদার হলেও, দেশের ততটা মঙ্গল হবে না। মঙ্গল তাঁরাই করে থাকে, যারা প্রথমে নিজের মঙ্গল করতে জানে। তখনই অপরের জন্য মঙ্গল সাধনের চেষ্টাতে, অপরে উপকৃত হয়ে থাকে। মঙ্গল করার নামই হচ্ছে, নিজের চিন্তাশক্তিকে কাজে লাগানো। সমস্যার অভ্যন্তরে প্রয়োগ করা। যা ছাগলের চিকিৎসার জন্য, গরুটি করতে পারে নি। মানুষ চিন্তা করতে শিখুক, নিজের মস্তিষ্কে, নিজের চোখে দেখুক। চিন্তা করা একটি উঁচু দরের আর্ট!!

Kh. Alam

Posted by Nipunservices on September 5, 2014 at 9:45 AM Comments comments (0)

বাংলাদেশের ভাগ্য 

লুঙ্গী পরা বাঙ্গালীর মাঝে মুক্তিযোদ্ধার সময় কোট পঢ়া মানুষরা প্রভু ছিল, তারা তখন  যেভাবে চাইছে তাই হইছে । পরবরতিতে কোট ছেড়ে গেঞ্জি দিয়ে মানুষের সাথে মিশে প্রভুত্তের ধরন পরিবর্তন করা হল। কিন্তু দেশের বা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হল না।

.

বাংলাদেশের ভাগ্য

.

লুঙ্গী পরা বাঙ্গালীর মাঝে মুক্তিযোদ্ধার সময় কোট পঢ়া মানুষরা প্রভু ছিল, তারা তখন যেভাবে চাইছে তাই হইছে । পরবরতিতে কোট ছেড়ে গেঞ্জি দিয়ে মানুষের সাথে মিশে প্রভুত্তের ধরন পরিবর্তন করা হল। কিন্তু দেশের বা মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হল না।

 

Dr. Tuhin Malik

Posted by Nipunservices on June 27, 2014 at 8:45 AM Comments comments (0)

 

.

আজ সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসীদের পক্ষে কথা বলছে,তাই তাকে মানুষ শাড়ি পড়া “গডফাদার”বলে।।

.

- এই সরকারের অবস্থা আকাশে উড়তে থাকা শকুনের মতন,সব সময় নিচে চোখ দিয়ে রাখে কখন একটি মরা গরু দেখতে পাবে সেই আশায়।।

.

- এখন চা দোকানে গিয়ে দশ জন মানুষের কথা শুনলে,সেখানে এক জনকে পাওয়া যায় না আওয়ামীলীগের পক্ষে কথা বলতে।।

.

- উরুগুয়ের প্লেয়ার সুয়ারেজ কে ৯ ম্যাচ নিষিদ্ব করা হয় একজন প্লেয়ার কে কামড় দেয়ার জন্যে,আর আমাদের দেশের ৭ জন মানুষ খুন করে সেই খুনি থাকে বহাল তবিয়তে।।

.

- আমরা যারা টকশোতে কথা বলি কোন পক্ষের হয়ে বা কোন মতাদর্শের হয়ে বলি না,আমরা দেশের হয়ে কথা বলি,কিন্তু কিছু দালাল আছে সীমান্তের ঐ পাঁড়ের টাকা খেয়ে,সরকারের টাকা খেয়ে,অবৈধ কে বৈধ বানাতে চায়,।

Ami Bangalee

Posted by Nipunservices on June 23, 2014 at 9:00 AM Comments comments (0)

 

ওরা ২ জন মরবে না, তারা ২জনে মিলে দেশের ১৬কোটি মানুষকে মেরে ছাড়বে। আমরা আমেরিকার শিখানো গনতন্ত্রের কথা বলি। আমেরিকায় কি ২ টার্মের বেশী কেউ রাষ্ট্রক্ষমতায় থাকতে পারে? তাহলে আমাদের নেতা-নেত্রীরা সারাজীবন রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার বিরুদ্ধে আইন হবে না কেন?

 

 

Asif Nazrul

Posted by Nipunservices on June 22, 2014 at 3:15 PM Comments comments (0)

.

নারায়ণগঞ্জের নতুন যুদ্ধ

 

নারায়ণগঞ্জে জন্ম নিয়েছেন ওসমান ভ্রাতৃবৃন্দ, যাঁরা জনগণের কাছে ত্রাস নামে পরিচিত।এই নারায়ণগঞ্জেই জন্ম নিয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী আর এস এম আকরামের মতো পরিশীলিত রাজনীতিবিদ। ২০১১ সালের মেয়র নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের মানুষ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বিপুলভাবে বিজয়ী করেছিল সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। ২০১৪ সালে সংসদ উপনির্বাচনে তাদের সামনে আরেকটি সুযোগ এসেছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এস এম আকরামকে বেছে নেওয়ার। এই উপনির্বাচনের মাহাত্ম্য এখানেই।

.

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দেশে আরও কিছু উপনির্বাচন হয়েছে। মূল নির্বাচনের মতো সেই সব উপনির্বাচন নিয়েও মানুষের কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ২৬ জুনের উপনির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শুধু নয়, সারা দেশের মানুষ আগ্রহী হয়েছে একে একটি প্রতীকী যুদ্ধ হিসেবে দেখে। এই যুদ্ধ শুধু সন্ত্রাসী রাজনীতির সঙ্গে সুস্থ ধারার যুদ্ধ নয়; এটি সন্ত্রাসী রাজনীতির প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে মানুষের শুভবুদ্ধির প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এটি নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের শৌর্য আর সাহসিকতারও পরীক্ষা। প্রশাসন আর নির্বাচন কমিশনকে তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালনে বাধ্য করতে পারে তারাই। তা না করা গেলে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা, বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সমাজে বিরাজমান প্রশ্নগুলো আরও দৃঢ়তর হয়ে উঠবে।

নারায়ণগঞ্জের নতুন যুদ্ধ

নারায়ণগঞ্জে জন্ম নিয়েছেন ওসমান ভ্রাতৃবৃন্দ, যাঁরা জনগণের কাছে ত্রাস নামে পরিচিত।এই নারায়ণগঞ্জেই জন্ম নিয়েছেন সেলিনা হায়াৎ আইভী আর এস এম আকরামের মতো পরিশীলিত রাজনীতিবিদ। ২০১১ সালের মেয়র নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জের মানুষ শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে বিপুলভাবে বিজয়ী করেছিল সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। ২০১৪ সালে সংসদ উপনির্বাচনে তাদের সামনে আরেকটি সুযোগ এসেছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এস এম আকরামকে বেছে নেওয়ার। এই উপনির্বাচনের মাহাত্ম্য এখানেই।

.

৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনের পর দেশে আরও কিছু উপনির্বাচন হয়েছে। মূল নির্বাচনের মতো সেই সব উপনির্বাচন নিয়েও মানুষের কোনো আগ্রহ ছিল না। কিন্তু ২৬ জুনের উপনির্বাচন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ শুধু নয়, সারা দেশের মানুষ আগ্রহী হয়েছে একে একটি প্রতীকী যুদ্ধ হিসেবে দেখে। এই যুদ্ধ শুধু সন্ত্রাসী রাজনীতির সঙ্গে সুস্থ ধারার যুদ্ধ নয়; এটি সন্ত্রাসী রাজনীতির প্রতি সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার বিরুদ্ধে মানুষের শুভবুদ্ধির প্রতিদ্বন্দ্বিতা। এটি নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের আশঙ্কার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের শৌর্য আর সাহসিকতারও পরীক্ষা। প্রশাসন আর নির্বাচন কমিশনকে তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালনে বাধ্য করতে পারে তারাই। তা না করা গেলে এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র, নির্বাচনী ব্যবস্থা, বর্তমান সরকারের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সমাজে বিরাজমান প্রশ্নগুলো আরও দৃঢ়তর হয়ে উঠবে।

.

নারায়ণগঞ্জ তাই নতুন বিতর্ক বা নতুন সম্ভাবনার জন্ম দিতে পারে ২৬ জুনের নির্বাচনের পর।

.

২.

নারায়ণগঞ্জ নানা কারণেই এ দেশে আলোচিত একটি স্থান। নারায়ণগঞ্জের সুনাম ছিল শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নগর হিসেবে। সেই সুনাম ছাপিয়ে নারায়ণগঞ্জ সন্ত্রাস আর চাঁদাবাজির জায়গা হিসেবে কুখ্যাতি পেয়েছে গত কয়েক বছরে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ পাশবিক ও নিন্দনীয় ঘটনার জন্য ব্যাপকভাবে অভিযুক্ত হয়েছেন ওসমান পরিবারের সন্তানেরা।

.

শামীম ওসমানের কথাবার্তা শুনে কখনো মনে হয়নি যে এসব অভিযোগের আদৌ কোনো পরোয়া করেন তিনি। পরোয়া করার হয়তো কারণও নেই কোনো। নারায়ণগঞ্জে সাম্প্রতিক সাত খুনের প্রধান আসামি নূর হোসেনের ভারতে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে নানাভাবে। তাঁকে এ জন্য গ্রেপ্তার দূরের কথা, কোনো জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন হতেও হয়নি। আগেও সন্ত্রাসের বহু ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল, জোরালো মামলাও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। তবু তিনি ২০১১ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন পেয়েছিলেন। এবার সাত খুনের ঘটনায় তিনি সারা দেশে ধিক্কৃত হওয়ার পরও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী ওসমান পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এ ঘোষণার পর সাত খুন বা অন্য কোনো অভিযোগে তাঁর পরিবারের সদস্যদের টিকিটি স্পর্শ করার সাহস পাবে না পুলিশ বা প্রশাসন। শামীম ওসমানদের তাই এই সরকারের আমলে ভীত বা সংযত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

.

ওসমান পরিবারের ছোট ছেলে সেলিম ওসমান নির্বাচন করছেন মূলত শামীম ওসমানের শক্তিতেই। শামীম ওসমান মানে স্থানীয় পুলিশ ও জনপ্রশাসনও। ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে

.

তাঁর প্রতি পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এসেছে। সর্বশেষ ত্বকী মঞ্চের নেতাদের ওপর সেলিমের সমর্থকদের হামলার ঘটনায় পুলিশের প্রশ্রয় ছিল, পুলিশের কাছে এ নিয়ে তাই অভিযোগ করার ভারসা পাননি আক্রান্ত ব্যক্তিরা৷ এ ধরনের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনও কোনো ভূমিকা নেয়নি।

.

২৬ জুনের নির্বাচনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সব হুমকি থেকে ভোটারদের রক্ষা করে তাঁদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং তাঁদের ভোট ঠিকমতো গণনা হচ্ছে, এটি নিশ্চিত করা। এসব কাজ করা গেলে এই নির্বাচনে এস এম আকরামের পরাজয়ের কোনো কারণ নেই। আইভীর নির্বাচনে তাঁর পক্ষে দাঁড়িয়ে তিনি আগেই নৈতিকভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তখনকার সময়ের চেয়ে নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। সাত খুনের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ মানুষের তাই এই নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে শক্তি হিসেবে আকরামকে সর্বতোভাবে সমর্থন করার কথা।

.

খুন, গুম, চাঁদাবাজি আর দুর্নীতিতে অতিষ্ঠ নারায়ণগঞ্জের জনপদে আকরামের মতো পরিষ্কার ইমেজের মানুষের গ্রহণযোগ্যতা আগে থেকেই ছিল। তিনি আগেও জনপ্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতি বা সন্ত্রাসের অভিযোগ কখনো উচ্চারিত হয়নি। এমনকি বিরোধী দলের পক্ষ থেকেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তাঁকে অনৈতিকভাবে হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে এই নির্বাচনে পরাজিত হবে আসলে সরকার, আওয়ামী লীগ ও সুস্থধারার রাজনীতি।

.

৩.

উপনির্বাচনে এস এম আকরাম বিজয়ী হলে তা হবে মানুষের স্বাধীন ও সুশীল সত্তার জয়। আকরামের বিজয়ের পথে সন্ত্রাস বা প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রতিবন্ধক না হয়ে দাঁড়ালে তা হবে নারায়ণগঞ্জের গাঢ় অন্ধকারে নতুন আলোর রেখা। এক অর্থে সরকারের জন্যও তা হবে ইতিবাচক। কারণ, ওসমান পরিবারের পাশে থাকা মানে তাদের যেকোনো তাণ্ডবে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া নয়, এই বার্তা মানুষকে দিতে হবে। সরকারের স্বার্থেই এই বার্তা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর সরকার বলার চেষ্টা করেছে যে বিরোধী দল আসেনি বলেই সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। সরকারের এই দাবি ম্রিয়মাণ হয়ে গেছে পরের উপজেলা নির্বাচনগুলোয় ব্যাপক, বেপরোয়া ও বেসামাল কারচুপির মধ্য দিয়ে। এখন ২৬ জানুয়ারির নির্বাচনে কারচুপি হলে বিএনপির ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত আরও বেশি করে গ্রহণযোগ্যতা পাবে।

.

এই নির্বাচনে আকরাম বিজয়ী হলে নারায়ণগঞ্জকেন্দ্রিক রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা পুনর্মূল্যায়নের নতুন তাগিদ সৃষ্টি হবে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো নারায়ণগঞ্জের সমাজজীবন ও রাজনীতিতেও সন্ত্রাসের আধিপত্য সৃষ্টি হয়েছে, এসব অঞ্চলে গডফাদার হিসেবে পরিচিত লোকদের নির্বাচনে মনোনয়ন দেওয়া, সব অপরাধের দায় থেকে তাদের মুক্ত রাখা এবং প্রকাশ্যে তাদের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করার মাধ্যমে। নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের এই বার্তা দেওয়া আবারও প্রয়োজন হয়ে পড়েছে যে মানুষ সন্ত্রাস এবং এর প্রতি রাষ্ট্রের সমর্থন কতটা অপছন্দ করে। আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির পছন্দের প্রার্থীর বিরুদ্ধে নাগরিক ঐক্য নামের অরাজনৈতিক একটি নতুন সংগঠনের প্রার্থী আকরামকে বিজয়ী করার মধ্য দিয়ে এই বার্তা দেওয়া সম্ভব।

.

এই বার্তা নারায়ণগঞ্জের মানুষকে দিতে দেওয়া হবে কি? এই বার্তা দেওয়া সম্ভব হলে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব তা বিবেচনায় নিয়ে তাঁর শুভবুদ্ধির পরিচয় দিতে পারবেন কি? ওসমান, হাজারী, বদি, ইলিয়াস মোল্লাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার সর্বনাশা রাজনীতি থেকে এরপর নিজেদের দূরে রাখার চেষ্টা করবেন কি?

.

সরকারকে এর আগে মানুষ বিভিন্নভাবে বার্তা দিয়েছে। যেমন মেয়র নির্বাচনে সরকারি দলের বিপক্ষে ভোট দিয়ে, সংসদ নির্বাচন বর্জন করে, উপজেলা নির্বাচনে বিরোধী দলের পক্ষে দাঁড়িয়ে। সরকার জনগণের বার্তা পড়তে পারেনি, পড়তে চায়নি। এসব যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে নারায়ণগঞ্জে নাগরিক সমাজ আর গণমাধ্যমের উপস্থিতি থাকবে ব্যাপক এবং গভীরতর। সাত খুনের ঘটনার পর এই নির্বাচনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজেরও নজর থাকবে।

.

আত্মহননের নেশায় বিবেকবুদ্ধিহীন না হয়ে পড়লে সরকারের উচিত নারায়ণগঞ্জের নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে হতে দেওয়া। বহু বছর ধরে বঞ্চিত, শঙ্কিত ও শৃঙ্খলিত নারায়ণগঞ্জের মানুষ অন্তত এটুকু দাবি করতেই পারে।

.

আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Shorab Hasan

Posted by Nipunservices on June 21, 2014 at 6:35 PM Comments comments (0)

নারায়ণগঞ্জে কে জিতবে—শান্তি না সন্ত্রাস?

 .

গুম-খুনের জনপদ নারায়ণগঞ্জে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রহিত হয়নি, তার প্রমাণ গত শুক্রবার সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা। ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ২৬ জুনের উপনির্বাচনে নিজেদের বক্তব্য লিফলেট আকারে প্রচার করছিলেন। সেই লিফলেট প্রচার যদি নির্বাচনী আচরণিবধি লঙ্ঘন করে থাকে, সেটি দেখবেন িনর্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। আর কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকেরা যদি মনে করেন, এই লিফলেট প্রচারের মাধ্যমে তাঁদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে লিফলেট প্রচারকারীদের ওপর হামলে পড়ার কী কারণ থাকতে পারে? আরও উদ্বেগজনক হলো, এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব কি হামলাকারীদের উসকানি দেওয়া, না আক্রান্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো?

 .

এখন দেখা যাক, সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীদের লিফলেটে কী ছিল? লিফলেটে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে িক তাঁরা কোনো বক্তব্য রেখেছেন? না। লিফলেটে লেখা ছিল: ‘তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর সকল হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। ভোট আপনার পবিত্র

.

আমানত। আপনার সন্তান ও শিশুদের কথা ভেবে অন্তত খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না।’

এই লিফলেটে কোনো প্রার্থীর নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ‘খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না।’ এখন যারা হামলা করেছে, তারা কি নিজেরাই সেই খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের দায় স্বীকার করে নিল না?

.

আমরা ধারণা করেছিলাম, সাত খুনের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জে আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটবে না। গডফাদার-মাস্তানদের উৎপাত চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনা প্রমাণ করল, কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। কুকুরের লেজ যতই সোজা করা হোক না কেন, সুযোগ পেলেই সে লেজ বাঁকা করবেই।

নারায়ণগঞ্জে কে জিতবে—শান্তি না সন্ত্রাস?

.

গুম-খুনের জনপদ নারায়ণগঞ্জে যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রহিত হয়নি, তার প্রমাণ গত শুক্রবার সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীদের ওপর সন্ত্রাসী বাহিনীর হামলা। ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীরা ২৬ জুনের উপনির্বাচনে নিজেদের বক্তব্য লিফলেট আকারে প্রচার করছিলেন। সেই লিফলেট প্রচার যদি নির্বাচনী আচরণিবধি লঙ্ঘন করে থাকে, সেটি দেখবেন িনর্বাচন কমিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। আর কোনো প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকেরা যদি মনে করেন, এই লিফলেট প্রচারের মাধ্যমে তাঁদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, তাঁরা নির্বাচন কমিশনে নালিশ জানাতে পারতেন। কিন্তু তা না করে লিফলেট প্রচারকারীদের ওপর হামলে পড়ার কী কারণ থাকতে পারে? আরও উদ্বেগজনক হলো, এই হামলার ঘটনাটি ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব কি হামলাকারীদের উসকানি দেওয়া, না আক্রান্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানো?

.

এখন দেখা যাক, সন্ত্রাসবিরোধী ত্বকী মঞ্চের নেতা-কর্মীদের লিফলেটে কী ছিল? লিফলেটে কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে িক তাঁরা কোনো বক্তব্য রেখেছেন? না। লিফলেটে লেখা ছিল: ‘তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীর সকল হত্যাকারীর ফাঁসি চাই। ভোট আপনার পবিত্র

.

আমানত। আপনার সন্তান ও শিশুদের কথা ভেবে অন্তত খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না।’

এই লিফলেটে কোনো প্রার্থীর নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে, ‘খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না।’ এখন যারা হামলা করেছে, তারা কি নিজেরাই সেই খুিন ও সন্ত্রাসী পরিবারের দায় স্বীকার করে নিল না?

.

আমরা ধারণা করেছিলাম, সাত খুনের ঘটনার পর নারায়ণগঞ্জে আর কোনো সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটবে না। গডফাদার-মাস্তানদের উৎপাত চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু শুক্রবারের ঘটনা প্রমাণ করল, কয়লা ধুলে ময়লা যায় না। কুকুরের লেজ যতই সোজা করা হোক না কেন, সুযোগ পেলেই সে লেজ বাঁকা করবেই।

.

২.

২৬ জুন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপনির্বাচন। এই নির্বাচনের দুই প্রধান প্রার্থী এস এম আকরাম ও সেলিম ওসমান। এস এম আকরাম ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংসদ ছিলেন। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ছিলেন। ২০১১ সালে নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সমর্থন দিয়ে তাঁকে জিতিয়ে এনেছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি ‘শামীম ওসমানদের সঙ্গে রাজনীতি করা যায় না’ বলে আওয়ামী লীগ থেকে পদত্যাগ করেন। এবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও আওয়ামী লীগের একাংশের সমর্থন িতনি পাবেন। যেমনটি সেলিনা হায়াৎ আইভী পেয়েছিলেন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে৷

.

অন্যদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হলেন প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ শামীম ওসমানের ভাই সেলিম ওসমান। তিনি ব্যবসায়ী ও রাজনীতিতে নবাগত। দুই প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের কাছে নিজেদের হলফনামায় যেসব তথ্য দিয়েছেন, তার প্রতি আমরা একবার আলোকপাত করতে পারি।

.

এস এম আকরাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এমএ পাস করেছেন। তা ছাড়া তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ডিিগ্রও নিয়েছেন৷ নিজের এবং তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস কৃষি খাত থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ১২ লাখ টাকা, বাড়ি-দোকান ভাড়া থেকে তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় দুই লাখ ১৪ হাজার টাকা, শেয়ার-সঞ্চয়পত্র/ব্যাংক আমানত থেকে তাঁর নিজের বার্ষিক আয় তিন লাখ ৩৭ হাজার ৫৪১ টাকা। তাঁর ওপর নির্ভরশীলদের আয় আট লাখ ৫৮ হাজার ৮১৬ টাকা। পরামর্শক হিসেবে তাঁর বার্ষিক আয় ১৯ লাখ ৪৯ হাজার ৬৪ টাকা। চাকিরর পেনশন থেকে বার্ষিক আয় এক লাখ ৯৮ হাজার ২৮২ টাকা।

.

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে আকরামের নিজের নামে নগদ আট লাখ ৩৫ হাজার ৫৫০ টাকা, স্ত্রীর নামে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৪২৫ টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ নিজের নামে এক কোটি ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৯১২ টাকা, স্ত্রীর নামে ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৩৬ টাকা, বন্ড-ঋণপত্র-স্টক এক্সচেঞ্জের কোম্পানির শেয়ার নিজের নামে ছয় লাখ ৩৪ হাজার ২০০, স্ত্রীর নামে ১৪ লাখ ২৬ হাজার ৮০০, পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের

.

সঞ্চয়পত্রে বা স্থায়ী আমানতে বিনিয়োগ নিজের নামে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে এক কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ২৪৪ টাকা, নিজের নামে ১০ লাখ টাকা মূল্যের এবং স্ত্রীর নামে ১৫ লাখ টাকা মূল্যের ব্যক্তিগত গাড়ি রয়েছে।

.

স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষিজমি নিজের নামে ৫০ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে দুই লাখ ৫৫ হাজার টাকার, স্ত্রীর নামে ২৬ লাখ ৬৮ হাজার ৮১২ টাকার দালান, নিজের নামে চা-রাবার বাগান, মৎস্য খামারের মূল্য দুই লাখ ২৫ হাজার টাকা। তাঁর নামে কোনো ব্যাংকঋণ নেই।

.

এস এম আকরাম উল্লেখ করেছেন, ১৯৯৬-২০০১ সময়ে তিনি এই আসনের সাংসদ থাকাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার-উন্নয়ন, গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন করেছিলেন।সেলিম ওসমান উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত ফৌজদাির মামলার কার্যক্রম বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ থানায় দায়েরকৃত তিনটি ফৌজদারি মামলার মধ্যে দুটি রাষ্ট্রের আবেদনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে, একটিতে বেকসুর খালাস পেয়েছেন। ফতুল্লা থানায় দায়ের করা মামলাটিও রাষ্ট্রের আবেদনে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।

.

সেলিম ওসমান তাঁর ব্যবসা উল্লেখ করেছেন উইজডোম অ্যাটায়ার্স লি., উইজডোম ফেব্রিক্স (প্রা.) লি., উইজডোম নিটিং মিলস লি. (নিট পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক, ফাইফ স্টার ফার্ম হাউস লি. ও ফাইফ স্টার ফার্ম হাউস (ডেইরি, কৃষি ও মৎস্য।

.

কৃষি ও মৎস্য খাতে সেলিম ওসমানের নিজের বার্ষিক আয় ২৮ লাখ টাকা, স্ত্রীর ৬৮ লাখ টাকা, বািড়-অ্যাপার্টমেন্ট-দোকান ভাড়া থেকে মেয়ের বার্ষিক আয় তিন লাখ ৪৮ হাজার টাকা। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তিনি বার্ষিক সম্মানী পান ৪৮ লাখ টাকা, স্ত্রী পান ৪২ লাখ টাকা, মেয়ে পান ২৪ লাখ টাকা। শেয়ার-সঞ্চয়পত্র-ব্যাংক আমানতের সুদ থেকে তাঁর বার্ষিক আয় ছয় লাখ ৬০ হাজার ৪৮৬ টাকা, স্ত্রীর আয় ৪১ হাজার ৩১৭ টাকা, মেয়ের আয় ৯৪ হাজার ৯৭ টাকা।

.

অস্থাবর সম্পদের মধ্যে সেলিম ওসমানের নিজের নামে ২৮ মে পর্যন্ত নগদ চার কোটি ১৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭১ টাকা, স্ত্রীর নামে দুই কোটি ৬৮ লাখ ১৯ হাজার ৮৭৫ টাকা, মেয়ের নামে ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৯১০ টাকা রয়েছে।ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত টাকার পরিমাণ ২৮ মে পর্যন্ত নিজের নামে ৫১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৭ টাকা, স্ত্রীর নামে ২৭ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৬ টাকা, মেয়ের নামে পাঁচ লাখ ৮৩ হাজার ৫২১ টাকা।

.

বন্ড, ঋণপত্র, কোম্পািনর শেয়ার নিজের নামে উইজডোম অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে সাড়ে সাত লাখ টাকার শেয়ার, উইজডোম নিটিং মিলস লিমিটেডে দুই লাখ টাকার শেয়ার, উইজডোম ফেব্রিক্স লিমিটেডের ১৯ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। পোস্টাল, সেভিংস সার্টিফিকেটসহ বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র বা স্থায়ী আমানতে নিজের নামে বিনিয়োগ আইএফআইসি ব্যাংকে ৬১ লাখ ৫৯ হাজার ১৮ টাকা, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা, স্ত্রীর নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে আড়াই কোটি টাকা, মেয়ের নামে এক কোটি টাকা। নিজের নামে ৩২ লাখ টাকা মূল্যের িজপগািড়, স্ত্রীর নামে ১২ লাখ টাকা মূল্যের প্রাইভেট কার রয়েছে।

.

অকৃষি জমি ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুরে নিজের নামে ২৬ শতাংশ খালি জমি (মূল্য ১০ লাখ ৬১ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে একই এলাকায় ২৯ শতাংশ খালি জমি (মূল্য ৯৮ লাখ ৫৯ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ফতুল্লার ইসদাইরে ২৭ শতাংশ খালি জমি (মূল্য সাত লাখ টাকা। নগরের উত্তর চাষাঢ়ায় ৯ শতাংশ জমি ওপর সেলিম ওসমানের নামে তিনতলা বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য এক কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা।

ঢাকার ৫৪ নম্বর ইনার সার্কুলার রোডে শেল্টে্ক ১/এ অ্যাপার্টমেন্টটি সেলিম ওসমানের নামে, মূল্য ১৭ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। ধানমন্ডির বাড়ি নম্বর ১/বি, রোড ১৩/১-এ চার হাজার ২৮৬ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট তাঁর স্ত্রীর নামে (মূল্য ৩৯ লাখ অাট হাজার টাকা। ৯৩/বি ধানমন্ডিতে তাঁর মেয়ের নামে দুই হাজার ৬৩৩ বর্গফুটের অ্যাপার্টমেন্ট আছে (মূল্য ৩০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা।

.

৩.

দুই প্রার্থীর এই হলফনামায় স্পষ্ট যে, এস এম আকরাম সরকারি চাকরি ও রাজনৈতিক জীবনে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই৷ তিনি যা করেছেন নিজের মেধা ও পরিশ্রমে৷ আর সেলিম ওসমানের রাজনৈতিক পঁুজি হলো ওসমান পরিবার, যার ইতি-নেতি দুটি দিকই আছে৷ একদা ঐতিহ্যবাহী এই পরিবারটির সুনাম ধ্বংস করেছেন পরিবারের সদস্যরাই৷ নারায়ণগঞ্জের মানুষ মনে করে, সব সন্ত্রাস, মাস্তানি ও চাঁদাবাজির পেছনে ওসমান পরিবারের সম্পৃক্ততা আছে৷ সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নূর হোসেনকে রাজনীতিতে এনেছেন নাসিম ওসমান আর তাঁর হাত শক্তিশালী করেছেন শামীম ওসমান৷ এমনকি সাত খুনের পর যখন পলাতক নূর হোসেন বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শামীম ওসমানের সাহায্য চাইলেন, তিনি তাঁকে পাসপোর্টে সিল আছে কি না, জানতে চাইলেন৷ হ্যাঁ, নূর হোসেনের পাসপোর্টে সিল ছিল এবং তিনি কলকাতায় পালিয়েও গেলেন৷ ঢাকা–নারায়ণগঞ্জ রুটে চাঁদাবাজি করে কারা কোটি কোটি হাতিয়ে নিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে যেকোনো ব্যবসা বা উন্নয়নকাজ করতে হলে কাদের মোটা অঙ্কের সালামি দিতে হয়, তা–ও কারও অজানা নয়৷

.

এখন যে প্রশ্নটি বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, নারায়ণগঞ্জে কি এসব খুন, গুম, চাঁদাবাজি, সালামির ঘটনা ঘটতেই থাকবে, না শান্তি আসবে? নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, নির্ভয়ে ভোট দিতে পারলে তাঁরা শান্তির পক্ষেই রায় দেবেন৷ যেমনটি দিয়েছিলেন ২০১১ সালে সিটি নির্বাচনে৷

.

ইতিমধ্যে এস এম আকরাম সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, প্রতিপক্ষ দ্বারা নির্বাচনী কেন্দ্র ও ভোটের বাক্স দখল হয়ে যেতে পারে। নির্বাচন যাতে সুুষ্ঠুভাবে হয়, কেউ যাতে ভোটকেন্দ্র দখল বা বাক্স ছিনতাই করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরই৷ যদি তাঁরা এই চ্যালেঞ্জটি ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারেন, তাহলে সেখানে শান্তিরই জয় হবে৷ আর যদি না পারেন, সন্ত্রাসই জিতে যাবে, যার প্রাথমিক মহড়া শুক্রবার সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের ওপর হয়ে গেল৷

.

সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।

sohrabo3@dhaka.net

Shahir

Posted by Nipunservices on June 17, 2014 at 10:40 PM Comments comments (0)

Ripon Canada's photo.

Ripon Canada's photo.

.

নজিরবিহীন বর্বরতা

.

যত রকমের নৃশংসতা ও বর্বরতা আছে, এদেশে এখন চলছে তার প্রতিযোগিতা। আজকের নৃশংসতা ও বর্বরতা কালকের নৃশংসতা ও বর্বরতাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গত সোমবার যে লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে তার নজির নেই।

.

প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও ছাত্রশিবিরের নেতা রাসেল আলমের পা গোড়ালি থেকে কেটে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে ছাত্রলীগের কর্মীরা। এখানেই শেষ নয়, চলে যাওয়ার আগে তারা রাসেল আলমের বুকে তিন রাউন্ড গুলীও চালিয়েছে। তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক। আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রগ কাটার কথা শোনা গেছে।

.

বিবদমান ছাত্র সংগঠনের মধ্যে রগ কাটার এই প্রবণতা উদ্বেগ-আতংক ছড়ালেও অঙ্গচ্ছেদ করার বর্বরতা লক্ষ্য করা যায় নি। এই ঘটনায় তারও নজির সৃষ্টি হলো। অতঃপর প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধপরায়ণতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশংকা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশ, সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের সামনেই এই অঙ্গচ্ছেদ ও গুলী চালানোর ঘটনা ঘটে। কারা এর সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগের সেই নেতাকর্মীদের কয়েকজনের নামও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদের কথা বাদ, পুলিশের সামনে কীভাবে চরম বর্বর এই ঘটনা ঘটতে পারলো, তা অবশ্যই একটি বড় প্রশ্ন।

.

আইনশৃংখলা ও নাগরিক নিরাপত্তা বলতে গেলে এখন আর কিছু নেই। গোটা দেশ দুষ্কৃতী, দুর্বৃত্ত, সন্ত্রাসী ও অপরাধীদের অভয় বিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। ক্ষমতাসীন দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসী-ক্যাডাররা দিনকে দিন নৃশংস ও বর্বরোচিত ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দলবাজ কর্মকর্তা ও সদস্যরাও অভাবিত আচরণ ও কর্ম করছে। এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে বিচলিত, শঙ্কিত ও আতংকিত না হওয়ার কোনো কারণ নেই। একটি দেশে যখন সুশাসন থাকে না, ন্যায় ও সুবিচার পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকে না, থাকে না জানমালের নিরাপত্তা, তখন সে দেশের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত না হয়ে পারা যায় না। এভাবে আসলে কোনো দেশ চলতে পারে না।

Manik Sarkar Manik

Posted by Nipunservices on May 29, 2014 at 4:30 PM Comments comments (0)

 

আওয়ামী লীগের মাঝেও জামায়াত-শিবির আছে-এমন কথা বলছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীসহ অনেক মন্ত্রী নেতারাই। তবে কী আমরা কষ্ট-লজ্জা-বেদনার এ বিষয়টাও মেনে নেব ? নাকি আমরা ধরে নেব দেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতেই নিজেদের গা বাঁচাতে সরকার দলীয়দের এমন বক্তব্য ? আর যদি আ,লীগে তারা ঘাপটি মেরে থেকেই থাকে, তবে লজ্জা নিবারণের দায়িত্ব কী পাকিস্তান গোয়েন্দাদের, নাকি এদেশীয় চেৌকেৌশ গোয়েন্দাদের, যারা ২১ এ আগষ্ট গ্রেনেড হামালার রহস্য উদঘাটন করতে পারে না ? যারা পারে না সাগর-রুনি, নারায়নগঞ্জ সাতখুনসহ চাঞ্চল্যকর অনেক রহস্যই উদঘাটন করতে।সবকিছু মিলে লজ্জা আমার, আমি আমার কোন সোনার বাংলায় গর্ব করি ? কিন্তু এ বাংলাতো আমার প্রেম না, আমার ভালবাসা না !

 

Moinul Islam

Posted by Nipunservices on May 11, 2014 at 9:25 AM Comments comments (0)

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন সরকারসহ সাত ব্যক্তিকে অপহরণের কয়েক দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সারা দেশে ক্ষোভ-বিক্ষোভ-প্রতিবাদের ঝড় বয়ে চলেছে। প্রকাশ্য রাজপথে এই অপহরণ চালানো হয়েছিল দিনদুপুরে কমান্ডো স্টাইলে, অনেক প্রত্যক্ষদর্শীর সামনে।

.

অপহৃত ব্যক্তিদের যে যানবাহনগুলোতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার মধ্যে একটির গায়ে নারায়ণগঞ্জে কর্তব্য পালনে নিয়োজিত এলিট ফোর্স র‌্যাব-১১-এর স্টিকার ও সাইনবোর্ড লাগানো ছিল৷ প্রত্যক্ষদর্শীদের অনেকে সেটা স্বচক্ষে দেখেছেন। অপহরণ ঘটনার পরপরই এ জন্য সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নূর হোসেনকে অভিযুক্ত করে নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হলেও প্রায় দুই দিন নূর হোসেন নারায়ণগঞ্জে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নাকের ডগায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়েছেন বলে খবর ছাপা হয়েছে। অথচ, ওই দুই দিন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের বা গ্রেপ্তারের কোনো প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনি কোনো সংস্থাই, যা খুবই রহস্যজনক।

.

জনমনে ধারণা জন্মেছে যে নূর হোসেন গা ঢাকা দেওয়ার পরই তাঁকে ধরপাকড়ের লোক দেখানো তোড়জোড় শুরু করা হয় এবং জনমনে সন্দেহ যে তাঁকে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পরেই এসব নাটকের অবতারণা করা হয়েছে। শুধু নূর হোসেনকে এই সাতজনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের একমাত্র হোতা সাজানো নাটকের মঞ্চায়ন এখন জোরেশোরে এগিয়ে চলেছে। জনমনে সন্দেহটা দৃঢ়মূল হওয়ার প্রধান কারণ হলো, স্থানীয় সাংসদ শামীম ওসমান স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে সরাসরি নূর হোসেনকে হত্যাকাণ্ডের মূল নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে বেশ কিছু কথিত প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। তঁার এ ধরনের পদক্ষেপ নেপথ্যের আসািমদের আড়াল করার অপপ্রয়াস কি না, সেটাও ভেবে দেখার বিষয়৷

.

অথচ, এটা খুবই আশ্চর্যজনক যে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের অবজ্ঞা ও অবহেলার শিকার হয়ে চলেছেন। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে যেন তিনি সহ্যই করতে পারছেন না! গত মেয়র নির্বাচনেই নারায়ণগঞ্জের ভোটাররা শেখ হাসিনাকে ব্যালটের মাধ্যমে তাঁদের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁরা শামীম ওসমানকে নয়, সেলিনা হায়াৎ আইভীকে চান তাঁদের মেয়র হিসেবে। এক লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে শামীম ওসমানকে হারিয়েছিলেন আইভী, শামীম ওসমানকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান সত্ত্বেও। বলা প্রয়োজন, ভোটারদের এই বিপুল প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনে শামীম ওসমানকেই আবার মহাজোটের প্রার্থী করাটা নেতৃত্বের একগুঁয়েমির পরিচায়ক ছিল। কিন্তু, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যাওয়ায় শামীম ওসমানকে দ্বিতীয়বার প্রত্যাখ্যানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন নারায়ণগঞ্জবাসী, সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

.

কিন্তু, এ ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড এবং গুম-খুন-অপহরণের ক্রমবর্ধমান ধারাবাহিকতার অসহনীয় তাণ্ডব চলতে দিলে তা আওয়ামী লীগের পরাজয়কে ত্বরান্বিত করবে, সময় থাকতে এটুকু শেখ হাসিনাকে জানিয়ে দিতে চাই। গডফাদার ও মাস্তান পোষণের রাজনীতি যদি তিনি অব্যাহত রাখেন, তাহলে ১৯৮২ সালের মতো আবারও আরেক সামরিক স্বৈরশাসককে ক্ষমতায় আসার পথটা তিনি মসৃণ করে দেবেন—এতে সন্দেহ করার কারণ আছে কি? ১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করার আবহ সৃষ্টির জন্য তদানীন্তন সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ এরশাদ সুপরিকল্পিতভাবে দেশের নানা জায়গায় আইনশৃঙ্খলার মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি করে চলেছিলেন একের পর এক, এ কথা এখন হয়তো আমরা ভুলে গেছি! ওই রকম এক ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসা থেকে একাধিক খুনের আসামি এক দুর্ধর্ষ মাস্তানকে গ্রেপ্তার করার ঘটনায় সারা দেশে কী মহা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল, সে কথা অনেকের মনে নাও থাকতে পারে। এখন কিন্তু প্রমাণিত হয়ে গেছে যে এ দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর গোপন পরিকল্পনা অনুসারেই ওই ঘটনাগুলো ঘটানো হয়েছিল এরশাদের ক্ষমতা দখলের পথ সুগম করার প্রয়োজনে।

.

এটাও দুঃখজনক যে গডফাদার ও মাস্তান পোষণকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ মনে করে থাকেন। এটা আগেরবারের শাসনামলের মেয়াদেও প্রমাণিত হয়েছিল। ২০০১ সালের নির্বাচনে ফেনীর জয়নাল হাজারী, নারায়ণগঞ্জের শামীম ওসমান ও লক্ষ্মীপুরের আবু তাহেরের মতো দেশের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী-গডফাদাররা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী বিজয়কে সুনিশ্চিত করে দেবে বলে তঁার বিশ্বাস জন্মেছিল।

.

মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগ এ দেশের গণমানুষের কাতার থেকে উঠে আসা দল। তাই, হারানো জনপ্রিয়তা পুনরুদ্ধার করে আরেকটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জয়লাভ করেই আওয়ামী লীগকে তার নৈতিক জনপ্রতিনিধিত্বের দাবিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ধুরন্ধর চাণক্য নীতির প্রতিযোগিতায় জিতে ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে থাকা এবং মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার বর্তমান অস্বস্তিকর অবস্থার আশু অবসান ঘটাতেই হবে, এই গণ-ম্যান্ডেটহীন শাসন আওয়ামী লীগকে মানায় না। কঠিন পরিশ্রমের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করে জনগণের মন জয় করতেই হবে।

Sohrab Hossain

Posted by Nipunservices on May 10, 2014 at 7:35 AM Comments comments (0)

.

নূর হোসেন ছিলেন বাসের হেলপার৷ হেলপার থেকে ধনকুবের হওয়ার নজির বহু অাছে৷ পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি কপর্দকশূন্য অবস্থা থেকে ধনকুবের হয়েছেন৷ প্রশ্ন হলো, নূর হোসেনের ধনী হওয়ার উপায়টা কী ছিল৷ হত্যা, ছিনতাই, মাদক ব্যবসা, বালুমহাল দখল ও নদী দখল থেকে শুরু করে এমন কোনো অপরাধ নেই, যা তিনি করেননি৷ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা কি তঁার এসব অপকর্ম সম্পর্কে কিছুই জানতেন না? প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কেন নীরব ছিল? অভিযোগ আছে, নূর হোসেন যে কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন, তার ভাগ পেয়েছেন সবাই৷ আর এসব কারণেই তিনি সাত খুনের মেতা ঘটনা ঘটাতে পেরেছেন৷ পত্রপত্রিকায় ও টেলিভিশনে তঁার অপকর্মের ফিরিস্তি প্রকাশ ও প্রচারের পরও নারায়ণগঞ্জ ও সিদ্ধিরগঞ্জ আওয়ামী লীগ তঁার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার অর্থ আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে তঁার পাপের বোঝা স্বেচ্ছায় কঁাধে নিয়েছে৷ শোনা যায়, কেবল নারায়ণগঞ্জের আওয়ামী লীগের নেতারা নন, কেন্দ্রীয় অনেক নেতাও তঁার কাছ থেকে মাসোহারা পেতেন৷

.

আগে যেকোনো ঘটনায় আওয়ামী লীগের নেতাদের অতি মাত্রায় সরব দেখা যেত৷ কিন্তু নারায়ণগঞ্জের ঘটনায় আওয়ামী লীগের বাকপটু নেতা-মন্ত্রীরাও নিশ্চুপ৷ এত বড় হত্যাকাণ্ডের পরও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একটি মানববন্ধন বা শোকসভাও করা হয়নি৷ না নারায়ণগঞ্জে, না ঢাকায়৷ তাদের এ নীরবতা কিসের ইঙ্গিত দেয়?

Mohiuddin Ahmed

Posted by Nipunservices on May 8, 2014 at 5:25 PM Comments comments (0)

.

প্রধানমন্ত্রী বলে আসছেন, ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় এসে জেনারেল জিয়াউর রহমান গুম ও খুনের রাজনীতি চালু করেছেন। কথাটা মোটেও সত্য নয়। বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনেক মানুষ নিরুদ্দেশ কিংবা নিহত হয়েছিলেন। অবস্থা এমন চরমে পৌঁছেছিল যে সরকারি পত্রিকা দৈনিক বাংলায় নির্মল সেন একটা উপসম্পাদকীয় লিখে সবার নজর কেড়েছিলেন। এর শিরোনাম ছিল, ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’। এটা ১৯৭৪ সালের ঘটনা। বিএনপি নেতারা প্রায়ই এই শিরোনামটি উল্লেখ করে জনসভা কিংবা সেমিনারে তর্জনী উঁচিয়ে কথা বলেন। তবে স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি তঁারাও দিতে পারেননি। একটি উদাহরণই যথেষ্ট, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং পরবর্তীকালে ‘জজ মিয়া’ চিত্রনাট্যের প্রযোজনা। তাই তঁাদের কথাও সাধারণ নাগরিকেরা খুব একটা গুরুত্বের সঙ্গে নেন না।

.

সাত খুন অবশ্য ঘটল দ্বিতীয়বার। প্রথমবার ঘটেছিল চুয়াত্তরের ২ ও ৩ এপ্রিলের মধ্যবর্তী রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূর্য সেন হল থেকে সাতজন ছাত্রকে ধরে এনে মুহসীন হলের টেলিভিশন কক্ষের সামনে দঁাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। সকালে আমি ওই জায়গায় কয়েক ইঞ্চি পুরু জমাট বঁাধা রক্ত দেখেছিলাম। ওই দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবন চত্বরে সরকার-সমর্থক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম প্রধানের নেতৃত্বে মিছিল হয়েছিল। মিছিলে স্লোগান ছিল ‘হত্যাকারীদের ফঁাসি চাই’। কয়েক দিনের মধ্যেই এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে শফিউল আলম প্রধানসহ ১৫ জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এই হত্যাকাণ্ড ছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের এক অংশের মধ্যে নোংরা দলাদলির প্রতিফলন, যার পেছনে কোনো আদর্শের ছিটেফেঁাটাও ছিল না। ছাত্রলীগের ওপর কর্তৃত্ব রাখাটাই ছিল মুখ্য। বিচারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল। কয়েক বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিক্ষক শফিউল আলম প্রধানের মুক্তি দাবি করে একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। তঁারা ভুলে গিয়েছিলেন, নিহত ব্যক্তিরাও তঁাদের ছাত্র। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সমষ্টিগত নৈতিক স্খলন সম্ভবত তখন থেকেই শুরু। শাস্তির পুরো মেয়াদ না খেটেই তঁারা মুক্ত হন। প্রধান এখন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৯-দলীয় জোটের শরিক এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ‘অতন্দ্র প্রহরী’।

.

১৯৮২ সালে বিচারপতি সাত্তারকে হটিয়ে জেনারেল এরশাদ ক্ষমতা দখল করেছিলেন। এর পটভূমি আমরা জানি। ওই সময় দেশের আইনশৃঙ্খলব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। বিএনপি সরকারের প্রতিমন্ত্রী আবুল কাশেমের সরকারি বাসভবন থেকে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ইমদুকে গ্রেপ্তার করা হলে সাত্তার সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে যায়। এরশাদ এই ঘটনাগুলোকে পুঁজি করতে পেরেছিলেন। এটাও সত্য যে সাধারণ মানুষ হঁাফ ছেড়ে বেঁচেছিল। এক-এগারো যখন ঘটল, সাধারণ মানুষ তখনো খুশি হয়েছিল। যারা এটা বিশ্বাস করেন না, তঁারা গণভোট নিয়ে এটা যাচাই করে দেখতে পারেন।

‘অগণতান্ত্রিক শক্তি’ রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করার জন্য ওত পেতে আছে বলেও নেতা–নেত্রীরা দাবি করেন৷ তবে জনসমর্থন ছাড়া কোনো শক্তি কখনোই ক্ষমতা দখল করতে পারেনি, দখল করলেও টিকে থাকতে পারেনি৷ এটা আমরা দেখেছি ১৯৫৮ সালে, ১৯৮২ সালে এবং সর্বশেষ ২০০৭ সালে। আর এটা সমাধান নয়, প্রতিবারেই তা প্রমাণিত হয়েছে। তবে এটাও তো সত্য, আমাদের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অতীত থেকে কোনো শিক্ষাই নেয়নি। এবারে নেবে কি?

মহিউদ্দিন আহমদ: লেখক ও গবেষক৷

Ekjon Ghunpoka

Posted by Nipunservices on May 8, 2014 at 4:00 PM Comments comments (0)

দিনের আলোয়ঃ ধুর, সবার সামনে কাতুকুতু দেও ক্যান... তুমার লইজ্জ্যা নাই বইলা আমারটাও কুরবানি দিমু নাকি ? ছিঃ শ র ম   !!! 

মিডিয়া মেইনস্ট্রিমঃ বালের এক নেত্রির  সেলিনা এইচ আইভি আরেক  বাল  নেতা শামীম ওসমানকে ডাকে 'গডফাদার', অন্যদিকে শামীম ওসমান সেলিনা এইচ আইভিকে ডাকে, 'মা কালী'।

ছবি ফেসবুক পাওয়া।

.

সব শিয়ালের একই রা।

.

আর সব বাল সমান কালো

Arif Mahmud

Posted by Nipunservices on February 16, 2014 at 9:45 PM Comments comments (0)

মানব পতাকা >> রেকর্ড খেলা >> ভন্ডামী

.

আমি যা বলতে চাই তা সঠিক ভাবে প্রকাশ করার জন্য দেশপ্রেমকে দুই ভাগে ভাগ করবো । সচেতন দেশপ্রেম আর অবচেতন দেশপ্রেম । আপনি যখন মানুষকে দেখানোর জন্য অথবা সুনাম কুড়ানোর জন্য কোনো দেশাত্নক কাজ করবেন তা হলো সচেতন দেশপ্রেম । আর আপনি যখন অবচেতন ভাবে , স্বার্থ চিন্তা না করে দেশাত্নক কোনো কাজ করবেন তা হল অবচেতন দেশপ্রেম । উদাহরন দেই ।

.

আমার নিউনিভার্সিটির এক শ্রদ্ধেয় ম্যাম জাপান থেকে পড়াশুনা শেষ করে এসেছেন । একদিন ক্লাসে উনি জাপানীজদের গল্প করেছিলেন আমাদের সাথে । উনার জাপানীজদের প্রতি গভীর ভালবাসা আর শ্রদ্ধা দেখে অবাক হয়েছিলাম । কর্মের প্রতি ভালবাসা , সময়ানুবর্তিতা , সততা আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধই ছিলো ম্যামের ভাল লাগার অন্যতম কারন । আমার মনে হয় বিশ্বের সব থেকে দেশপ্রেমীক নাগরিক জাপানীজরাই নির্বাচিত হবে । জাপিনীজদের দেশপ্রেম সে ক্ষেত্রে অবচেতন দেশপ্রেম । তারা অন্যকে দেখানোর জন্য দেশাত্নক কাজ করে না , অবচেন ভাবেই দেশের সেবায় নিয়োজিত । নাম মনে নেই , কোনো এক মহান ব্যক্তিকে জিজ্ঞাস করা হয়েছিলো , দেশ প্রেম কি ? । উত্তরে তিঁনি বলেছিলেন , কর্মক্ষেত্রে যে যেই অবস্থায় আছে তার দ্বায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করাই দেশপ্রেম ।

.

এবার আসি মূল প্রসঙ্গে । গত ১৬ই ডিসেম্বর "রবি"র সৈজন্যে আমাদের দেশে বিশ্বের সব থেকে বড় মানব পতাকা (২৪০০+) গড়া হয়েছিলো পাকিস্তানের রেকর্ড ভেঙ্গে (২৩০০-) । আজ আবার সেই পাকিস্তান বাংলাদেশের থেকেও বড় মানব পতাকা(২৯০০+) বানিয়ে রেকর্ড পুনুরুদ্ধার করলো । আমার আছে এই ধরনের দেশপ্রেমকে সচেতন কর্পরেট দেশ প্রেম ছাড়া কিছু মনে হয় না । স্পন্সরের মাধ্যমে বানিজ্যিক দেশপ্রেম প্রকাশ করার মত নির্লজ্জতা মনে হায় আর নেই । মেসিকে যদি জিজ্ঞাস করা হয় , আর কয়টা গোল দিলে আপনার গোল সংখ্যা অন্য সবাইকে ছাড়িয়ে যাবে । আমি নিশ্চিত মেসি উত্তর দিবে ," আমি হিসাব রাখি না । আমি রেকর্ডের জন্য খেলি না , দলের জন্য নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলি "। যারা জীবনে মহৎ কোনো বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে , তারা রেকর্ড করার উদ্দেশ্য ঐকাজটি করে নাই । মানব পতাকা যদি দেশপ্রেমের মাপকাঠি হত তাহলে সব থেকে বড় পতাকা বানাতো চীন । কারন তাদের লোকসংখ্যার পাশাপাশি যে কোনো ইভেন্ট আয়োজন করার ক্ষমতা অন্য দেশ গুলা থেকে অনেক বেশি ।.

Obaidul Kader

Posted by Nipunservices on February 7, 2014 at 10:25 AM Comments comments (0)

রাজনীতিকরা দুর্নীতিমুক্ত হলে ৫০ ভাগ দুর্নীতি কমবে : ওবায়দুল কাদের

তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়নে প্রধান বাধা দুর্নীতি। রাজনীতিকরা দুর্নীতিমুক্ত হলে দেশের ৫০ ভাগ দুর্নীতি কমে যাবে।”

ওবায়দুর কাদের বলেন, “জীবিকার জন্য নয়, জীবনের জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। নষ্ট-ভ্রষ্ট মেধাবী জ্ঞানপাপী আমাদের প্রয়োজন নেই। চরিত্রহীন মেধা বিপজ্জনক।”

সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সমালোচনা করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতি সন্ত্রাসমুক্ত হলে দেশের ৮০ ভাগ সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমে যাবে। ছাত্ররাজনীতি সন্ত্রাসমুক্ত হলে শিক্ষাঙ্গন শতভাগ সন্ত্রাসমুক্ত হবে।”

রাজনীতিকরা দুর্নীতিমুক্ত হলে ৫০ ভাগ দুর্নীতি কমবে : ওবায়দুল কাদের

.

তিনি বলেন, “দেশের উন্নয়নে প্রধান বাধা দুর্নীতি। রাজনীতিকরা দুর্নীতিমুক্ত হলে দেশের ৫০ ভাগ দুর্নীতি কমে যাবে।”

.

ওবায়দুর কাদের বলেন, “জীবিকার জন্য নয়, জীবনের জন্য শিক্ষা প্রয়োজন। নষ্ট-ভ্রষ্ট মেধাবী জ্ঞানপাপী আমাদের প্রয়োজন নেই। চরিত্রহীন মেধা বিপজ্জনক।”

.

সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সমালোচনা করে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, “রাজনীতি সন্ত্রাসমুক্ত হলে দেশের ৮০ ভাগ সন্ত্রাসী কার্যক্রম কমে যাবে। ছাত্ররাজনীতি সন্ত্রাসমুক্ত হলে শিক্ষাঙ্গন শতভাগ সন্ত্রাসমুক্ত হবে।”

M Shakwat Hossain

Posted by Nipunservices on January 25, 2014 at 8:25 PM Comments comments (0)

আস্থা ফিরবে কীভাবে


এম সাখাওয়াত হোসেন| 
     

বহু নাটকের মধ্যে সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে কী পেল তার অঙ্ক অনেকে করছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবমতে, দুই কোটির কম ভোটার ভোট দিয়েছেন। অবশ্য অনেকেই এই তথ্যের সঙ্গে একমত নন। অনেকের ধারণা, ১০-১২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। কিছু কেন্দ্রে কোনো ভোটই পড়েনি। ফলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় কিছুটা হলেও যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছিল, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তা বহুলভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভবিষ্যতে সুস্থ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।

নির্বাচন নিয়ে যত বিতর্ক এবং পশ্চিমা দেশের কাছে যতই অগ্রহণযোগ্য হোক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে একটি নির্বাচন হয়েছে এবং তা সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতে বৈধ। ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও দশম জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করার পর এক নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। নবম সংসদের মেয়াদকালেই দশম জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি কতখানি সংবিধানসম্মত বা আইনানুগ, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। নবম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এই সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। আর ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট নাগরিক ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, ‘এ সরকার অবৈধও নয়, বৈধও নয়’।

বর্তমান সরকার ‘জনপ্রিয়’ হিসেবে জোর গলায় দাবি করতে পারে তেমন নয়। কাজেই প্রধানমন্ত্রী যেখানে এই নির্বাচনকে সংবিধান ও নিয়মরক্ষার নির্বাচন বলেছেন, সেখানে সরকারের মেয়াদ নিয়ে অহেতুক অতি মন্তব্য জনগণের কাছে শ্রুতিমধুর হওয়ার কথা নয়। দলমত-নির্বিশেষে এসব ভোটার, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজমান। কারণ, তাঁরা সংসদ ও সরকার গঠনে অংশ নিতে পারেননি। সিংহভাগ ভোটারের ভোটদানে বিরত থাকা বা ভোট দিতে না পারার মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদ ও সরকার প্রকৃতপক্ষে জনসমর্থিত বলে বিবেচিত হয় না।

আস্থা ফিরবে কীভাবে

.

বহু নাটকের মধ্যে সমাপ্ত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে কী পেল তার অঙ্ক অনেকে করছেন। নির্বাচন কমিশনের হিসাবমতে, দুই কোটির কম ভোটার ভোট দিয়েছেন। অবশ্য অনেকেই এই তথ্যের সঙ্গে একমত নন। অনেকের ধারণা, ১০-১২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন। কিছু কেন্দ্রে কোনো ভোটই পড়েনি। ফলে দেশের নির্বাচনব্যবস্থায় কিছুটা হলেও যে শৃঙ্খলা ফিরে এসেছিল, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তা বহুলভাবে ব্যাহত হয়েছে। ভবিষ্যতে সুস্থ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।

.

নির্বাচন নিয়ে যত বিতর্ক এবং পশ্চিমা দেশের কাছে যতই অগ্রহণযোগ্য হোক না কেন, বাস্তবতা হচ্ছে একটি নির্বাচন হয়েছে এবং তা সংবিধান ও আইনের দৃষ্টিতে বৈধ। ফলাফলের গেজেট প্রকাশ ও দশম জাতীয় সংসদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন করার পর এক নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। ২৯ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। নবম সংসদের মেয়াদকালেই দশম জাতীয় সংসদকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়টি কতখানি সংবিধানসম্মত বা আইনানুগ, তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। নবম সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা খালেদা জিয়া এই সরকারকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছেন। আর ব্র্যাকের প্রতিষ্ঠাতা, বিশিষ্ট নাগরিক ফজলে হাসান আবেদ বলেছেন, ‘এ সরকার অবৈধও নয়, বৈধও নয়’।

.

বর্তমান সরকার ‘জনপ্রিয়’ হিসেবে জোর গলায় দাবি করতে পারে তেমন নয়। কাজেই প্রধানমন্ত্রী যেখানে এই নির্বাচনকে সংবিধান ও নিয়মরক্ষার নির্বাচন বলেছেন, সেখানে সরকারের মেয়াদ নিয়ে অহেতুক অতি মন্তব্য জনগণের কাছে শ্রুতিমধুর হওয়ার কথা নয়। দলমত-নির্বিশেষে এসব ভোটার, বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের মধ্যে একটা হতাশা বিরাজমান। কারণ, তাঁরা সংসদ ও সরকার গঠনে অংশ নিতে পারেননি। সিংহভাগ ভোটারের ভোটদানে বিরত থাকা বা ভোট দিতে না পারার মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদ ও সরকার প্রকৃতপক্ষে জনসমর্থিত বলে বিবেচিত হয় না।


Oops! This site has expired.

If you are the site owner, please renew your premium subscription or contact support.