Nipun Services
  Toronto, Ontario, Canada
  A  House of  Quality & Trust

  Nipun  Services

  Provide accurate services

News and Views Post New Entry

Nazmul H Razib

Posted by Nipunservices on November 3, 2014 at 7:20 PM Comments comments (0)

 


-ভাই পাশের বাড়ির এক মেয়ে ধর্ষণ হয়েছে! শুনেছেন কিছু?

---ওহ তাই নাকি! খুবই দুঃখ জনক। খুবই দুঃখজনক।

-জ্বি! আরো দুঃখজনক হল যে ধর্ষণ করছে সে আমার শ্যালক! এখন কিছু

বুদ্ধি সুদ্ধি দেন কি করে ঘটনাটা ধামা চাপা দেয়া যায়?

---ওহ এই কথা! এইটা কোন ব্যাপারই না। ঐ মেয়ে খোঁজ নিয়ে দেখেন স্কারট

পড়ে ঘুরেবেড়াত। আর এমন সময় কোন মেয়ে বের হয়?

বেহায়া বেলাজকোথাকার!

-ঠিক বলেছেন। ওই রাস্তায় ঘোরা ফেরা করে নিজেকে দেখিয়ে বেড়াবে আর

কেউ একটু আদর করলে হয়ে যাবে ধর্ষণ তাই না?

---কি আর বলব বলেন ভাই! সমাজটা রসাতলে গেছে!

-জ্বি ভাই! আপনি প্রভাবশালী লোক। আইন কানুন বোঝেন। আপনার মত

শিক্ষিত লোক যেভাবে ঘটনাটা বুঝছেন দেশের মূর্খ লোক তো তা বুঝবে না।

একটা ছোটখাট মিছিলওবের হইছে শুনলাম ''ধর্ষকদের ফাঁসি চাই, ধর্ষকদের

ফাঁসি চাই।''

---ভাই টেনশন নিয়েন না। আমি ব্যাপারটা দেখতেছি। আর ধর্ষণের শাস্তি কিন্তু খুব

ভয়াবহও না। মাত্র ৭বছর সছ্রমকারাদন্ড। ও দেখতে দেখতেই শেষ।

এমন সময় ঘরে হতদন্ড হয়ে চাকরের প্রবেশ। ভাই সর্বনাশ হয়ে গেছে। আপনার ছোট

মেয়ে মানে আমাদের আপা মনিরে পাড়ার লম্পটে ধর্ষণ করছে। আপনার

সামনে যেই ব্যাটা বইসা আছে তার শ্যালক।

---কি!!!!!

ওরে আমি কাইটা টুকরা টুকরা কইরা কুত্তা দিয়া খাওয়ামু । আমার নিষ্পাপ মাইয়া।

এই হল সমাজের বাস্তবতা আমরা আপন আত্মীয় স্বজনের ক্ষেত্রে যে রায় দেই তা অন্যের আত্মীয় স্বজনের

ক্ষেত্রে দেই না । তাই সমাজ থেকে অনাচারও কমে না।

 

Rudro Mizan

Posted by Nipunservices on November 2, 2014 at 5:05 PM Comments comments (0)

.

তিল কে তাল পুলিশই করতে হবে।

.

শুকুর আলী। লেখাপড়া জানেন না। প্রয়োজনে টিপসই দেন। এমন কি মোবাইল ফোনের বাটন টিপতে জানেন না। সেই শুকুর আলী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে গ্রেপ্তার হয়ে আছেন কারাগারে। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার হয়েছে পুত্র সিজানও। জেএসসি পরীক্ষার্থী সিজান আদৌ পরীক্ষা দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। তার অপরাধ মোবাইলফোনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে জড়িয়ে অশালীন কটূক্তিমূলক কার্টুন-ভিডিও দেখা ও শোনা। পরিবারের উপার্জনক্ষম পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে হতদরিদ্র এই পরিবারটি। ওই এলাকার লোকজন মনে করেন, দলীয় ও সরকারি ফায়দা হাসিলের জন্য হতদরিদ্র এই পরিবারকে হয়রানির মুখে ঠেলে দিয়েছে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

পিতা-পুত্রের গ্রেপ্তারে দরিদ্র পরিবারটি পথে বসলেও এলাকার মানুষই খাদ্য ও অর্থ দিয়ে দাঁড়িয়েছেন তাদের পাশে। এলাকাবাসী বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদা ও চাল তুলে এই পরিবারের খাদ্য সংস্থান করছে।

.

তাৎক্ষণিকভাবে শুকুর আলী ও মোবাইলফোনসহ সিজানকে আটক করা হয়। ওই সময়ে দুই সাক্ষীসহ আশপাশের লোকজন উপস্থিত ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হলেও প্রথম সাক্ষী আবদুল করিম গফ্ফার জানান, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি তখন থানায় ছিলেন। থানায় কেন ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, অন্য একটা কাজে গিয়েছিলাম।

.

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুকুর ও সিজানকে গ্রেপ্তারের পর কোন ধারায় মামলা রেকর্ড করবেন এ নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ছিলেন ওসি। দীর্ঘ সময় তিনি এ বিষয়ে পরামর্শ করেন আওয়ামী লীগের উপজেলা সভাপতি ও পৌর মেয়র হেলাল উদ্দিন কবিরাজ ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানের সঙ্গে। সর্বশেষ ঊর্ধ্বতন এক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলাটি রেকর্ড করেন। তবে পরামর্শের বিষয় অস্বীকার করেছেন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ও ওসি।

.

পরিবারের উপার্জনক্ষম শুকুর আলী ও তার পুত্র সিজান গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মানবেতর জীবনযাপন করছে এই পরিবার। কন্যা সন্তানকে নিয়ে অসহায় স্ত্রী কল্পনা। গ্রামের কয়েক তরুণ গত ২৪শে অক্টোবর ঘরে ঘরে গিয়ে এই পরিবারের জন্য প্রায় ৩৫ কেজি চাল সংগ্রহ করেছেন। মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী নিয়োগ দেয়ার সাধ্য নেই শুকুর আলীর স্ত্রীর। সেখানেও এগিয়ে গিয়েছেন গ্রামবাসী। ১০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা তুলে শুকুরের পাশে দাঁড়িয়েছেন তারা। সরকারি জমিতে মাটির ঝুপড়ি ঘর তৈরি করে বসবাস করছেন শুকুর আলীসহ ১৪ পরিবার। হতদরিদ্র প্রতিটি পরিবারের কেউ রিকশা, কেউ ভ্যানচালক। এর মধ্যে মোবাইলফোন আছে মাত্র চারটি পরিবারে। প্রতিবেশী হামেদ আলী জানান, গত ঈদের আগে শুকুরের কাছ থেকে ৫ শ’ টাকা দিয়ে একটি মোবাইলফোন কেনে সিজান। কিন্তু শুকুর মোবাইলফোনের বাটন টিপতে জানেন না। হামেদ আলী, মকসেদ আলী, আফসার আলীসহ গ্রামের লোকজন মনে করেন, সরকারকে খুশি করার জন্য পুলিশ এটাকে খুব গুরুত্ব দিয়েছে। এ কারণে স্বয়ং ওসি গিয়ে তাদের আটক করেছে। দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের খুশি করতে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতারা অতিউৎসাহী হয়ে এই হতদরিদ্র পরিবারকে হয়রানির মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলে গ্রামবাসী মনে করেন।

রুদ্র মিজান

Molla Bahauddin

Posted by Nipunservices on October 28, 2014 at 11:25 PM Comments comments (0)

গালাগালির মালা – গালির রাজা ”রাজাকার”

মোল্লা বাহাউদ্দিন

.

গালি নিয়ে কোন সাহিত্য তো হয়ই না এমনকি কারও সাথে গল্পও করা যায় না। এটা অসভ্য কাজকর্ম। বুঝলাম অনেক দেরীতে। তারপরও আমাদের মরম আলির কথা বলতে ইচ্ছে হয়। গল্পই হোক বা অসভ্যতাই হোক একবার বলেই দেখি কি হয়। হয়ত আমাকে অনেক গালাগালি শুনতে হবে।

পৃথিবীর সব দেশের সব মানুষই কোন কারনে কোন সময় কোন গালি বর্ষন করে থাকে। কেউ যখন কারও উপর খুব রেগে যায় এবং হাতের কাছে পায় না অথবা হাতের কাছে পেয়েও হাত ব্যবহার করতে পারে না তখনই মনের ঝাল গালি বর্ষন করে কিছুটা হলেও লাঘব করে। অনেকে গালি বর্ষন করেই শান্তি পায়। মনে করে আর তো কিছু করতে পারলাম না, কয়েকটা গালিই দিয়ে দেই। মনে করে গালির মাধ্যমেই যথেষ্ট শাস্তি দেয়া হয়েছে। অনেকে গালি দিয়ে শাসন ও করে থাকে। তা হল হালকা ধরনের গালি। এসব গালিতে কেউ রাগ করেনা।

সব দেশের সব গালিরই একটা অর্থ আছে। প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক ভাষার গালির অর্থ করলে যা দাড়ায় তা হলো গোপন অংগের বিশেষ বিশেষ অংশ নিয়ে তার সাথে বিশেষ্য, বিশেষন, সর্বনাম ইত্যাদি সংমিশ্রন করে এবং সেই অঙগ লক্ষ করে অশ্রাব্য পঙতিমালা বুলেটের মত ছুড়ে দেয়া। আর সে বিশেষ স্থানগুলো হলো মা বোন বা জন্মবৃত্তান্ত নিয়ে। কারন মানুষ এই তিনটা জিনিষের প্রতি দুর্বল। এই তিনটা স্থানে কেউ আঘাত করলে বা নাক গলালেই মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়ে, প্রয়োজনে খুন করে। যেমন ধরুন একজনকে কুত্তা বলে গালি দিলে সে বেশি চটবে না, কিন্তু যদি কুত্তার বাচ্চা বলা হয় তাহলেই সে ক্ষেপে যাবে। কারন তার জন্মদাতাকে গালি দিলে সে সহ্য করবে না। তেমনি মা এবং বোন হল সবচেয়ে ভালবাসার, আদরের, শ্রদ্ধার পাত্রি। তাদের নিয়ে কেউ কটুবাক্য বললে সে সহ্য করবে না। তাই এই দুর্বল এবং স্পর্শকাতর জিনিষ নিয়েই গালাগালির সৃষ্টি।

.

গালাগালিকে কয়েক শ্রেনীতে বিভক্ত করা যায়। যেমন শহুরে আর গ্রাম্য গালাগালি। শহরের গালাগালি একটু উচুঁস্তরের, আর গ্রামের গালাগালি একবারে গ্রাম্য শব্দের সংমিশ্রন।

 

মরম আলি আমাদের গ্রামের একজন সরল সোজা মানুষ। তার গায়ের রং বাঙালিদের মাঝে দেখা যায় না। সারাদিন রোদে পুরে তার গায়ের রং তামাটে হয়ে গেছে। অনেকে বলে তার পূর্বপুরুষ এসেছিল কাবুল না কোন দেশ থেকে। যাকগে সে কথা। মরম আলি আমাদের গ্রামের বাসিন্দা কয়েক পুরুষ থেকে। তার কাজ হল সকালে ক্ষেতে যাওয়া, বিকেলে বাড়ী ফিরে গরু ছাগল ঠিক ঠিকভাবে গোয়ালে রাখা, খাবার দেয়া। নিজে খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে সকালে আবার সেই কাজ। সে পৃথিবীর কোন সাতে পাঁচে নেই। কারও সাথে ফালতু কথা বলার সময়ও তার নেই। তার যা ফসলি জমি আছে তা নিয়ে সে খুব সুখে আছে। কারও সাথে কোন লেনদেন নেই।

মরম আলি সব সময় খেত পাহাড়া দিতে পারে না। তবে প্রতিদিন একবার হলেও দেখতে যায়। আর গিয়ে দেখে প্রায় প্রতিদিন কিছু না কিছু কামড় আছে। তখনই সে দাড়িয়ে পরে। তার পরনে থাকে একটা গামছা, আর মাথায় বাধা থাকে আর একটা। সে খেতের আলে দাড়িয়ে খুলে দেয় তার গালির ভান্ডার। একটা মালার মত। যেমন কথার মালা, ফুলের মালা ইত্যাদি। প্রথমেই সে শুরু করে চুতমারানির পুতাইত, (পুতাইত মানে পুত্ররা;) বরগিরির (বরগিরি কি আমার জানা নেই;) পুতাইত, ...মারানির পুতাইত, ....নির পুতাইত, তর মায়রে .., তর বইনেরে ... ইত্যাদি শব্দগুলো শেষ হয়ে গেলে আবার প্রথমটা থেকে শুরু করে। তার মুখস্ত। কোনটার পর কোনটা হবে সে জানে। ভুলেও একটা শব্দ আগে পরে হয় না। এমন জোড়ে জোড়ে চিৎকার করে বলে যায় যেন গ্রামের সব মানুষ শুনতে পায়। কারন সে জানে না কার গরু তার খেতে কামড় দিয়েছে। যার গরুতে কামড় দিয়েছে তার কানে কোন রকমে পৌছাতেই পারলেই তার গালাগালি সার্থক। এই গালির মালাটা চলবে ঘন্টার পর ঘন্টা। এক সময় তার মুখ দিয়ে ফেনা বেরোবে। তখন সে গামছা বদল করবে। মাথার গামছাটা পড়বে আর পরনের গামছাটা মাথায় বাধবে। এর কি শানে নজুল তা কেউ জানে না। গামছা বদল করে আবার শুরু হবে গালি বর্ষন। প্রথমে হাত নেড়ে, তারপর কোমড়ে হাত রেখে, আরও ক্লান্ত হয়ে বসে পড়বে। হাপাতে হাপাতে অনেকটা সুর করে মালা জপতে থাকে। বেলা ডুবলে সে ক্লান্ত হয়ে ঘরে ফিরে।

 

১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি একদিন দুপুরে মরম আলী খেতে গেছে। দূর থেকেই দেখতে পেল খেতে কামড় নয় স্বয়ং দু দুটা বলদ খুব আয়েস করে তার খেত খেয়ে যাচ্ছে। ধারে কাছে কেউ নেই। এক দৌড়ে সে খেতের আলে যেতেই শুনতে পেল চারদিক থেকে গোলাগুলির শব্দ আসছে। এমন শব্দ সে আগেও শুনেছে। তবে তা ছিল অনেক দূরে - সি এন্ড বি সড়কের ওপারে। রাত দিন অনবরত গুলির শব্দ শুনে আসছে সে। গুলা গুলি যে কত ভয়াবহ হতে পারে তার সে ধারন ছিলনা। এখন কত কাছ থেকে শব্দ আসছে তা সে বুজতে পারেনি। তাছাড়া খেত রক্ষা করার চেয়ে গুলির শব্দ জরুরি নয়। তাই সে তার গালির ভান্ডার খুলে দেবার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সে তাকিয়ে দেখল বিলের দক্ষিন দিক দিয়ে অনেক মানুষ দৌড়ে ইন্ডিয়ার দিকে যাচেছ। যেন প্রতিযোগিতা চলছে। সকলেই ছুটছে। প্রানের ভয়ে। কেউ কারও দিকে তাকচ্ছেনা। শুধু মালেক তার আশি বছরের মাকে টেনে হিচড়ে নিয়ে যাচ্ছে। যেন এখনি ফাসিতে ঝুলাবে। বৃদ্বার এক হাতে লাঠি, আর এক হাত মালেকের হাতে। মালেক যখন তার মাকে কাধে নিয়ে ছুটে চলল, মরম আলী তখন বুঝতে পারল বিপদ আসন্ন, তাকেও দৌড় দিতে হবে। সে শুনেছে বিল পেরিয়ে শৈতপুর পৌছতে পারলেই আর কোন ভয় নেই। এখন খেত রক্ষা করবে নাকি দৌড় দিবে তা ঠিক করতে পারছেনা। গোলাগুলির শব্দ আরও বাড়ছে। মনে হ্েচ্ছ খুব কাছ থেকে আসছে। আলফাজুদ্দি নৌকায় অনেকগুলি মানুষ নিয়ে ধলাই বিল কোনাকুনি পাড়ি দিচ্ছে। রাজনগরের রশিদও বিলের দক্ষিন দিক দিয়ে প্রানপনে ছুটছে! আরে একি! একটা গরু যে এমনিতেই পড়ে গেল। বিলের দিকে তাকিয়ে দেখল আফাজের নৌকা আর চলছে না। মানুষগুলো যে যেভাবে পারে সাতরে যাচ্ছে। আর একটা গরু পড়ে যেতেই তার মুখ দিয়ে একটা গালি বেরিয়ে গেল। কোন্ চুতমারানির পুতরে! গরুগুলিরে মাইরা ফালাইলি? খেত খাইছে আমার, তরা মারনের কে? সে গালাগালি করতে পারে। তাই বলে গরু মেরে ফেলা কিছুতেই মানবে না। অবলা জীব। গরুকে সে কোনদিনই গালি দেয়নি। কোন শাস্তিও দেয়নি। শাস্তি হবে মালিকের। গরু মারা অণ্যায়। গুলি করার আর জায়গা পাইলি না? বরগিরির পুতাইত.... তার চোখ গেল বিলের দক্ষিন দিকে। আরে রশিদও তো পইরা গেল। সে ততক্ষনাত দৌড় দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাথার গামছাটা হাতে নিয়ে দৌড় দিতেই একটা গুলি তার বুক এফোড় ওফোড় করে দিল। একটা গরুর পাশেই ঢলে পড়ল সে।

এখানে, এই এলাকায় জল্লাদ বাহিনীর পৌছার কথা ছিলনা। ছিলনা মানে সকলের ধারনা ছিল এত সব খাল বিল মুড়া জঙ্গল পেরিয়ে ওরা পৌছতে পারবে না। এপ্রিল পর্যন্ত সবাই খুব শান্তিতে ছিল। ইন্ডিয়া বাংলাদেশের কোন সীমানা ছিল না। যেন এক দেশ এক ভাষা এক বেশ। অনেকে মনে মনে ভাবত এভাবে থাকলেই তো ভাল। বিশেষ করে যেসব নেতারা বাড়ী গাড়ি অন্যান্য সুযোগ সুবিধা নিয়ে ছিল তারা তো চেয়েছিল দেশ স্বাধীন না হলেই ভাল! কিন্তু দেশ স্বাধীন হল।

আজ মরম আলি নেই, ধলাই পারে তার গালির তীব্র আওয়াজ আর শোনা যায় না। সে বেচেঁ থাকলে দেখতে পেত তার গালির ভান্ডার এখন ভোতা হয়ে গেছে। এখন বিশ্বে সব গালি ছাড়িযে একমাত্র একটা গালিই বুলেটের মত কাজ করে। আর সেটা হল ”রাজাকার”। আমরা তার সাগরেদরা একমাত্র এই গালিটা ছুড়ে দিয়ে থাকি যার প্রাপ্য তার দিকে। তাতে যথেষ্ট কাজ হয়। আর কোন গালিই এমন তীরের ফলার মত তরিৎ গতিতে এফোড় ওফোড় করে দিয়ে যায় না

 

 

Mohidul Islam

Posted by Nipunservices on August 8, 2014 at 2:40 PM Comments comments (0)

 

 

Bachelor abroad under 20

.

I met few Bangladeshi students in past few days in Berlin. I'm not mentioning their names but I felt so bad meeting them, thinking about the hardship they are going through. First of all, they are too young to go abroad. Even they are younger than my younger brother. I would never let my younger brother do the same and that is why I felt so bad for them. Let me explain why.

.

They are aged 18, 19 and so. They finished their HSC and their parents send them abroad for higher study BUT it’s not like they got any support or funding or aid or scholarship, not even from their parents until they got a degree. Well they took some blocking amount and send them back after coming Germany. So what they are going to do? Work in restaurant? Is that really the age to do that? What their friends are doing back home? While their friends chilling with friends, going to university, having so much fun, sleeping in his own bed and parents taking care everything then why? Why they will work at night, going to language school every day and manage their own stuffs starting from cooking, grocering, clothing, washings, cleaning, working and finally sleep flooring, It’s still not a sound sleep because they still have headache about housing, funding and what they gonna do next month and a lot, at least making breakfast in the morning. Do they really have time for life, chilling around and so? Isn’t it like they are missing a big part of their lives? Ask yourself what did you do at that age? Do they really deserve it? I know answer is: it’s being rude to them.

.

The only thing positive here is the parents and relatives of them feeling proud of it and they can tell people ‘You know what? My son lives is Germany, he earns even more than a doctor here blah blah blah’. It makes no sense. These cannot be a reason to put them in such hardship. It’s not like they sent them free. Parents spent a lot too in order to send them, for example to agencies, air ticket, language fee, accommodation fee, shopping and so on. Question is why they are spending so much to put their child in danger? I know the answer is: They don’t know what are they doing.

.

Let’s come to the discursion. Let’s assume they love what they are doing and they want to continue (for real they have no way to go back). They will finish language (student colleague, TestDaF or whatever) in two years and will spend few months or an year to get admission for bachelor and finally they may complete B A C H E L O R in 5 years.

.

So finals its 8 years to complete bachelor, Wow this should be some special kind of Bachelor, He must know everything. Honestly speaking, trust me they cannot make as good result as they could do at homecountry. Well German degree should be world class. Dude nowadays its more about what the skill one got beside study, does they know anything beside. Do you think they got enough time to learn something to make them special after all these cooking, grocering, clothing, washings, cleaning, working? If it’s not an exception then they will only finish the degree with a poor CGPA and most of them will not be able to complete.

.

So it’s about 8 years (Starting form the day they start about Germany from home) hardship and stress to get bachelor degree from TUM (The best uni in Germany) with poor CGPA without any skills or experience, okay with one internship.

.

Let’s assume they got some close friends back home, they went to admission test together and some of them got admission in public and some failed and got into private universities, They finished in 4 years and joined in some company in few months and started looking to go to Germany for MS. During these 8 years they also completed bachelor and worked 2 years in BD and finished their MS in 2 years from UNI Rostock, Germany.

.

Now that two of them (One holding German BS another holding German MS and 2 years job experience) were so surprised to see each other under the WorldClock Alexanderplatz after 8 years. They were so excited to meet each other. They figured out while talking that they applied for the same position Software engineer at FTI Touristik lol.

.

Can you feel the difference among them regarding knowledge, wisdom, experience, skills, education, morality, life, humanity, personality, thinking, confidence, grown up and so on ? I know it’s a question like ‘Is the glass half-full or half-empty’.

.

I am only taking about the boys aged 18, 19 and so. I would never recommend someone of these ages for bachelor abroad and of course without funding there is no reason to go. it’s even worse at the end. I recommend parents if they really can’t finance their children up to complete their study abroad or there is no financing for that please don’t put them in danger. Of course you will feel proud of your children in some day, please don’t choose this way.

 

Anisul Haq

Posted by Nipunservices on June 26, 2014 at 11:35 PM Comments comments (0)

.

বেশি করে ভালো কাজ করলেই তো হয়

.

কথাটা শোনা গিয়েছিল নির্বাচনের আগে আগে। যখন এটা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে বিএনপি ও তার জোট নির্বাচনে আসছে না, আওয়ামী লীগ তার সঙ্গীদের নিয়ে একটা একতরফা নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে চলেছে। তখন আমরা এই রকম একটা কথা শুনলাম, আওয়ামী লীগ একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় আসবে, তারপর খুব ভালো ভালো কাজ করবে, এতসব ভালো কাজ যে জনগণের হৃদয় তারা জয় করে ফেলবে, এতটাই জয় করবে যে তারপর নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে যত শক্তিশালী প্রতিপক্ষই অংশ নিক না কেন, নৌকা মার্কারই জয় হবে। শুনে দেয়ালবিহারী টিকটিকি টিক টিক করে উঠেছিল, আর ত্রিকালদর্শী হীরামন পাখি বলে উঠেছিল, হায়, জনচিত্ত জয় করার জন্য ভালো কাজ করার সদিচ্ছা ও ক্ষমতা যদি তাদের থেকেই থাকে, তাহলে তারা এই পাঁচটা বছর করল না কেন? তাদের একটা একতরফা নির্বাচনের দিকে যেতে হচ্ছে কেন? সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মতো কেউ সেই তেপান্তরের মাঠে ছিলেন না।

.

কিন্তু আজকে, ওই নির্বাচনের এতটা দিন পরে, বারবার মনে হচ্ছে, সরকার ভালো কাজগুলো করুক, জনচিত্ত জয় করুক। এমন ভালো ভালো কাজ যেন তারপর নির্বাচন এলে জনগণ ভালোবেসে ফুলের মালা নিয়ে তাদের আবারও বরণ করে নেয়!

হায়, বিড়াল সাদা না কালো, সেটা যে বড় কথা নয়, বড় কথা বিড়াল ইঁদুর মারে কি না। গাছ নির্বাচিত নাকি অনির্বাচিত, তা বড় কথা বটে, তারও চেয়ে বড় কথা, গাছ সুফল দেয় কি না!

.

প্রসঙ্গটা এসেছে সম্প্রতি মহামান্য রাষ্ট্রপতির একটা উক্তিতে, যিনি কি না স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বাংলাদেশের অনেক মানুষেরই প্রিয় একজন ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন প্রধানত তাঁর সুমিষ্ট ও সুরসিক বচনের মাধ্যমে। রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন মেনে নিয়েছে। ফলে দেশে এখন স্থিতিশীলতা বিরাজ করছে। সেই পটভূমিতে বেজে উঠেছে বিবেকের কণ্ঠস্বর, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাকস্ফূর্তি—রাষ্ট্রপতি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন।

.

জাতিসংঘ একটা বিবৃতিও দিয়েছে, তাতে তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, সংসদে নেই, এমন বিরোধী দলের সঙ্গে সংলাপ শুরু করার। এই বিবৃতির অভিপ্রায় আমরা সম্ভবত বুঝেছি।

.

আর বিএনপি, তার নেতা–নেত্রীরা, এমনকি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আওয়াজ তুলেছেন—সরকার যদি সংলাপ শুরু না করে, তাহলে আন্দোলন, তাহলে হরতাল। তাদের এই হুমকিকে আমরা মোটেও ফাঁপা ও ফাঁকা আওয়াজ বলে ধরছি না৷ কারণ, বাংলাদেশে হরতাল করতে পয়সা লাগে না, মোটা পেট ও ভারী পা নিয়ে রাজপথে নামতে হয় না নেতাদের, একটা প্রেস বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠিয়ে দিয়ে বললেই হয়, অমুক দিন হরতাল, জনগণ নিজ দায়িত্বে পিতৃদত্ত প্রাণ হাতের মুঠোয় নিয়ে নিজের মতো করে দিনটা পার করে, তাকে আমরা বলি হরতাল পালিত হওয়া। কিন্তু পুরো ব্যাপারটার মধ্যে একটা কেঁচো গণ্ডূষ ভাব আছে। যাকে বলা যায়, পুনঃমূষিক ভবঃ।

.

আসুন, পুরো ব্যাপারটা একবার রিক্যাপ করি—ধারাবাহিক নাটকের শুরুর ‘এর আগে যা ঘটেছিল’ অংশটির মতো। উচ্চ আদালতের আদেশ ছিল, দুটো টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকার চলতে পারে। কিন্তু আমরা বড়ই গণতন্ত্রপ্রেমী, সংবিধানের শুদ্ধতায় বিশ্বাসী। আমরা এক মুহূর্তের জন্যও অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় বসাতে পারি না। সংবিধান সংশোধনের জন্য কমিটি গঠিত হলো, তারা দফায় দফায় বিভিন্ন স্তরের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করল এবং একটা প্রস্তাব মোটামুটি সবাই করলেন, আপাতত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাপারটা থাকুক। তবু ওই অনির্বাচিত, সুতরাং অসাংবিধানিক ক্যানসারটুকুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংবিধান থেকে কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হলো। সে অনেক দিন আগের কথা। তার পর থেকেই বিএনপির জোট মানি না, মানব না করে আন্দোলন চালিয়ে আসছে। তারা অন্তত দুবার দিল ‘আলিটমেটাম’। এত তারিখের মধ্যে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি না মানা হলে সরকার উচ্ছেদের এক দফার আন্দোলন। দিন যায়, আলটিমেটামের তারিখ পার হয়, সরকার আর উচ্ছেদ হয় না। তারপর এল সরকারের মেয়াদপূর্তির আগে ৯০তম দিবসের দিনটা। ওই তারিখের পর ‘সরকার’ অবৈধ, কাজেই তখনই হবে দুর্বার সর্বব্যাপী আন্দোলন। তার আগে সরকারের একজন-দুজন নেতা, একজন-দুজন সচিব বিমানবন্দর পেরোলেন বা পেরোতে গিয়ে ধরাও পড়লেন। সেই তারিখ গেল। আন্দোলনও হলো। শুধু সরকার পড়ল না। একটা নির্বাচন পরিচালনাকারী সর্বদলীয় সরকারের ডাক এল। তখন বিরোধীদলীয় নেত্রী আরেকটা আলটিমেটাম দিলেন। বললেন, এত তারিখের মধ্যে সংলাপ শুরু না করা হলে হরতাল৷ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই সময় পেরোনোর আগেই বললেন, হরতাল প্রত্যাহার করুন৷ আসুন, সংলাপে বসুন। তখন খালেদা জিয়া ও বিএনপি হরতাল প্রত্যাহার করল না, সংলাপেও গেল না। কেউ কেউ মনে করেন, ওইটাই ছিল ‘ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট’। বিএনপি যদি সংলাপে অংশ নিয়ে সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করে নির্বাচনকালীন সরকারে অংশ নিয়ে নির্বাচনে যেত, তাহলে তখনই হাওয়া পাল্টে যেত, হাওয়া বুঝে সুবিধাবাদী সিদ্ধান্তপ্রণেতারা বিএনপির হাওয়া নিজেদের পালে লাগিয়ে নিত এবং বিএনপি আজকে ক্ষমতায় থাকত। ওই নির্বাচনে বিএনপির জোট যায়নি, তা প্রতিরোধ করার জন্য পোড়ামাটি নীতি অবলম্বন করেছে, বহু স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ভবন পুড়ে গেছে, বহু ট্রেন লাইনচ্যুত করা হয়েছে, বহু মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের দিনটি অতিক্রান্ত হয়ে গেছে এবং শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ, রওশন এরশাদের জাতীয় পার্টিসহ আমাদের গণতন্ত্র এখন ইস্পাতদৃঢ়।

.

এখন খালেদা জিয়া এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলছেন, সংলাপ দাও।

এত দিন পরে সংলাপ!

.

আচ্ছা মানলাম, সংলাপ হলো, সরকার বলল, আসুন, আপনারা নির্বাচনে আসুন, আবার নির্বাচন হবে। তখন প্রশ্ন হলো, নির্বাচন যে হবে, কোন পদ্ধতিতে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতিতে, নাকি বর্তমান সংবিধানের আলোকে। বর্তমান সংবিধানের আলোকেই যদি হবে, তাহলে বিএনপি আগের নির্বাচনে অংশ নিল না কেন? মধ্যখানের এত হানাহানি, জানমালের ক্ষয়ক্ষতি, এত আগুন, এত রক্তপাতের দায় কে নেবে?

.

কেউ কেউ বলেন, বিএনপির জোট আশায় আশায় ছিল, ভারতে বিজেপি ক্ষমতায় এলে তাদের বড় সুবিধা হবে। কারণ, কংগ্রেসের সঙ্গে আওয়ামী লীগের গলায় গলায় প্রীতি। শুনে আমি হাসি, অাঁখিজলে ভাসি। বিজেপি যদি অসাম্প্রদায়িক কংগ্রেসের তুলনায় বেশি হিন্দুত্ববাদী হয়ে থাকে, তাহলে তারা কেন আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টির বদলে বিএনপি-জামায়াত-জাগপার জোটকে বেছে নেবে। সুষমা স্বরাজ এসেছেন, বার্তা এই যে হাকিম নড়লেও হুকুম নড়ে না। সুসম্পর্ক অটুট থাকবে।

তাই বলে, জাতিসংঘের বিবৃতির তাৎপর্য বুঝতে আমাদের অসুবিধা হয় না। বিড়াল সাদা না কালো, তাতে বিড়ালের মালিকের হয়তো কিছু যায় আসে না৷ কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ বড়ই গণতন্ত্রপ্রিয়, নিজেদের ভোটাধিকার তারা নিজেরা প্রয়োগ করতে চায়। সেই চাওয়ার একটা প্রতিফলনও আমরা একদিন না একদিন ঘটতে দেখব।

.

তবে কথা হচ্ছে বর্তমান নিয়ে। অতীত না হয় আপাতত একটু ব্রাকেটবন্দী করে রাখি। সেই যে কথাটা ছিল, আওয়ামী লীগের সরকার একতরফা নির্বাচন করে ক্ষমতায় এসে এমন সব ভালো ভালো কাজ করবে যে জনগণ সব দুঃখ ভুলে গিয়ে ধন্য ধন্য করবে এবং ভোট এলেই দলে দলে গিয়ে নৌকা মার্কায় ভোট দেবে। এটারও একটা নাম পণ্ডিতেরা দিয়েছেন, মাহািথর পদ্ধতি। অর্থাৎ ক্ষমতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশকে উন্নতির সোপান বেয়ে নিয়ে যেতে পারলে তা ভালো ছাড়া খারাপ কিছু নয়। আমরা সেই কথার কথাটাকেই আপাতত কাজে দেখতে চাই।

.

সরকার ভালো ভালো কাজ করুক না কেন? ২০০৮-এর নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরে সত্যিকারের দিনবদলের সুবর্ণ সুযোগ মোটামুটি হেলায় এবং নিজেদের আখের গোছানোর কাজে ব্যস্ত থাকায় অপচয়িত হয়ে গেছে। এবারের সুযোগটা সুবর্ণ না হলেও একটা বাস্তব সুযোগ এবং সম্ভবত শেষ সুযোগ। এটাকে এই সরকার কাজে লাগাক। সুশাসনের নহর বইয়ে দিক। গডফাদারদের নির্মূল করুক। গুন্ডাপান্ডাদের শায়েস্তা করুক। কালো দাগগুলো সাফ করুক। আর দুর্নীতি ও লুটপাটের রাজত্ব কায়েম না করে উন্নয়ন, অগ্রগতির ধারা প্রতিষ্ঠিত করুক। দক্ষতা ও যোগ্যতার প্রমাণ রাখুক।

.

সরকারের লোকজন কিন্তু খুব বলেন, আমরা কত ভালো ভালো কাজ করি, গণমাধ্যম তো সেসব নিয়ে কথা বলে না। খালি খারাপ দিকগুলো কেন তুলে ধরে৷ উত্তরে বলব, ভালো কাজ করাই সরকারের কাজ। কোনো বিমান ঠিকসময়ে যাত্রা করে ঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাত্রীদের ঠিকঠাক পৌঁছে দিলে সেটা খবর হয় না, বিমানটা ভেঙে পড়লে সেই খবর না ছাপালে আপনারাই সেই কাগজটাকে ছি ছি করবেন। আর বাস্তবের জগৎটা চলে পারসেপশন দিয়ে, জনগণ কী মনে করে, তা দিয়ে, আপনি আসলে কী করেছেন, তা দিয়ে নয়। জনগণ মনে করে, নারায়ণগঞ্জের এই পরিবারটি একটা গডফাদারের পরিবার। আপনি দুধে ধুয়েও সেই পারসেপশন বদলাতে পারবেন না। সে েক্ষত্রে জনচিত্ত জয় করার উপায় হলো, তাদের বর্জন করা।

আমি জানি, অনেকেরই এই লেখা পছন্দ হবে না। তাঁরা বলবেন, অনির্বাচিত গাছের ফল আমরা খাব না। বা আরেক দল বলবেন, অরণ্যে রোদন করেন কেন? আপনার কথা কে শুনবে?

.

জানি শুনবে না। কিন্তু বলতে তো হবেই। যদি শোনে। যদি একটা ভালো কাজও সরকার করে, সেটা কিন্তু দেশের লাভ, জনগণের লাভ। তাই আমি বারবার করে বলব, ভালো ভালো কাজ করুন। জনগণের হৃদয় জয় করার চেষ্টা করুন। বেশি বেশি করে ভালো কাজ করুন। জনগণের মনের ভাষাটা পড়ার চেষ্টা করুন।

.

আনিসুল হক: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

Elora Zaman

Posted by Nipunservices on June 14, 2014 at 2:55 PM Comments comments (0)

বাংলাদেশী পরিচয় দিতে লজ্জা হয় আজ!

.

একদিন গিয়েছিলাম বেনারসী পল্লীতে শাড়ি কিনতে। ঝলমলে দোকান পাট! রঙীন সব শাড়ি। কত নারী তার বাসর সাজিয়েছে ঐসব লাখ টাকা দামী শাড়ি দিয়ে। জীবন শুরু করেছে ওখান থেকে। বিত্তশালী সব নারীরা, সুনীলের চৌধুরীদের সূবর্ণ কঙ্কন পড়া রমণীদের মতো। দোকানী বললো, আপা! কারিগর শাড়ি দিতে দেরী করতেছে। দেইখ্যা আসি, কি অবস্থা।

.

আমার অতিউৎসাহী মন দোকানীর সাথে যেতে চাইলো। বললাম, আমায় নিয়ে চলেন। পান খাওয়া লাল দাঁত বের করে দোকানী হেসে বললো, যাইবেন? আচ্ছা চলেন। কিন্তু সহ্য করতে পারবেন তো? আমিও একগাল মিষ্টি হেসে বললাম, সহ্য করতে পারবো। আমি গরীবের মেয়ে, সব সহ্য করতে পারি। অসুবিধা নাই। চলেন।

.

কিছুদূর হেঁটেই দেখলাম ঝুপড়ির মতো ছোট ছোট ঘর। সোজা হয়ে হাঁটা যাচ্ছিলো না, নিচু হয়ে পাশ কেটে হাঁটতে হচ্ছিলো। এতোসব চিপা গলি, নোংরা, দুর্গন্ধ। কারিগরের রুমে ঢুকে খেলাম এক বিশাল ধাক্কা। দেখলাম ঘামে ভেজা কিছু উদোম শরীর। দরদর করে ঘাম পড়ছে সেইসব বারো-তেরো বছরের বিহারী কিশোর ছেলেদের শরীর থেকে। ওরা কাজ করে যাচ্ছে। সুতো টেনে টেনে, খটখট। অগ্নিকুন্ডের মত অবস্থা, তেল চিটচিটে লুঙ্গি গামছা! আমি বাহানা করে বেরিয়ে এলাম, সহ্য করতে পারছিলাম না। বাইরে এসে ভাবলাম, এরাও কি মানুষ?

.

পৃথিবীর সবচাইতে অবহেলিত একটি জনপদকে দেখে কষ্ট লেগেছিলো। কিন্তু ভুলে গেলাম অতি দ্রুত তার পাশেই ঝলমলে ডাউনটাউন দেখে। আজকে আবার মনে পড়লো সেই বিহারী পল্লীর কথা।

.

মীরপুরে এগারোজন মানুষকে আগুনে পুড়িয়ে আর গুলি করে মেরে ফেলার খবর পড়ে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছি। তারচেয়ে বেশি হতবাক হয়েছি এ ঘটনার পর বাংলাদেশের মানুষদের বিশাল একটা অংশের প্রতিক্রিয়ায়। আমরা কি সভ্য মানুষ? অথবা 'মানুষ' শব্দটা দিয়ে পরিচিত হওয়ার যোগ্য? এটা কি দুইহাজার চৌদ্দ সাল?

.

আজকের সময়ে এমন নৃশংস একটা ঘটনায় কেউ জংলী ক্যানিবাল ট্রাইবের মতো আনন্দ প্রকাশ করে কিভাবে? যারা এমন করছে, এরা তো আমাদেরই আশেপাশের মানুষ, ভাই-বোন-বন্ধু-আত্মীয়। আমরা কি ধরণের মানুষদের সাথে বসবাস করছি! পুলিশ দাঁড়িয়ে থেকে নিরব সমর্থন দিয়েছে। কেন দেবেনা? যুবলীগ ছাত্রলীগের ছেলেদের কাজে বাঁধা দেবে, এমন সাহস আর ক্ষমতা কি পুলিশের আছে না কি?

.

কতটা অসহিষ্ণু এবং উন্মাদ হয়ে গিয়েছি আমরা? শিশু সহ যে মানুষগুলো পুড়ে মারা গেলো, তাদের জায়গায় আমরা নিজেরা অথবা আমাদের কোন আত্মীয়-স্বজন থাকলে তখন কেমন লাগতো? বাচ্চাগুলো আর বড় হওয়ার সুযোগ পেলোনা। নিরপরাধ নারীরা অভাব-অনটনের সংসারের ভেতরেও বেঁচে থাকার অধিকারটুকু পেলো না।

.

দেশে যেহেতু কোন অন্যায়ের বিচার নেই, সরকারী দলের লোক হলে তাদের যা ইচ্ছা তাই করার ক্ষমতা আছে, তারা তাদের এলাকার স্থানীয় মারামারিতে ক্ষমতার প্রকাশ দেখালো। সেই ক্ষমতায় দেয়া আগুনে কার্বন মনোঅক্সাইড বিষে নিশ্বাস বন্ধ হয়ে, একটু একটু করে শরীর পুড়ে গিয়ে, বিকৃত হয়ে মারা গেলো দশজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ।

.

এরপর শুরু হলো এরচেয়ে বড় উন্মাদনা, পাশবিক উন্মত্ততা। শিক্ষিত ও রুচিশীল মানুষেরা এ ঘটনাকে সমর্থন করা শুরু করেছে। 'মুক্তিযুদ্ধের চেতনা' নাম দিয়ে যে পাগলামি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে সারা দেশে, এর শেষ কোথায়? সত্যিই কি এটা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা?

.

আসলেই কি একটা জাতির মুক্তির সংগ্রাম এরকম ঘৃণা আর অমানবিকতার ভিত্তিতে ঘটতে পারে? বিশ্বাস করিনা। বরং এ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হলো আওয়ামী-শাহবাগিদের চাষাবাদ করা ঘৃণার জমিন। এ ঘৃণা আর বিভেদের আগুন বাংলাদেশকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের বর্তমান আর ভবিষ্যতকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।

.

সব ছাড়িয়ে বারবার মনে হচ্ছে, নিরপরাধ মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখতে পারিনা কেন আমরা? কেন পারিনা ঘৃণিত সংকীর্ণতার উর্ধ্বে উঠতে? আমাদের চেয়ে বেশি রেইসিষ্ট জাতি কি আর কোনটা আছে? ধিক আমাদের! বাংলাদেশী পরিচয় দিতে লজ্জা হয় আজ!

Koronik Akhtar Koronik

Posted by Nipunservices on June 5, 2014 at 10:35 PM Comments comments (0)

.

বানোয়াট রটনার উপস্থাপনা

---------------------------------------

বানোয়াট রটনার উপস্থাপনা সাধারণত যেকোনো মিথ্যাচারের মতো অশ্লীল এবং চমকদার নোংরা হয়ে থাকে। কারো পক্ষ নিয়ে যেকোনো ক্ষেত্রে যেকোনো ধরণের অশালীন রটনা তো কেবল রটনাকারী ক্রীতদাসকেই অগ্রহণযোগ্য করে তোলে।

.

যে-কেউ চাইলেই যেকোনো তথ্য এখন সরাসরি পেতে পারে, এমন যোগাযোগ-বান্ধব-কালে মিথ্যাচার বা ধোঁয়াশা বিস্তার করে অন্যকে আর ঠকানো সম্ভব নয়।

.

বিভিন্ন দলের দলীয় ক্রীতদাসেরা মুক্ত নয়, তারা রটনা রটিয়ে যেতে বাধ্য। তবে, প্রাচীন কিম্বা আধুনিক, কোনো ধরণের ক্রীতদাসের অনুসরণ, কখনোই কোনো মুক্ত সাধারণ মানুষের জন্যে শোভনীয় নয়। অবশ্যই প্রাচীন কিম্বা আধুনিক কালের ক্রীতদাস এবং ক্রীতদাসত্ব, কখনোই সভ্যদের কাছ থেকে সাধুবাদ পেতে পারে না।

Apel Mahmud

Posted by Nipunservices on January 17, 2014 at 10:50 PM Comments comments (0)

গেণ্ডারিয়ার সেই বধূ

.

পুরান ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় সুচিত্রা সেনের শ্বশুরালয়ের সেই বিশাল বাড়ির চিহ্ন পর্যন্ত রাখেনি দখলদাররা।

রমা দাশগুপ্ত- পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সদা লাস্যময়ী এক শিক্ষার্থী। বাড়ি পাবনা শহরের হেমসাগর লেনে (গোপালপুর মহল্লা। ১৬ বছরের মেয়েটি পড়ছে ক্লাস টেনে। দেশভাগের বছর, ১৯৪৭ সালে হঠাৎ করেই বিয়ে হয়ে গেল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর মেয়েটির। স্বামী দিবানাথ সেন ঢাকার প্রভাবশালী জমিদার আদিনাথ সেনের পাশ্চাত্য শিক্ষায় শিক্ষিত উদারমনা পুত্র।

.

জমিদার আদিনাথ সেন পাত্রী দেখে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সিদ্ধান্ত দেন, ‘যদি কেউ পুত্রবধূ হওয়ার যোগ্যতা রাখে সেটা হলো এই মেয়ে।’ বিদেশে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চশিক্ষিত দিবানাথ সেনও যেন বাঙালি সংস্কৃতিমনা সুন্দরী ও গুণবতী এমন মেয়েই বউ হিসেবে প্রত্যাশা করেছিলেন।

.

জমিদার আদিনাথ সেনের লেখক হিসেবেও ব্যাপক পরিচিত ছিল। তাঁর লেখা তিন খণ্ডে ‘দীননাথ সেন ও তৎকালীন পূর্ববঙ্গ’ বইটি ১৯৪৮ সালে কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়, যা বাংলা ভাষার একটি মূল্যবান বই। তাঁর বাবা দীননাথ সেন (১৮৪০-১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দ ছিলেন বাংলার অন্যতম রেনেসাঁ পুরুষ। তিনি ঢাকার ইডেন ফিমেল স্কুল (বর্তমানে ইডেন বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, ব্রাহ্ম স্কুলসহ (বর্তমানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আরো অনেক শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। ঢাকার প্রথম সংবাদপত্র ঢাকা প্রকাশের সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ত্রিপুরা মহারাজার অধীনে কিছুদিন তিনি মন্ত্রীও ছিলেন। ঢাকার গেণ্ডারিয়ার দীননাথ সেন রোড তাঁরই নামে নামকরণ হয়েছে।

.

অতীতে বলা হতো, ‘পূর্ববঙ্গের এমন কোনো ভালো কাজ নেই, যাতে দীননাথ সেনের সহযোগিতা ছিল না।’ গবেষক ড. মুনতাসীর মামুনের মতে, একসময় ধোলাইখালের পূর্ব পাশের এলাকা বন-জঙ্গলে পরিপূর্ণ ছিল। দীননাথ সেন সেই জঙ্গল পরিষ্কার করে গেণ্ডারিয়াকে একটি পরিকল্পিত আবাসিক এলাকা হিসেবে গড়ে তোলেন।

.

ভুবনমোহিনী রমা দাশগুপ্ত হলেন গেণ্ডারিয়ার সেই সেন জমিদার বাড়ির পুত্রবধূ। জীবনে কখনো শ্বশুরবাড়িতে এসেছেন কি না তা নিশ্চিত করে জানা যায় না। স্থানীয় সূত্র কিংবা কোনো গবেষকও সে ব্যাপারে কোনো তথ্য দিতে পারেননি।

.

তবে গেণ্ডারিয়াবাসী এই পুত্রবধূ নিয়ে আজও গর্ব করেন। আর গর্ব হবেই না কেন? এই বধূই যে সবার পরিচিত মুখ- সুচিত্রা সেন। তাদের গর্ব প্রকাশের ধরনটা এমন- ‘নায়িকা সুচিত্রা সেন আমাদের এলাকার বউ।’ এ দাবি নিয়ে এলাকার কেউ কেউ কলকাতায় সুচিত্রা সেনের বালিগঞ্জের বাড়ি পর্যন্ত গেছেন। আর সুচিত্রা সেনও গেণ্ডারিয়ার কথা শুনে তাঁদের সঙ্গে আগ্রহ নিয়েই দেখা করেছেন। অবশ্য সেটা স্বাধীনতার পরে এবং অন্তরালে চলে যাওয়ার মাঝামাঝি সময়ের ঘটনা।

.

গেণ্ডারিয়ার বাসিন্দা মীর হাবিব জানান, তাঁর বাবা ১৯৭৪ সালের দিকে কলকাতায় গিয়ে সুচিত্রা সেনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। গেণ্ডারিয়ার কথা শুনে সুচিত্রা তাঁকে বাসার ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেন। আর মীর হাবিবের বাবা সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন গেণ্ডারিয়ার সোনা মিয়ার প্রসিদ্ধ মিষ্টি ও দই। সেসব খেয়ে ‘বধূ’ খুব প্রশংসা করেন। বলেন, ‘আবার যদি ঢাকা থেকে কলকাতায় বেড়াতে আসেন তাহলে এ দই-মিষ্টি নিয়ে আসবেন।’ সোনা মিয়া মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। তবে সুচিত্রার প্রিয় দই-মিষ্টির দোকানটি ৩৩/এ রজনী চৌধুরী লেনে আজও রয়ে গেছে।

.

সুচিত্রা সেন ও দিবানাথ সেনের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায় ১৯৬৩ সালে। ১৫ বছরের সংসার জীবনে তাঁদের একমাত্র সন্তান মুনমুন সেন।

Aby Saayed Ahmed

Posted by Nipunservices on January 14, 2014 at 10:15 AM Comments comments (0)

Ripon Canada's photo.Ripon Canada's photo.Ripon Canada's photo.

 

সাকরাইন : পুরান ঢাকার পৌষসংক্রান্তি উৎসব

.

আবু সাঈদ আহমেদ

.

পৌষসংক্রান্তি অর্থাৎ পৌষ মাসের শেষ দিন পুরান ঢাকার আকাশ থাকে ঘুড়িদের দখলে। আকাশজুড়ে নানান রং আর বাহারের ঘুড়িদের সাম্যবাদ। এক সপ্তাহ ধরে পুরান ঢাকার বাহান্ন রাস্তা তেপান্ন গলির এবশির ভাগ গলিতে আর খোলা ছাদে চলছে সুতা মাঞ্জা দেওয়ার ধুম। রোদে সুতা শুকানোর কাজও চলেছে পুরোদমে। যদিও মাঞ্জার স্থান দখল করে নিচ্ছে রক সুতা নামের এক ধরনের সুতা। শীতের উদাস দুপুর আর নরম বিকেলে আকাশে গোত্তা খাচ্ছে নানান রঙের ঘুড়ি। ঘুড়িতে ঘুড়িতে হৃদ্যতামূলক কাটা-কাটি খেলাও চলছে। অহরহ কাটা-কাটি খেলায় হেরে যাওয়া অভিমানী ঘুড়ি সুতার বাধন ছিঁড়ে উড়ে যাচ্ছে দূরে।

.

পৌষ মাসের শেষ দিন অর্থাৎ পৌষসংক্রান্তির দিনই পালিত হয় পুরান ঢাকার এবং আদি ঢাকাইয়াদের ঐতিহ্যের সাকরাইন উৎসব। ভোরবেলা কুয়াশার আবছাতেই ছাদে ছাদে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানোর উন্মাদনা। ছোট-বড় সবার অংশগ্রহণে মুখরিত থাকে প্রতিটি ছাদ। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে উৎসবের জৌলুস। আর শীতের বিকেলে ঘুড়ির কাটা-কাটি খেলায় উত্তাপ ছড়ায় সাকরাইন উৎসব। এক দশক আগেও ছাদে ছাদে থাকতো মাইকের আধিপত্য। আজ মাইকের স্থান দখল করেছে আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম। উৎসবের আমেজ থাকবে পুরান ঢাকার সর্বত্র। গেন্ডারিয়া, তাঁতীবাজার, লক্ষ্মীবাজার, চকবাজার, লালবাগ, সূত্রাপুরজুড়ে ঐতিহ্যের এই উৎসবে। আকাশে ঘুড়ি আর বাতাসে দোলা জাগানো গান। মাঝেমধ্যে ঘুড়ি কেটে গেলে পরাজিত ঘুড়ির উদ্দেশে ধ্বনিত ভাকাট্টা লোট শব্দ যুগল।

.

সাকারাইন উৎসব এখন আর শুধু ঢাকাইয়াদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাকরাইন পুরান ঢাকায় বসবাসকারী সব মানুষের উৎসবে পরিণত হয়েছে। পুরান ঢাকার এসব ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন এবং ঐতিহ্যগুলো পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষে আন্তরিক হওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য, পুরান ঢাকার সার্বজনীন উৎসব ঈদ মিছিল, বৈশাখী মেলা আর সাকরাইন উৎসব। আশার কথা, পুরান ঢাকার ঐতিহ্য পুনরুজ্জীবন, সংরক্ষণ এবং জনপ্রিয় করার লক্ষে বর্তমান প্রজন্ম সচেতন। অতীতে সাকরাইনে পুরান ঢাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে জামাইদের নাটাই, বাহারি ঘুড়ি উপহার দেওয়া এবং পিঠার ডালা পাঠানো ছিল অবশ্য পালনীয় অঙ্গ। ডালা হিসেবে আসা ঘুড়ি, পিঠা আর অন্যান্য খাবার বিলি করা হতো আত্মীয়স্বজন এবং পাড়ার লোকদের মধ্যে। নীরব প্রতিযোগিতা চলত কার শ্বশুরবাড়ি থেকে কত বড় ডালা এসেছে। আজ এই সব চমৎকার আচারগুলো বিলুপ্ত হতে চলেছে। পুরান ঢাকার আদি বসবাসকারী সব মানুষ এই ঐতিহ্যগুলোর স্মৃতি রোমন্থন করেন। নতুন প্রজন্মকে শোনান সেই সব মুখরিত দিনের কথা। মনের খুব গভীরে পরম মমতায় লালন করেন ঐতিহ্যের পরম্পরা। স্বপ্ন দেখেন এসব প্রাণময় ঐতিহ্য আবার পুনরুজ্জীবিত হবে।

.

পৌষসংক্রান্তির সন্ধ্যায় আঁধার ঘনাবার সঙ্গে সঙ্গে পুরান ঢাকা সব জঞ্জাল আর কালিমা পুড়িয়ে ফেলার আর আতশবাজির খেলায় (ইংরেজিতে যাকে বলে ফায়ার ওয়ার্কস) মাতে। রাতে কেউ কেউ ওড়ায় ফানুস। সাকরাইন এমনই সুন্দর আর অর্থপূর্ণ ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব।

.

পুনশ্চ : ১.ঢাকাইয়াদের ভাষায় ঘুড়িকে বলে ঘুড্ডি বা গুড্ডি। ঘুড়ি উড়ানোর জন্য সূতাকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় ধারালো করা হয়। ধারালো করার এই প্রক্রিয়াকে বলে মাঞ্জা । ঘুড়ির কাটাকাটি খেলায় কোনো ঘুড়ি কেটে গেলে বলা হয় বাকাট্টা লোট। বিভিন্ন রকমের বা ডিজাইনের ঘুড়ি পাওয়া যায় যেমন চোখদার, মালাদার, ঘায়েল, দাবা প্রভৃতি। এবার যুক্ত হয়েছে রংধনু মার্কা।

.

২. সাকরাইন শুধু ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব নয়। পুরান ঢাকার ঘরে ঘরে চলবে মুড়ির মোয়া, ভেজা বাখরখানি আর পিঠা বানানোর ধুম।

৩. কয়েক বছর ধরে ছোট আকারের লাটাই পাওয়া যাচ্ছে। এই ছোট আকারের লাটাই হাতে নিয়ে সাকরাইনের উন্মাদনায় ঢাকার আগামী প্রজন্মের প্রতিনিধিরা জানান দেয় তাদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।

 

 

Jalal

Posted by Nipunservices on January 11, 2014 at 9:25 PM Comments comments (0)

মানুষের জীবন ও সংসার এবং সমাজ ও ধর্মীয় বিস্সাশ:::::

.

নানান আয়োজন ও সমারহে মানুষের জীবনের তিনটি তথা ৫ টি ধাপ অতিবাহিত হয় কিন্ত্ত তার পর ও জীবন কি জিনিস মানুষ তা জানতে পারে না | অত্যন্ত আকর্ষণীয়তা নিয়ে জীবনের প্রতিটি ধাপের সূচনা ও বটে তাই পেছনে আর ফিরে তাকানোর সময় সুযোগ আমরা খুজে পাইনা | আমাদের কে সমাজ বা সংসারের বাহিরে থেকে চিন্তার স্বাধীনতা শেখানো ও হয়না আর চিন্তার প্রশ্রয় ও দেওয়া হয় না | ইভেন আমার এই লিখা টা আমার পরিচিত কেও পড়লেই আমাকে আন-কমন ভাববে,আস্তিক নাস্তিক আরো কত কি ভাববে হয়তো

.

আরো কত কি রটিয়ে বেড়াবে,মানুস হিসেবেই হয়ত আমার বিরুদ্ধে ঘৃনা ছড়াবে, আমার ও যে বেক্তিগত একটা জীবন,বিস্সাশ,স্বাধীনতা থাকতে পারে ওই নীতিতে তারা কেহই বিস্সাশি না,আর এই ইগো নিয়ে কমেন্ট ও করবেনা এই স্টেটাস এ...আমার নিজের অযোক্তিক কোনো পয়েন্ট থাকলে তর্কের স্বাধীনতা আমি সবাইকে দেওয়ার মানসিকতা আমার সব সময় ই আছে, তদুপরি মধ্যে ধর্ম নামক আফিম তো আছেই,লাইফ টা কে উপলব্ধি করার প্রধান বাধা হয়ে দাড়ায় এই ধর্ম বিস্সাশ, কারণ সকল সমস্সার পথ্য হিসেবে তো ধর্মের উত্পত্তি|

.

পেটের দায়ে শুরু হয় কর্ম জীবনের যত আয়োজন পড়া শোনা থেকে সব,,আর বস্তু গত জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্যে শুরু হয় সংসার,,,ওখানেও আরেক আকর্ষণ হিসেবে আসে বাচ্চা কাচ্চা, শুরু হয় সাধারণ এই জীবনে কত জটিলতা কত কি কত বৈচিত্র-ময়তা | একটা ভিক্ষুকের ও জীবন একটা আর দেশের প্রধান মন্ত্রীর ও জীবন একটাই| এত কিছুর পর যেই একা সেই একাই , তাহলে মাঝে এত বেশি কম্প্লিকেসন বা জটিলতা কেন?

.

এত জটিলতার জন্যে আমরা নিজেই দায়ী নয় কি? জীবনটা আসলেই খুবই সাধারণ, ধর্ম,সমাজ,পরিবার,পরিবেশ,রাজনীতি,অর্থনীতি,শিক্ষা ইত্যাদি এই সাদামাটা জীবনটাকে জটিল করে তোলে আর আমরা নিজেকে বানাই ঐগুলোর গোলাম|

X-file

Posted by Nipunservices on December 21, 2013 at 9:25 AM Comments comments (0)

.

আমাকে কখনো I LUV U বলোনি, বলেছ ভাল থাকিস| কখনো আমার ... সাথে কেএফসি তে খাওনি কিন্তু আমার পছন্দের শুটকি ভর্তা করে খাইয়েছ| তুমি হাত কেটে আমার নাম লিখনি, আমার হাত সামান্য কেটে গেলে তুমি কেঁদেছ | আমার সাথে সারারাত জেগে কথা বলনি, আমার সামান্য অসুখ হলে, রাত জেগে আমার সেবা করেছ| মা, এরকম ভাবেই ভালবেসো, কারন আমার মেকি ভালবাসা চাই না| মা, কষ্ট দেই বলে Sorry মা....

 

Hasina bibi

Posted by Nipunservices on December 9, 2013 at 7:25 PM Comments comments (0)

মৃত ছেলের ছবি দেখে সনাক্ত করলেন বাবা !!
#পথিক 

 সোমবার দিনব্যাপী হরতাল চলাকালে দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী বাজারে পুলিশ ও জামায়াতকর্মীদের সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হওয়ার খবরে চারিদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শিশুটির নাম ঠিকানা কেউ জানাতে পারছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশও এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে চলে গেছে। এমন সময় বাজারের একটি সেলুনে গিয়ে দরিদ্র ভ্যান চালক আনোয়ার হোসেনকে চুল কাটাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ আগে তার ছেলেও এখান থেকে চুল কাটিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছে। সাংবাদিকের ক্যামেরায় তোলা মৃত শিশুটির ছবি দেখিয়ে পরিচয় জানতে চাওয়া হলে আনোয়ার হোসেন চিৎকার দিয়ে বলে উঠেন এ আমার ছেলে সুমন। এসময় তার আত্বচিৎকারে আশাপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। তৎক্ষণে পুলিশ শিশুটির লাশ মর্গে প্রেরণ করেছে। এলাকায় পুলিশ না থাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা আবারও বহুলী বাজারে জমায়েত হয়ে এক পথচারীর মটরসাইকেলে আগুণ ধরিয়ে দেয় এবং ২ সাংবাদিককে বহরকারী একটি মটরসাইকেলসহ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাংচুর করে।

 আন্দোলনের তীব্রতায় বাড়ছে লাশের সংখ্যা
 বিরোধী দলের আন্দোলন যত জোরদার হচ্ছে সিরাজগঞ্জে লাশের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে। মাওঃ দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর রায় ঘোষনার পর থেকে এ পর্যন্ত সিরাজগঞ্জের ৩টি উপজেলায় জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মী ও পথচারী মিলে মোট ১০জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বেলকুচিতে দু’দফায় বিএনপি-জামায়াতে ৪জন, সদরে ৩টি ঘটনায় পুলিশের গুলিতে ঘটনায় ৪জন ও উল্লাপাড়ায় ১জন এবং পিকেটারদের লাঠির আঘাতে চন্ডিদাসগাতিতে এক যুবলীগকর্মী নিহত হয়। এ সকল ঘটনায় দায়িত্ব পালনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিরোধী দলগুলোর দাবী কোন কারণ ছাড়াই পুলিশ বেপরোয়া ভাবে গুলিবর্ষণ করায় বারবার নিহতের ঘটনা ঘটছে।
 এদিকে, সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার এস,এম এমরান হোসেন জানান, কর্তব্যরত পুলিশের উপর হামলা করলে পুলিশতো বসে থাকবে না। সোমবার বহুলীতে ককটেল নিক্ষেপ করে সদর থানার সেকেন্ড অফিসার নুরুল ইসলামকে আহত করা হয়েছে। বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা বেপরোয়া ভাবে কর্তব্যরত পুলিশের উপর বারংবার আক্রমন করায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটছে।

মৃত ছেলের ছবি দেখে সনাক্ত করলেন বাবা !!

.

সোমবার দিনব্যাপী হরতাল চলাকালে দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী বাজারে পুলিশ ও জামায়াতকর্মীদের সংঘর্ষে এক শিশু নিহত হওয়ার খবরে চারিদিকে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু শিশুটির নাম ঠিকানা কেউ জানাতে পারছে না। অবস্থা বেগতিক দেখে পুলিশও এলাকা ত্যাগ করে নিরাপদে চলে গেছে। এমন সময় বাজারের একটি সেলুনে গিয়ে দরিদ্র ভ্যান চালক আনোয়ার হোসেনকে চুল কাটাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ আগে তার ছেলেও এখান থেকে চুল কাটিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হয়েছে। সাংবাদিকের ক্যামেরায় তোলা মৃত শিশুটির ছবি দেখিয়ে পরিচয় জানতে চাওয়া হলে আনোয়ার হোসেন চিৎকার দিয়ে বলে উঠেন এ আমার ছেলে সুমন। এসময় তার আত্বচিৎকারে আশাপাশের পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। তৎক্ষণে পুলিশ শিশুটির লাশ মর্গে প্রেরণ করেছে। এলাকায় পুলিশ না থাকায় বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা আবারও বহুলী বাজারে জমায়েত হয়ে এক পথচারীর মটরসাইকেলে আগুণ ধরিয়ে দেয় এবং ২ সাংবাদিককে বহরকারী একটি মটরসাইকেলসহ কয়েকটি বসতবাড়ি ভাংচুর করে।

saniat multy

Posted by Nipunservices on December 8, 2013 at 10:00 AM Comments comments (0)

বৃদ্ধ সিএনজি চালক তার গাড়ীতে বসে কাঁদছে। কাছে গেলাম, জিজ্ঞেস করায় জানতে পারলাম আজ দুই-তিন দিন ধরে সারাদিন গাড়ি চালিয়েও জমার টাকা জোগাড় হচ্ছে না, বাসায় ৪জন মেয়ে মানুষ (মা, বউ, দুই মেয়ে) কয়েকদিন ঠিক মত খেতে পারেনি। কাল না খেয়ে ছিল মা। আজও জমার টাকা উঠেনি। কি করবে বুঝতে না পেরে কাঁদছে। লোকটার গাড়ীতে উঠলাম, বাজারে গেলাম। প্রায় এক সপ্তাহের বাজার করলাম। তারপর সব গাড়ীতে উঠালাম। বাসায় এসে গাড়ি থেকে কিছু না নামিয়ে ভাড়া দিলাম। তারপর লোকটাকে বললাম, “বাসায় চলে যান। এই বাজার আপনার জন্য না। এক মা না খেয়ে থাকবে সেটা তো ঠিক না। মা কে খাওয়ান, মেয়ে আর বউকেও খাওয়ান। রাস্তায় কান্নাকাটি করলে লোকে কি বলবে??” সি এন জি-এর গেইট খুলে আমাকে ধরে ফেলল লোকটা, কেঁপে কেঁপে কাঁদছে। ব্যাপারটা আমার ভালো লাগলো না আর। চলে আসতে চাইলাম। লোকটা আমার হাতটা ধরে খালি বলল, “বাবা আপনি আমার ছেলের মতন, আপনি এইটা রাখেন বলে একটা কলা হাতে দিল। মাইয়াডা সকালে হাতে দিসিল, দুপুরে খাওনের জন্য, আপনি খাবেন”। ব্যাস, পেয়ে গেলাম আমার জন্মদিনের শ্রেষ্ঠ উপহার। আহা, লোকটার নাম জানা হল না। মামা বলেই সম্বোধন করেছিলাম। আবারও বৃদ্ধ সিএনজি চালক তার গাড়ীতে বসে কাঁদছে। এইবার মনে হয় আনন্দ অশ্রু। আমি চলে আসলাম বাসায়। ------------------- দেশের রাজনৈতিক অদ্ভুত বাজে পরিস্থিতির কারনে কত কষ্টে জীবন পালন করছে আমাদের দেশের মানুষ। এটাতো অনেক ভালো দৃশ্য, এর চেয়েও ভয়াবহ কত দৃশ্য আছে, যা আমরা প্রতিদিন দেখি কিন্তু দেখেও দেখি না। আজ আমি দেখলাম, তাই কিছু করার চেষ্টা করলাম। সবার প্রতি অনুরোধ, যদি অনেক কে সাহায্য না করতে পারেন, তাহলে অন্তত একজন কে সাহায্য করুণ। এখন সময়টা অনেক খারাপ, আমাদের সবার পাশে সবাইকে দাঁড়াতে হবে।

 

 

Boshor Siddiki

Posted by Nipunservices on November 28, 2013 at 4:00 PM Comments comments (0)

কিছু মাইনষের একটা ব্যাপক মাত্রায় বদ অভ্যাস আছে। আর তা হইল পাবলিক প্লেসে আস্তে করে গন্ধবোমা ছারা। তারা এই ব্যাপরটা তে যতই আনন্দ পায় ঠিক ততটাই আমাদের শুরু হয় মরন জ্বালা।

.

একদিন ফার্ম গেইট থেকে বাসে উঠছি এক বিশাল মল্ল যুদ্ধ কইরা। কন্টাক্টর ঠেইলা পাঠাইলো পিছনে। এত লোক উঠছে যে পা ফেলার যায়গা নাই। প্রচন্ড গরমের দিন সবাই ঘাইমা নাইয়া একাকার। তার উপর বাস জামে আইটকা আছে।

.

ঠিক সেই মুহুর্তে কেও একজন আস্তে কইরা কামখান সারল। গন্ধের চোটে বমি আসার উপক্রম। এক লোক পুরা হাউকাউ লাগাইয়া দিছে। তিনি তার সামনের মোটা লোকটারে সন্দেহ করতাছেন। কারন ওনার মনে হইতাছে তার পিছন থেকে গন্ধটা বেশি আইতাছে।

.

এইবার আমি কইলাম চাচা আপনে কি ওনার পিছনে নাক লাগাইয়া দেখছেন??

বেয়াদপ ছেমরা কইয়া একটা ঝারি দিয়া তিনি বাস থেকে প্রস্থান করলেন। আশ্চর্য ব্যাপার হইল তিনি যাওয়ার পর আস্তে আস্তে গন্ধও কমে আসল।

.

গল্পের মোরল হইলো , ভাই ভুলেও এই কাম বাসের মইধ্যে কইরেননা। আর করলেও সেইটা নিয়া ফাপর মাইরেননা।

Daud Ibrahim

Posted by Nipunservices on November 24, 2013 at 7:00 AM Comments comments (0)

.

.

অনেক দিন বৃদ্ধাশ্রমে যাই না! আগে বছরে একবার হলেও যেতাম! সময় সল্পতার কারনে এখন আর

যাওয়া হয় না! যান্ত্রিক জীবনটা ছেড়ে কয়েক মূহুর্তের জন্য চলে যেতে ইচ্ছা করছে!কতদিন দেখা হয় না সেই নিস্পাপ মুখ

গুলো!

.

জীবনটা কি,কি তার মানে বৃদ্ধাশ্রমে না গেলে কোন দিন বুঝতাম না! হায়রে জীবন!উজান-ভাটির খেলা!

.

বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় বাবা-মা গুলোর মুখ গুলোর দিকে তাকাতাম , যখন ঘৃনায় নিজের গলা নিজেই চেপে ধরতে

ইচ্ছা করতো,মরে যেতে! ইচ্ছা করতো মুখ লুকিয়ে কাদঁতে! কতটা অকৃতজ্ঞ সন্তান আমরা!

.

তাদের অনেকের কাছে জীবনের গল্প শুনছি!কি কারন!এখানে কেন? কেউ আবার এড়িয়ে গেছে!প্রচন্ড

ঘৃনায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে! কিংবা সন্তানের সম্মান বাচাঁতে!

.

কয়েক জনের গল্প শুনে রীতিমত থ হয়েছি!তাদের ফ্যামিলির ব্যাকগ্রাউন্ড শুনে!কি ভাবে সম্ভব!

জীবন যুদ্ধে জিতেও হেরে গেছে তারা!

.

যদি পারেন তবে জীবনে একবার হলেও কোন একটা বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে ঘুরে আসবেন!জীবনের মানে হয়তো ওখানেই

খুজে পাবেন!

Leo Rony

Posted by Nipunservices on November 22, 2013 at 9:45 PM Comments comments (0)

নিজের ক্ষেতের সবজি নিয়ে এক কৃষক গেলেন রাষ্ট্রপতির বাস ভবনে। বাড়ির কেয়ারটেকার তাকে বসিয়ে সবজি গুলো

নিয়ে গেলেন দোতলায়। রাষ্ট্রপতি তখন টেলিফোনে কথা বলছিলেন। কথা বলা অবস্থায় কেয়ারটেকার তাকে সবজির কথা

বললেন।

.

রাষ্ট্রপতি পাঞ্জাবীর পকেট থেকে ২০ টাকা বের করে দিলেন। সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় কেয়ারটেকার ভাবলো সামান্য কিছু

সবজির জন্য ২০ টাকা দেয়ার কী দরকার। সে ১০ টাকা রেখে দিয়ে বাকী ১০ টাকা দিলো কেয়ারটেকারের হাতে।

টাকা পেয়ে কৃষক অবাক হলো এবং দৌড়ে দোতলায় উঠে গেলো। ততোক্ষণে টেলিফোন রাখলেন রাষ্ট্রপতি।

.

কৃষক রাষ্ট্রপতির কাছে ১০ টাকা ফেরত দিয়ে বললেন, " এগুলো আমার ক্ষেতের সবজি, আমি আপনার জন্য এমনি এনেছি,

টাকা লাগবেনা।" জবাবে রাষ্ট্রপতি বললেন, " কিন্তু আমি তো ২০ টাকা দিয়েছিলাম।" কৃষক জবাব দিলো,

" উনি তো আমাকে ১০ টাকা দিলো।"

.

এ কথা শুনে রাষ্ট্রপতি বললো, " যে দেশে দোতলা থেকে নিচতলায় পোঁছতে ২০ টাকা ১০ টাকা হয়ে যায়

সে দেশে কত টাকার বাজেট প্রনয়ণ করলে তা জনগণের নিকট পোঁছবে?"

Ray Ban

Posted by Nipunservices on November 19, 2013 at 8:30 PM Comments comments (0)

এক রাখাল বালক এক বিকেলে মাঠে তার পশু চরাচ্ছিল। একটু পরে তার মাঠের পাশে একটা দামী ব্র্যান্ডের গাড়ি এসে থামল। এক তরুণ নামল BMW গাড়ি থেকে। Brioni suit পরা, চোখে RayBan সানগ্লাস, সংগে YSL টাই।

.

তরুণটি এসে রাখালকে বলল, 'আমি যদি তোমাকে বলতে পারি,এই মাঠে তোমার কয়টা ছাগল আর ছাগলের বাচ্চা আছে, তুমি আমাকে একটা বাচ্চা দেবে?'রাখাল ৫ সেকেন্ড সময় নিল, 'ঠিক আছে।'

.

অনুমতি পেয়ে তরুণটি তারপর তার Dell laptop খুলল। সেটির সংগে Cingular RAZR V3 কানেক্ট করল। তারপর NASA page ব্রাউজ করল। এরপর সে GPS Satellite এ কানেক্ট হল,যাতে সে কোখায় আছে সে জায়গাটা Locate করতে পারে। এবার সে পুরো এলাকাটা NASA Satellite দিয়ে scan করে ফটো তুলল। এরপর সে ফটোটা Adobe photoshop এ ওপেন করল এবং জার্মানির হ্যামবার্গে পাঠাল। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটা মেইল পেল। এরপর সে ডাটাটা OBDC কানেক্টের মাধ্যমে MS-SQL এ নিয়ে তার I phone এ open করল। তার কয়েক মিনিট পর সে result পেল। যেটা সে HP Laser-jet printer দিয়ে প্রিন্ট করল আর

.

রাখালকে বলল, 'তোমার ১৫৮৬ টা ছাগল আর বাচ্চা আছে।রাখাল বলল,' ঠিক কইছেন।'

.

শর্তমতে তরুণটি মাঠ থেকে বেছে রাখালের একটা বাচ্চা নিল। রাখালটি বলল,'আমি যদি কইতে পারি আপনার আব্বা কি কাম করে, আমারে আমার বাছুর ফিরায় দিবেন?' তরুণটি একটু ভেবে বলল, অবশ্যই।

.

রাখাল বলল,'আপনার আব্বা একজন মণ্ত্রী।'

' তুমি কিভাবে বললে এটা?' অবাক হলো তরুণটি।

'খুবই সহজ'।

.

এইখানে আপনারে কেউ ডাকে নাই।নিজে নিজে এমন একটা প্রশ্নের উত্তর দিতে আইছেন, আমি যেটা জিগাই নাই। হাজার হাজার টাকা খরচ করছেন ঐ উত্তর জানতে। আসলে আমারে দেখাইতে চাইছেন আপনি কত বড় সাহেবের পোলা।সবচেয়ে বড় যেটা ঘটাইছেন, আপনারা গরিব রাখালদের জীবনযাপন আর তাদের পশুর ব্যাপারে কিছুই জানেন না।

.

ছাগল না এইডা ভেড়ার পাল, আর এখন আমার পোষা কুত্তাটা ফেরত দেন। এইডা দিয়ে ভেড়া গুলা খেদাই বাড়িত নিমু।

Abu Ali

Posted by Nipunservices on August 17, 2013 at 11:50 AM Comments comments (0)

 

আমরা এক অস্থির ভোগবাদী সময়ে বাস করছি , বিঘ্নিত হচ্ছে আমাদের পারিবারিক জীবন, যে সন্তান সন্ততির জন্য পরিবারের জন্য আমরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হন্যে কুকুরের মত ছুটে চলি, বিকেলে পরিবারের সবাই মিলে চা নাস্তা রাতের খাবারের জন্য উন্মুখ থাকি সেই পরিবারের কেউ না শুধু নিজের সদ্য যৌবনা মেয়ে যদি হয় বাপ মায়ের হন্তারক তাহলে আমরা যাব কোথায় - রাষ্ট্রে সমাজে রাজনীতিতে শান্তি নেই - রাষ্ট্রের অতি ক্ষুদ্রতম একক পরিবারেও নেই শান্তি । এখন তো এটা দিবালোকের মতো সত্য যে ও লেভেল পড়ুয়া মেয়ে ঐশী অত্যান্ত ঠাণ্ডা মাথায় তার পুলিশ অফিসার বাপ ও স্নেহময়ী মাকে ঘুমের বড়ি খাইয়ে অন্যদের সহযোগিতায় হত্যা করে লাশ কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে সকালে ভাই ঐহি ও কাজের মেয়ে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল - এখন পুলিশের হেফাজতে । এই ঘটনার হয়তো অনেক বড় পরিপ্রেক্ষিত আছে - পরে জানা যাবে কিন্ত এই ঘটনা অতি সিনেমাটিক , আমাদের পারিবারিক মূল্যবোধ বন্ধন সহমর্মিতা আদর স্নেহ ভালবাসা এসব কিচ্ছু না , এই ঘটনা তো সমাজ বিজ্ঞানী ও মনোবিজ্ঞানীদের গবেষণার ব্যাপার । না জানি আরও কত কত পরিবারে আছে এই অবস্থা - বিত্ত বৈভবের পেছনে ছুটে ছুটে আপন সন্তানদের সময় না দেয়া, স্নেহের বাঁধনে না বাঁধা বা অসৎ সঙ্গে নষ্ট সন্তান তার ব্যক্তিগত অপরাধ ধামাচাপা দিতে চামেলীবাগে এই জোরা খুন ঘটাতে পারে - আসল ঘটনা যাই হোক আমাদের শান্তির নিভৃত গৃহকোণ আর নাই, কি জিঘাংসা বিশ্বাসই হতে চায় না।

 

--------------------------------------------------------------------------

Ripon Canada: Family's tradition and honesty is the main environment for the good grows of a family.

 

Del Karnegi

Posted by Nipunservices on August 15, 2013 at 10:20 AM Comments comments (0)

একটি সুখের সংসার ধ্বংস করার জন্য শয়তান যতগুলো অস্ত্র আবিস্কার করেছে,

তার মধ্যে মারাত্মক অস্ত্র স্ত্রীর ঘ্যানর ঘ্যানর |

___ ডেল কার্নেগি

Nusrat Jahan

Posted by Nipunservices on August 8, 2013 at 9:25 PM Comments comments (0)

প্রতি বছর আজকের এই দিন টার জন্যে আমিও সবার মত অপেক্ষা করতাম।

ঈদের আগের দিন রাতে অনেক মজা করার পরেও আমার রাত টা খুব কষ্টে কাটতো কারন অপেক্ষায় থাকতাম সকাল ৬ টা কখন হবে।

.

ঈদের দিন সকাল ৬ টায় আমার কলিজা বাবা আমায় নতুন কচকচে টাকার বান্ডেল সালামী দিতো আর সেই সালামীর প্রতিক্ষায় আমি প্রহর গুনতাম ,মেহেদী পরা হাত বাবা খুব পছন্দ করতো তাই সারারাত পারলে মেহেদী দিতাম,নতুন ড্রেস নিয়ে থাকতে দেখলে বাবা খুব হাসতো তাই নতুন ড্রেস নিয়ে বাবার সামনে ঘুড়াঘুড়ি করতাম ! অথচ আজ আমি আর কিছু করিনা আগের মত ! মেহেদীও পরিনা ঈদ উপলক্ষে , ঈদের ড্রেস ও পরিনা ।বাকি ৮/১০ টা দিনের মত-ই এই দিনটি আমার কাছে ।

.

বাবা নাই আমার লাইফে কোনো টুইস্ট নাই। সত্যিই বাপ হারা যে তার কিসের সুখ তাই নসিবে বড় দুখ !!!

অনেক অনেক মিস করছি বাবা তোমাকে ,এই ঈদের দিনে আল্লাহর কাছে একটাই চাওয়া তিনি যেন তোমাকে বেহেস্ত নসিব করেন ।

.

Love you sooo much papa,missing you lot.


Oops! This site has expired.

If you are the site owner, please renew your premium subscription or contact support.