Nipun Services
  Toronto, Ontario, Canada
  A  House of  Quality & Trust

  Nipun  Services

  Provide accurate services

News and Views Post New Entry

Lutfar Hassan

Posted by Nipunservices on August 6, 2013 at 10:00 AM Comments comments (9)

পৃথিবীর সকল বাবা মা একদিন অনেক বেশি অবুঝ হয়ে যায়।

.

যখন তখন আম্মা ফোন করে বসেন, স্বাভাবিক রেসপন্সের চেয়ে অস্বাভাবিক আচরন করে ফেলি। বুঝাতে চেষ্টা করি, আমি অনেক বড় হয়ে গেছি। আমিও সন্তানের বাবা হয়েছি। আমাকে নিয়ে এতো দুশ্চিন্তার কোনও কারন দেখি না। মাঝে মাঝে এসবের জন্য আম্মাকে আহ্লাদী বলে ক্ষেপাই। আমার এই উপহাসে কখনও সখনও তিনি সত্যিই কেঁদে ফেলেন। একদিন একটা কথা বলে ফোন রেখে দিলেন ‘তোরে অভিশাপ দিতাছি না, তবে তোর মেয়ের কোনও ব্যস্ততার সময় তোর প্রতি অমনোযোগে তোর জানি কষ্ট না হয়’ ।

.

আমি আম্মাকে এসএমএস করি ‘ আম্মা, আমার মেয়ে অত বড় হতে হতে আমি আমার সব আবেগ ঝেঁড়ে ফেলবো। সন্তানের প্রতি অবুঝপনা আপনাদের সময়ের ব্যাপার। আমাদের আশেপাশে এমন আবেগের কোনও মুল্য নেই। গতকাল আমি আমার মেয়েকে তার নানাবাড়ি রেখে এসেছি। আজ হয়তো সে তার দাদাবাড়ি যাবে। আমি পড়ে আছি একা।

.

গতকাল রাতে যখন বাসায় ঢুকলাম, প্রথম ধাক্কাটা খেলাম তখনই। দরজায় কড়া নাড়তে হলো না। শরীর দুলিয়ে দুলিয়ে বাবা বাবা বাবা বলে কেউ এগিয়ে এলো না। কাউকে কোলে তুলে নিতে হলো না। ফ্রেশ হয়ে যখন বিছানায় গেলাম, দ্বিতীয় ধাক্কাটা তখনই লাগলো। খবরের কাগজ অথবা প্রিয় কোনও কবিতার বই সজোরে ছুঁড়ে ফেলে, কেউ বুকের উপর উঠে বসে তিততিততিত তুততুততুত করে পৃথিবীর সকল প্রশ্নের উত্তর একসাথে দিতে বললো না। গতকাল রাতে কাউকে মশারি টাঙ্গিয়ে দিতে হয়নি। তৃতীয় ধাক্কাটা খেলাম বাসা থেকে বের হবার সময়। টেনেটুনে কেউ শার্টের কলার মুচড়ে দিলো না, শক্ত করে কেউ গলা জড়িয়ে ধরে রাখলো না। আমার সাথে তাকেও নিয়ে বেরুতে হবে বলে চিৎকার করে পুরো এলাকা মাথায় নিয়ে ফেললো না। সর্বশেষ ধাক্কাটা খেয়েই আম্মার কথা মনে পড়লো। আমি যখন দুপুরের খোঁজ নিলাম, সে তখন খেলছে। আমার পাত্তাই নেই। বাড়ি যাবো কাল পরশু। দেখা হয়ে যাবে দুপুরের সাথে। কিন্তু এই স্বল্প সময়ের দুরত্বেও মন এমন করছে কেন? বারবার মেয়ের মুখটা দেখতে ইচ্ছে করছে। ওর তুলতুলে শরীরের সুবাস নিতে ইচ্ছে করছে। তার মন মেজাজ না বুঝেই চুমু দিতে গিয়ে টাশটাশ করে ওর চড় খেতে ইচ্ছে করছে। ওর আনন্দ দেখতে ইচ্ছে করছে, ওর বিরক্তি দেখতে ইচ্ছে করছে। আমারতো আর কিছুই ভালো লাগছে না। তবেতো আম্মার কথাটাই ঠিক ‘ বাবা মা’র বয়স বাড়ে না কখনও। বাবা মা ক্রমাগত কেবল ছোটই হতে থাকে। ছোট হতে হতে একদম শিশু হয়ে যায়। পৃথিবীর সকল বাবা মা একদিন অনেক বেশি অবুঝ হয়ে যায়। তাদের সেই খাঁটি অবুঝপনা কেউ চেয়ে দেখে না। সন্তানেরা নিজেদের সাম্রাজ্য সাজাতে থাকে। আর বাবা মা অবুঝ হতে হতে বড়বেশি নিঃসঙ্গই হয়ে যায়।

Ittadi

Posted by Nipunservices on August 4, 2013 at 2:30 PM Comments comments (0)

:::: বন্ধু দিবস কিভাবে এলো::::

.

প্রতি বছর আগস্ট মাসের প্রথম রোববারে সারা বিশ্বজুড়ে বন্ধু দিবস পালন করা হয় ।

... কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না বন্ধু দিবস কিভাবে এলো। ১৯৩৫ সাল থেকেই বন্ধু দিবস পালনের প্রথা চলে আসছে আমেরিকাতে। জানা যায় ১৯৩৫ সালে আমেরিকার সরকার এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। দিনটি ছিল আগস্টের প্রথম শনিবার। তার প্রতিবাদে পরের দিন ওই ব্যক্তির এক বন্ধু আত্মহত্যা করেন।

.

এরপরই জীবনের নানা ক্ষেত্রে বন্ধুদের অবদান আর তাদের প্রতি সম্মান জানানোর লক্ষেই আমেরিকান কংগ্রেসে ১৯৩৫

সালে আগস্টেরপ্রথম রোববারকে বন্ধু দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেন। আর বর্তমানে এটি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে বিশ্বের বহু দেশেই।

.

যাদেরপ্রতি মুহূর্তের সঙ্গী বন্ধু আর বন্ধুতা, তারা একমুহূর্তেও জন্যও মন থেকে আড়াল করতে পারেন না বন্ধুদের। জীবনের

সংকটে এরা ছুটে যান বন্ধুদের কাছে। আবারআনন্দ, উল্লাস কিংবা দিন শেষের অবসরেওএরা ভালোবাসেন বন্ধুত্বের কলতান শুনতে। বন্ধুত্বের পরিপূরক সম্পর্কের মাঝে এরা খুঁজে পান জীবনযাপনের ভিন্ন রস।

.

বন্ধু দিবসে বিশ্বের সকল বন্ধুদের জানাই শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা

Momotaz Begum

Posted by Videographer on August 1, 2013 at 11:05 PM Comments comments (0)

বিজয়! কীসের বিজয়? কার বিজয়? ক্রোধে, ক্ষোভ, অভিমানে জলভর্তি চোখ মুছতে মুছতে বাংলানিউজের মাধ্যমে জাতির কাছে জানতে চাইলেন ‘৭১-এর ‘বীরাঙ্গনা’ মমতাজ বেগম।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে আসন্নপ্রসবা মমতাজ বেগমের পেটে থাকা ৯ মাসের শিশু হয়েছে খুন। সম্ভ্রম হয়েছে লুট। আর ক্ষতবিক্ষত প্রজনন অঙ্গ ও পায়ুনালী হয়েছে চিরতরে বিকলাঙ্গ। অনাহার আর অর্ধাহারকে সঙ্গী করে পেটের মধ্যে লাগানো কৃত্রিম পায়ুনালীর অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মমতাজ বেগম পার করেছেন ৪০টি বছর। আরও কত যে করবেন, তা তার জানা নেই!

তাই, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসটি আসে মমতাজের জীবনের এক দুর্বিসহ স্মৃতির বোঝা নিয়ে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঝড়ো হাওয়া তার জীবনটি ওলটপালট করে দিয়ে যায়। প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যায় তার জীবনের সব স্বপ্ন-সাধ-আহ্লাদ।

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের নিরব সাক্ষী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার ‘বীরাঙ্গনা’ মমতাজের কাহিনী জানতে হলে যেতে হবে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গার লতিফপুর তালতলা গ্রামে।

এখানে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ঘেঁষা লতিফপুর গ্রামের মেয়ে মমতাজ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মমতাজের বয়স ছিল ১৭ বছর। তখন তিনি ছিলেন ২ কন্যা সন্তানের জননী। মাত্র ১০ বছর বয়সে মমতাজের বিয়ে হয় একই গ্রামের দরিদ্র কৃষিশ্রমিক কাছম আলী মোড়লের ১১ বছরের ছেলে রমিজ উদ্দিন মোড়লের সঙ্গে।

‘ছোট বলে আড়াই বছর পর রমিজ আমাকে তার ঘরে তোলেন। রমিজ আর আমি আমাদের ২ কন্যাশিশুকে নিয়ে একরকম সুখেই ছিলাম। সংসারে অভাব ছিল। কিন্তু, নারকেল-সুপারি বাগানে ঘেরা ছোট্ট ঘরে আমাদের কোনো অশান্তি ছিল না’- বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মমতাজ।

তখন ১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ চলছে। আলাদা যুদ্ধ ক্ষেত্র বলতে কিছু ছিল না। সারা দেশই তখন রণাঙ্গন। শহর, গ্রামগঞ্জ, সর্বত্রই যুদ্ধ চলছে পাকিস্তানি খান সেনাদের সঙ্গে। স্বাধীনতার সৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় দিশেহারা পাকিস্তানি সেনা আর তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটির সদস্যরা নির্মম আক্রোশে এ দেশের নারী-পুরুষকে শুধুমাত্র নির্বিচারে হত্যাই করেনি, জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে তারা নারীদের শ্লীলতাহানিও শুরু করে। এমনি এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হন মমতাজ।

সেই ভয়ঙ্কর দিনটির কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে মমতাজের। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ৭ জুন। চাঁটাইয়ের বেড়া আর ছনের ছাউনির ঘর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি খান সেনারা।

বন্দুকের মুখে তাকে নিয়ে যায় পাশের এক সেতুর কাছে। তখন তিনি ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দল বেঁধে নরপিশাচের দল তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। শত অনুনয়, বিনয় কোনো কিছুই তাদের সহানুভূতি কাড়তে পারেনি।

পালাক্রমে ধর্ষণ করার পর তার কী হয়েছে, তা আর কিছুই মনে নেই মমতাজের। শাশুড়ির আহাজারিতে যখন জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে দেখতে পান বাড়ির উঠোনে চাটাইর ওপর শুয়ে আছেন। ছোপ ছোপ রক্তাক্ত শরীরকে তিনি আর নড়াতে পারছিলেন না। অসহ্য যন্ত্রণায় বুকের নিচ থেকে শরীরটি তখন অবশ হয়ে গেছে।

চোখ মেলে দেখেন তার স্বামী রমিজ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন। কারো কারো চোখে পানি। আর শাশুড়ি তখন বুক চাপড়িয়ে বিলাপ করছেন, ‘হতভাগী তুই মরলি না ক্যান, অহন তোরে লইয়া আমরা কি করমু? কই যামু ক?’ আবার জ্ঞান হারান মমতাজ।

পরে প্রতিবেশী কয়েকজন নারী মমতাজের গর্ভ থেকে টেনে টেনে বের করে আনেন এক মৃত পুত্র সন্তান। কিন্তু, শিশুটির দেহের একটা অংশ থেকে যায় পেটের ভেতরেই। ক্ষত-বিক্ষত পায়ুনালী আর যৌনাঙ্গ দুটি তখন একাকার হয়ে গেছে!

এই দুঃস্বপ্ন তিনি গত ৪০ বছর ধরে দেখছেন। তার মনে হয়, শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। এক মুহূর্তের জন্যও পবিত্র রাখতে পারেননি তার শরীর। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে এতগুলো বছর কেটে গেছে তার। সে কথাই বলছিলেন তিনি বাংলানিউজের কাছে।

মমতাজ জানালেন, ‘একটি রাতের জন্যও ঘুমাতে পারিনি। কানে শুনি না। ঝাঁপসা হয়ে গেছে চোখ। কোনো কাজ করতে পারি না।’

একাত্তুরের সেই দিনগুলির কথা মনে করে মমতাজ বেগম জানান, সারাদিন অন্যের বাড়িতে কৃষি কাজ করে এসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্বামী রমিজ উদ্দিন শীতলক্ষ্যার জলে তার রক্তাক্ত জামা কাপড় ধুয়ে দেন। ইচ্ছে করলে তিনি তখনই মমতাজকে ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু, ভালোবাসার এই মানুষটিকে বুকে আগলে রাখেন রমিজ।

কৃষিশ্রমিক রমিজ উদ্দিন গরিব হলেও স্ত্রীকে তিনি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। আজও সেই বন্ধন রয়েছে অটুট! মহৎপ্রাণের অধিকারী রমিজ উদ্দিনের নিজস্ব জমি বলতে তেমন কিছুই নেই। যা আছে, তা বিক্রি করে এবং হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকা দিয়ে গত ৪০ বছর ধরে স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা করে চলেছেন তিনি।

নির্যাতনে মমতাজের পায়ুনালী ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে স্থায়ীভাবে। তাকে ৫ বার অপারেশন করেও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিকল্পভাবে তলপেটে পায়ুনালী স্থাপন করে কৃত্রিম পাইপ দিয়ে মলত্যাগ করছেন ৪০ বছর।

কিন্তু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের দলিলপত্রে মমতাজের ঠাঁই হয়নি কোথাও। কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদও ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি তাকে। কারণ, অভিশপ্ত জীবনের গ্লানি আর বোঝা বয়ে বেড়ানো নিরক্ষর মমতাজের সাধ্যে কুলায়নি কোনো তদবির করার।

বিজয় দিবস আসে আর যায়! স্বাধীনতা দিবস আসে আর যায়! কিন্তু মমমতাজের খবর নেয় না কেউ! ৪০ বছরে মাত্র ২ বার উপজেলার পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের দাওয়াত পেয়েছেন বলে জানান মমতাজ।

২০০৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা ফেরদৌস তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওনা বলতে এটুকুই পেয়েছেন বলে জানান।

বয়েসের ভারে নুয়ে পড়া মমতাজকে এখনও প্রতিদিন প্রায় ২শ টাকার ওষুধ খেতে হয়। বৃদ্ধ স্বামীকে অতিকষ্টে জোগাড় করতে হয় এই টাকা। ওষুধের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে প্রায়ই উপোস থাকতে হয় মমতাজ দম্পতিকে।

গ্লানিকর জীবনের এই যন্ত্রণাদগ্ধ বোঝা আর সইতে পারছেন না তিনি! বেঁচে থাকার আর ইচ্ছাও তার মধ্যে কাজ করে না বলে জানান মমতাজ।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার আর কিছুই চাওয়ার নেই বলে জানান বাংলানিউজকে। এখন শুধু একটাই চাওয়া, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেন অন্তত একটিবার এসে তাকে দেখে যান। এটাই তার জীবনের অন্তিম চাওয়া। সে চাওয়া কি তার পূরণ হবে না? তা-ও জানতে চান তিনি

বিজয়! কীসের বিজয়? কার বিজয়? ক্রোধে, ক্ষোভ, অভিমানে জলভর্তি চোখ মুছতে মুছতে বাংলানিউজের মাধ্যমে জাতির কাছে জানতে চাইলেন ‘৭১-এর ‘বীরাঙ্গনা’ মমতাজ বেগম।

.

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের মূল্য পরিশোধ করতে গিয়ে আসন্নপ্রসবা মমতাজ বেগমের পেটে থাকা ৯ মাসের শিশু হয়েছে খুন। সম্ভ্রম হয়েছে লুট। আর ক্ষতবিক্ষত প্রজনন অঙ্গ ও পায়ুনালী হয়েছে চিরতরে বিকলাঙ্গ। অনাহার আর অর্ধাহারকে সঙ্গী করে পেটের মধ্যে লাগানো কৃত্রিম পায়ুনালীর অসহ্য যন্ত্রণা নিয়ে মমতাজ বেগম পার করেছেন ৪০টি বছর। আরও কত যে করবেন, তা তার জানা নেই!

.

তাই, প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসটি আসে মমতাজের জীবনের এক দুর্বিসহ স্মৃতির বোঝা নিয়ে। আজ থেকে ৪০ বছর আগে স্বাধীনতা যুদ্ধের ঝড়ো হাওয়া তার জীবনটি ওলটপালট করে দিয়ে যায়। প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই ঝরে যায় তার জীবনের সব স্বপ্ন-সাধ-আহ্লাদ।

.

আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের নিরব সাক্ষী অমানুষিক নির্যাতনের শিকার ‘বীরাঙ্গনা’ মমতাজের কাহিনী জানতে হলে যেতে হবে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গার লতিফপুর তালতলা গ্রামে।

.

এখানে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ঘেঁষা লতিফপুর গ্রামের মেয়ে মমতাজ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মমতাজের বয়স ছিল ১৭ বছর। তখন তিনি ছিলেন ২ কন্যা সন্তানের জননী। মাত্র ১০ বছর বয়সে মমতাজের বিয়ে হয় একই গ্রামের দরিদ্র কৃষিশ্রমিক কাছম আলী মোড়লের ১১ বছরের ছেলে রমিজ উদ্দিন মোড়লের সঙ্গে।

.

‘ছোট বলে আড়াই বছর পর রমিজ আমাকে তার ঘরে তোলেন। রমিজ আর আমি আমাদের ২ কন্যাশিশুকে নিয়ে একরকম সুখেই ছিলাম। সংসারে অভাব ছিল। কিন্তু, নারকেল-সুপারি বাগানে ঘেরা ছোট্ট ঘরে আমাদের কোনো অশান্তি ছিল না’- বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন মমতাজ।

.

তখন ১৯৭১ সাল। মুক্তিযুদ্ধ চলছে। আলাদা যুদ্ধ ক্ষেত্র বলতে কিছু ছিল না। সারা দেশই তখন রণাঙ্গন। শহর, গ্রামগঞ্জ, সর্বত্রই যুদ্ধ চলছে পাকিস্তানি খান সেনাদের সঙ্গে। স্বাধীনতার সৈনিক মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা হামলায় দিশেহারা পাকিস্তানি সেনা আর তাদের দোসর রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তিকমিটির সদস্যরা নির্মম আক্রোশে এ দেশের নারী-পুরুষকে শুধুমাত্র নির্বিচারে হত্যাই করেনি, জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের অংশ হিসেবে তারা নারীদের শ্লীলতাহানিও শুরু করে। এমনি এক নির্মম ও হৃদয়বিদারক ঘটনার শিকার হন মমতাজ।

.

সেই ভয়ঙ্কর দিনটির কথা আজও স্পষ্ট মনে আছে মমতাজের। দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ৭ জুন। চাঁটাইয়ের বেড়া আর ছনের ছাউনির ঘর থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায় পাকিস্তানি খান সেনারা।

.

বন্দুকের মুখে তাকে নিয়ে যায় পাশের এক সেতুর কাছে। তখন তিনি ছিলেন ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। দল বেঁধে নরপিশাচের দল তার ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায়। শত অনুনয়, বিনয় কোনো কিছুই তাদের সহানুভূতি কাড়তে পারেনি।

.

পালাক্রমে ধর্ষণ করার পর তার কী হয়েছে, তা আর কিছুই মনে নেই মমতাজের। শাশুড়ির আহাজারিতে যখন জ্ঞান ফেরে, তখন তিনি নিজেকে দেখতে পান বাড়ির উঠোনে চাটাইর ওপর শুয়ে আছেন। ছোপ ছোপ রক্তাক্ত শরীরকে তিনি আর নড়াতে পারছিলেন না। অসহ্য যন্ত্রণায় বুকের নিচ থেকে শরীরটি তখন অবশ হয়ে গেছে।

.

চোখ মেলে দেখেন তার স্বামী রমিজ ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছেন। কারো কারো চোখে পানি। আর শাশুড়ি তখন বুক চাপড়িয়ে বিলাপ করছেন, ‘হতভাগী তুই মরলি না ক্যান, অহন তোরে লইয়া আমরা কি করমু? কই যামু ক?’ আবার জ্ঞান হারান মমতাজ।.

.

পরে প্রতিবেশী কয়েকজন নারী মমতাজের গর্ভ থেকে টেনে টেনে বের করে আনেন এক মৃত পুত্র সন্তান। কিন্তু, শিশুটির দেহের একটা অংশ থেকে যায় পেটের ভেতরেই। ক্ষত-বিক্ষত পায়ুনালী আর যৌনাঙ্গ দুটি তখন একাকার হয়ে গেছে!

.

এই দুঃস্বপ্ন তিনি গত ৪০ বছর ধরে দেখছেন। তার মনে হয়, শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। এক মুহূর্তের জন্যও পবিত্র রাখতে পারেননি তার শরীর। অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করে এতগুলো বছর কেটে গেছে তার। সে কথাই বলছিলেন তিনি বাংলানিউজের কাছে।

.

মমতাজ জানালেন, ‘একটি রাতের জন্যও ঘুমাতে পারিনি। কানে শুনি না। ঝাঁপসা হয়ে গেছে চোখ। কোনো কাজ করতে পারি না।’

.

একাত্তুরের সেই দিনগুলির কথা মনে করে মমতাজ বেগম জানান, সারাদিন অন্যের বাড়িতে কৃষি কাজ করে এসে প্রতিদিন সন্ধ্যায় স্বামী রমিজ উদ্দিন শীতলক্ষ্যার জলে তার রক্তাক্ত জামা কাপড় ধুয়ে দেন। ইচ্ছে করলে তিনি তখনই মমতাজকে ছেড়ে দিতে পারতেন। কিন্তু, ভালোবাসার এই মানুষটিকে বুকে আগলে রাখেন রমিজ।

.

কৃষিশ্রমিক রমিজ উদ্দিন গরিব হলেও স্ত্রীকে তিনি প্রাণের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন। আজও সেই বন্ধন রয়েছে অটুট! মহৎপ্রাণের অধিকারী রমিজ উদ্দিনের নিজস্ব জমি বলতে তেমন কিছুই নেই। যা আছে, তা বিক্রি করে এবং হাড়ভাঙা পরিশ্রমের টাকা দিয়ে গত ৪০ বছর ধরে স্ত্রীর চিকিৎসাসেবা করে চলেছেন তিনি।

.

নির্যাতনে মমতাজের পায়ুনালী ও যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত এবং ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে স্থায়ীভাবে। তাকে ৫ বার অপারেশন করেও সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। বিকল্পভাবে তলপেটে পায়ুনালী স্থাপন করে কৃত্রিম পাইপ দিয়ে মলত্যাগ করছেন ৪০ বছর।

.

কিন্তু, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসের দলিলপত্রে মমতাজের ঠাঁই হয়নি কোথাও। কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদও ‘বীরাঙ্গনা’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি তাকে। কারণ, অভিশপ্ত জীবনের গ্লানি আর বোঝা বয়ে বেড়ানো নিরক্ষর মমতাজের সাধ্যে কুলায়নি কোনো তদবির করার।

.

বিজয় দিবস আসে আর যায়! স্বাধীনতা দিবস আসে আর যায়! কিন্তু মমমতাজের খবর নেয় না কেউ! ৪০ বছরে মাত্র ২ বার উপজেলার পক্ষ থেকে বিজয় দিবসের দাওয়াত পেয়েছেন বলে জানান মমতাজ।

.

২০০৬ সালে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাশিদা ফেরদৌস তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন বলে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি। রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওনা বলতে এটুকুই পেয়েছেন বলে জানান।

.

বয়েসের ভারে নুয়ে পড়া মমতাজকে এখনও প্রতিদিন প্রায় ২শ টাকার ওষুধ খেতে হয়। বৃদ্ধ স্বামীকে অতিকষ্টে জোগাড় করতে হয় এই টাকা। ওষুধের খরচ জোগাড় করতে গিয়ে প্রায়ই উপোস থাকতে হয় মমতাজ দম্পতিকে।

.

গ্লানিকর জীবনের এই যন্ত্রণাদগ্ধ বোঝা আর সইতে পারছেন না তিনি! বেঁচে থাকার আর ইচ্ছাও তার মধ্যে কাজ করে না বলে জানান মমতাজ।

.

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তার আর কিছুই চাওয়ার নেই বলে জানান বাংলানিউজকে। এখন শুধু একটাই চাওয়া, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেন অন্তত একটিবার এসে তাকে দেখে যান। এটাই তার জীবনের অন্তিম চাওয়া। সে চাওয়া কি তার পূরণ হবে না? তা-ও জানতে চান তিনি

Ittadi + Digital Bangladesh

Posted by Nipunservices on July 31, 2013 at 3:20 PM Comments comments (0)

 

খুব ছোট্ট এক ছেলে প্রচন্ড রাগী ছিলো। তার বাবা তাকে একটা পেরেক ভর্তি ব্যাগ দিল এবং বললো যে, যতবার তুমি রেগে যাবে ততবার একটা করে পেরেক আমাদের বাগানের কাঠের বেড়াতে লাগিয়ে আসবে।

.

প্রথমদিনেই ছেলেটিকে বাগানে গিয়ে ৩৭ টি পেরেক মারতে হলো। পরের কয়েক সপ্তাহে ছেলেটি তার রাগকে কিছুটা নিয়ন্ত্রনে আনতে পারলো তাই ... প্রতিদিন কাঠে নতুন পেরেকের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমে এলো।

.

সে বুঝতে পারলো হাতুড়ী দিয়ে কাঠের বেড়ায় পেরেক বসানোর চেয়ে তার রাগকে নিয়ন্ত্রন করা অনেক বেশি সহজ। শেষ পর্যন্ত সেই দিনটি এলো যেদিন তাকে একটি পেরেকও মারতে হলো না। সে তার বাবাকে এই কথা জানালো।

.

তারা বাবা তাকে বললো, এখন তুমি যেসব দিনে তোমার রাগকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রন করতে পারবে সেসব দিনে একটি একটি করে পেরেক খুলে ফেলো। অনেক দিন চলে গেল এবং ছেলেটি একদিন তার বাবাকে জানালো যে সব পেরেকই সে খুলে ফেলতে সক্ষম হয়েছে।

.

তার বাবা এবার তাকে নিয়ে বাগানে গেল এবং কাঠের বেড়াটি দেখিয়ে বললো, 'তুমি খুব ভাল ভাবে তোমার কাজ সম্পন্ন করেছো, এখন তুমি তোমার রাগকে নিয়ন্ত্রন করতে পারো কিন্তু দেখো, প্রতিটা কাঠে পেরেকের গর্ত গুলো এখনো রয়ে গিয়েছে। কাঠের বেড়াটি কখনো আগের অবস্থায় ফিরে যাবে না। যখন তুমি কাউকে রেগে গিয়ে কিছু বলো তখন তার মনে ঠিক এমন একটা আচড় পরে যায়। তাই নিজের রাগতে নিয়ন্ত্রন করতে শেখো। মানসিক ক্ষত অনেক সময় শারীরিক ক্ষতের চেয়েও অনেক বেশি ভয়ংকর।"

Old home

Posted by Nipunservices on July 30, 2013 at 3:40 PM Comments comments (0)

ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্লাটে যায়না দেখা এপার-ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামি দামি, সবচেয়ে কম দামি ছিলাম শুধু একমাত্র আমি। ছেলে আমার, আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম,

আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম।

check the video:

http://www.nipunservices.com/apps/videos/videos/show/18095348-bridhasrom-old-home

Chobir moto Desh

Posted by Nipunservices on July 30, 2013 at 1:40 PM Comments comments (0)

'বাহাউদ্দিন' নামের এক সত্যিকারের অ্যাকশন হিরোর গল্প শুনুন ! ! ! 

গল্পটি এক নবম শ্রেণী পড়ুয়া কিশোরের। নাম তার বাহাউদ্দিন রেজা।
বসত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। যুদ্ধ শুরু হলে বাহাউদ্দিনও যোগ দিল
মুক্তিবাহিনীতে। তার অবশ্য মুক্তিবাহিনীতে যোগ
দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ, ও যে আগেই চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে অস্ত্র লুট করে এনেছিল!

কাঁঠালিয়া ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও নেমে পড়লো যুদ্ধে। আটজনের
একটি গ্রুপের গ্রুপ কমান্ডার ও নিজেই। ওদের টার্গেট- স্থানীয় কমার্স
ব্যাংকে গেরিলা হামলা চালানো। একটা নৌকায় করে ওরা পার
হলো গোমতী নদী। মাঝিও ওদেরই লোক। আটজনের দল ভাগ
হয়ে গেলো চারটি ছোট দলে। প্রতি দলের একজনের কাছে শুধু
গ্রেনেড, আরেকজনের কাছে পিস্তল আর গ্রেনেড। বাহাউদ্দিনের কছে একটি পিস্তল আর দু’টি গ্রেনেড।

সকাল সাড়ে দশটায় ওরা ঢুকলো কমার্স ব্যাংকে। বাহাউদ্দীন ঢুকেই
ছুঁড়ে মারলো তার হাতের গ্রেনেডটি। প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হলো।
কিন্তু ও নিজেও তো ব্যাংকের ভেতরে। স্পিন্টার এসে বিঁধলো ওর
গায়েও। আহত হয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে পড়লো ও।
পট্টি বেঁধে রক্ত ঝরা একরকম বন্ধ
করে দৌড়োতে লাগলো খেয়াঘাটের দিকে।

কিন্তু বিধি বাম। রাস্তায় মুখোমুখি হয়ে গেলো এক রাজাকারের
সঙ্গে। সে খবর পেয়েছে কমার্স ব্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর
বাহাউদ্দিনের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে দেখে বললো, ও নিশ্চয়ই
বোমা ফাটিয়েছে। বাহাউদ্দিন কিছুই বললো না, ঠাণ্ডা মাথায় পাশের
ধানখেতে নেমে আঁজলা ভরে পানি দিলো মুখে। রাজাকারটার সন্দেহ
তাতে আরো বেড়ে গেলো। এগিয়ে এসে কলার ধরে বসলো। আর যায় কোথায়, এক লাথিতে রাজাকারটাকে ধান
ক্ষেতেফেলে দিলো বাহাউদ্দিন। তারপর পকেট থেকে পিস্তল বের
করেই- দুম!

এরপর আবার ছুট। একছুটে খেয়াঘাটে। আবারও রাজাকারের
সামনে পড়তে চায় না বাহাউদ্দিন। মাঝিও তাড়াতাড়ি ওকে গোমতী পার
করে পৌঁছে দিল হাসপাতালে। আর সেই হাসপাতাল পরিদর্শনে সেদিন
কে এসেছিলেন জানো? আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু,
ভারতের সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সব
শুনে তো তিনি যাকে বলে রীতিমতো হতভম্ব! এইটুকুন একটা ছেলে, সে কিনা এত্তো বড়ো একটা কাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে!

 

 

'বাহাউদ্দিন' নামের এক সত্যিকারের অ্যাকশন হিরোর গল্প শুনুন ! ! !

.

গল্পটি এক নবম শ্রেণী পড়ুয়া কিশোরের। নাম তার বাহাউদ্দিন রেজা। বসত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। যুদ্ধ শুরু হলে বাহাউদ্দিনও যোগ দিল মুক্তিবাহিনীতে। তার অবশ্য মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিতে কোনো সমস্যা হয়নি। কারণ, ও যে আগেই চৌদ্দগ্রাম থানা থেকে অস্ত্র লুট করে এনেছিল!

.

কাঁঠালিয়া ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে ও নেমে পড়লো যুদ্ধে। আটজনের একটি গ্রুপের গ্রুপ কমান্ডার ও নিজেই। ওদের টার্গেট- স্থানীয় কমার্স ব্যাংকে গেরিলা হামলা চালানো। একটা নৌকায় করে ওরা পার হলো গোমতী নদী। মাঝিও ওদেরই লোক। আটজনের দল ভাগ হয়ে গেলো চারটি ছোট দলে। প্রতি দলের একজনের কাছে শুধু গ্রেনেড, আরেকজনের কাছে পিস্তল আর গ্রেনেড। বাহাউদ্দিনের কছে একটি পিস্তল আর দু’টি গ্রেনেড।

.

সকাল সাড়ে দশটায় ওরা ঢুকলো কমার্স ব্যাংকে। বাহাউদ্দীন ঢুকেই ছুঁড়ে মারলো তার হাতের গ্রেনেডটি। প্রচণ্ড শব্দে বিস্ফোরণ হলো। কিন্তু ও নিজেও তো ব্যাংকের ভেতরে। স্পিন্টার এসে বিঁধলো ওর গায়েও। আহত হয়ে দ্রুত ব্যাংক থেকে বেরিয়ে পড়লো ও। পট্টি বেঁধে রক্ত ঝরা একরকম বন্ধ করে দৌড়োতে লাগলো খেয়াঘাটের দিকে।

.

কিন্তু বিধি বাম। রাস্তায় মুখোমুখি হয়ে গেলো এক রাজাকারের সঙ্গে। সে খবর পেয়েছে কমার্স ব্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটেছে। আর বাহাউদ্দিনের শরীর থেকে রক্ত ঝরছে দেখে বললো, ও নিশ্চয়ই বোমা ফাটিয়েছে। বাহাউদ্দিন কিছুই বললো না, ঠাণ্ডা মাথায় পাশের ধানখেতে নেমে আঁজলা ভরে পানি দিলো মুখে। রাজাকারটার সন্দেহ তাতে আরো বেড়ে গেলো। এগিয়ে এসে কলার ধরে বসলো। আর যায় কোথায়, এক লাথিতে রাজাকারটাকে ধান ক্ষেতেফেলে দিলো বাহাউদ্দিন। তারপর পকেট থেকে পিস্তল বের করেই- দুম!

.

এরপর আবার ছুট। একছুটে খেয়াঘাটে। আবারও রাজাকারের সামনে পড়তে চায় না বাহাউদ্দিন। মাঝিও তাড়াতাড়ি ওকে গোমতী পার করে পৌঁছে দিল হাসপাতালে। আর সেই হাসপাতাল পরিদর্শনে সেদিন কে এসেছিলেন জানো? আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অকৃত্রিম বন্ধু, ভারতের সেই সময়ের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সব শুনে তো তিনি যাকে বলে রীতিমতো হতভম্ব! এইটুকুন একটা ছেলে, সে কিনা এত্তো বড়ো একটা কাণ্ড ঘটিয়ে এসেছে!

 

Fahad Alam

Posted by Nipunservices on July 25, 2013 at 11:15 AM Comments comments (0)

 

এই মানুষগুলোর জন্য খুব দামী কোন টি শার্ট কিংবা জুতা কিনতে হয় না। লাগেনা কোন ব্র্যান্ড। শুধু লাগে একটু ভালোবাসা মাখানো টি শার্ট কিংবা একটু বন্ধুত্ব মাখানো জুতা।

.

আমার একটা বন্ধু আছে যে কখনো রিক্সা চালায়, কখনো ট্রাকের হেল্পারি করে, কখনো হোটেলে মেসিয়ার হিসেবে কাজ করে। জি হ্যা, আমার সব কোয়ালিটির লোকের সাথেই মেলামেশা আছে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নাই। ঘটনা সেটা না, ঘটনা হইলো প্রত্যেকবার রমজানে দুই তিনটা রোজা যাইতেই সে আমারে ফোন দেয়। ফোন দিয়ে বলে বাসায় আসার সময় আমার জন্য এক জোড়া জুতা নিয়ে আসিস কিংবা বাসায় আসার সময় আমার জন্য একটা গেঞ্জি (টি শার্ট নিয়ে আসিস। প্রত্যেকবারই অবশ্য তার হাতে তার জিনিস দেওয়ার পর সে আমারে জিজ্ঞেস করে কতো দাম হইছে? আমি বলি দাম দিয়ে কি করবি? কম দাম হলে ফালাইয়ে দিবি? সে আমারে বলে আরে পাগল তোর টাকাটা দেওয়া লাগবে না? তুই তো ইনকাম করিস না। আমি উদাস হয়ে বলি কতো দাম নিছে সেটা তো ভুলে গেলাম দোস্ত, মনে পড়লে জানাবো। আমার আর মনে পড়েনা।

.

আমার বাসা থেকে আমি ঈদের মার্কেট করার জন্য খুবই সামান্য কিছু টাকা পাই। এই সামান্য টাকা দিয়ে আমি কি কিনবো তার একটা হিসাব করি, হিসাবের শুরুতেই সেই বন্ধুর জন্য কিছু টাকা বরাদ্দ রাখি। গতবার ঈদে আমি কিছুই নেই নাই, কিন্তু তার জন্য ঠিকই একটা টি শার্ট নিয়ে গেছিলাম। বেশ কিছু সমস্যার জন্য এইবার ঈদে আমি বাসা থেকে কোন টাকাই নিবো না তারপরও তার হিসাব টা আমার মাথার মধ্যে ছিলো। আজ দুপুরে সে আমাকে ফোন দিছে, ফোন রিসিভ করে তার কণ্ঠ পাইতেই বুঝলাম কি জন্য ফোন দিছে। সে কিছু জিজ্ঞেস করার আগেই বললাম কি নিয়ে যাবো? গেঞ্জি নাকি জুতা? সে একটু লজ্জিত হাসি দিয়ে বলল জুতা নিয়ে আসিস।

.

এখন বলি এতক্ষণ কেনো এই কথাগুলো বললাম। না, নিজেরে দাতা হাতেম প্রমানের জন্য বলিনাই। বললাম তার পিছে কিছু কারন আছে। কারনগুলো হল এই মানুষগুলোর জন্য খুব দামী কোন টি শার্ট কিংবা জুতা কিনতে হয় না। লাগেনা কোন ব্র্যান্ড। শুধু লাগে একটু ভালোবাসা মাখানো টি শার্ট কিংবা একটু বন্ধুত্ব মাখানো জুতা। এতে তারা কি পরিমাণ খুশি হয় সেটা কল্পনাও করা যাবেনা। আমি যখন তাকে সেই টি শার্ট কিংবা জুতা দেই সে লুকিয়ে লুকিয়ে সেটা তার বাসায় নিয়ে যায়। তারপর ঈদের দিন সেটা পরিধান করে আর সামনে যারে পায় তারেই বলে দেখ তো কেমন লাগে এই গেঞ্জি কিংবা কেমন লাগে এই জুতা? যাকে জিজ্ঞেস করে তার উত্তরের অপেক্ষা না করেই আবার বলতে শুরু করে এইটা ফাহাদ আইনা দিছে। যারে সামনে পায় তারেই বলে। সারা এলাকা বলে বেড়ায়। পরবর্তী ঈদ পর্যন্ত তার মুখে থাকে সেই গল্প। আমি কতোটা খারাপ সেটা নিয়েও তার আক্ষেপ থাকে কারন আমি টাকা নেই না। অথচ আমি খুব স্পষ্টভাবে অনুভব করতে পারি তার সেই আক্ষেপের মাঝে লুকিয়ে আছে এক বিশাল কৃতজ্ঞতা। কৃতজ্ঞতা লুকিয়ে থাকলেও ভালোবাসা লুকিয়ে রাখেনা সে। এই কম দামী এক টি শার্ট কিংবা এক জুতার বিনিময়ে সারা বছর সে আমার জন্য জীবন দিতেও প্রস্তুত। আমার কোন বিপদে চোখ বন্ধ করে ঝাঁপিয়ে পড়তে প্রস্তুত। এটাই ভালোবাসা। এই ঝরে পরা কৃতজ্ঞতা কিংবা এই ফুপিয়ে ওঠা ভালোবাসার জন্য শুধু একটা টি শার্ট কিংবা জুতা কেনো আমার সামর্থ্য থাকলে আমি তার সামনে টি শার্ট আর জুতার ফ্যাক্টরী হাজির করতাম। এই দুর্মূল্যের বাজারে যে এত কম টাকায় এত খাঁটি কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা পাওয়া বড়ই কঠিন।

.

ভালো কথা, একটু লক্ষ্য করে দেখুন আপনার আশে পাশেও এমন কাউকে পাবেন যাকে এই ঈদে সামান্য একটা জামা কিংবা এক জোড়া জুতা দিয়ে আদায় করে নিতে পারবেন সারা বছরের ভালোবাসা।

Mehzabin

Posted by Nipunservices on July 24, 2013 at 11:05 AM Comments comments (0)

"এই পৃথিবী কখনো খারাপ মানুষের খারাপ কর্মের জন্য ধ্বংস হবে না। যারা খারাপ মানুষের খারাপ কর্ম দেখেও কিছু করেনা তাদের জন্যই পৃথিবী ধ্বংস হবে॥ ” —আইনস্টাইন।

Nizam Uddin

Posted by Nipunservices on July 22, 2013 at 9:35 AM Comments comments (0)

কর্নেল তাহের: নিঃশঙ্ক চিত্তের বাঁশিওয়ালা


সাঁইত্রিশ বছর আগের এক ২১ জুলাই ভোর চারটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো বীরউত্তম খচিত একজন মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহেরকে। তাঁর অপরাধ ছিলো মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে তিনি আরও সম্প্রসারিত করতে চেয়েছিলেন শোষণমুক্তির দিকে। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাতৃভূমি স্বাধীন করার স্বপ্ন, সমাজ-বদলের স্বপ্ন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়বার স্বপ্ন, সোনার বাংলা কায়েমের স্বপ্ন। সেইসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি এগিয়ে গেছেন সাহস ও সংকল্প নিয়ে। স্বপ্ন পূরণে নির্ভিক চিত্তে জীবন দিয়েছেন, কিন্তু মৃত্যু তাঁকে পরাভূত করতে পারেনি, বরং মৃত্যুকে জয় করার মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সোনার বাংলা গড়তে হলে’ নামের একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধে কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম সোনার বাংলার একটি ছবি উপস্থাপন করেছিলেন। তাঁর আঁকা চিত্রের মূল উপজীব্য নদী ও মানুষ। সোনার বাংলার রূপ-কল্পটি তিনি শেষ করেছেন এই বলে- ‘নদীর বাঁধের উপর গড়ে ওঠা বাংলার এ জনপদ একটি নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির অধিকারী। সুশৃঙ্খল এই জনপদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি প্রেরণা দেয় সমগ্র পৃথিবীকে”। 
কর্নেল তাহেরের জীবন ও কর্ম পাঠে আমরা জানতে পারি, প্রচলিত কায়দায় সামরিক চিন্তাভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন এবং তার পাল্টা কাঠামোকে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিকভাবে দেখা ও প্রতিষ্ঠা করাই ছিলো তাহেরের মনোযোগের কেন্দ্রীয় বিষয়। তিনি সবসময়ই বলেছেন- তাঁর চিন্তার সামরিক সংগঠন প্রক্রিয়ার মূল নীতি ছিলো ‘উৎপাদনমুখী সেনাবাহিনী’। তিনি চেয়েছিলেন, সেনাবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শ্রমিক-কৃষকের সঙ্গে উৎপাদনে অংশগ্রহণ করুক। 
মূল বিষয়টি হলো কর্নেল তাহের একটি সামগ্রিক সত্তাকে বুকের গভীরে লালন করেছেন সুযতনে। বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই চারপাশে নানা মত, নানা পথ। কিন্তু মূল যে কেন্দ্র, যেখানে শিশিরের শব্দের মতোন জমে আছে বাংলার মানুষের প্রাণের স্পন্দন, সেই মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে যখন দ্বিমত লক্ষ্য করি, তখন আমরা যারপরনাই বিস্মিত হই। আমরা যাঁরা নতুন প্রজন্ম, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে এসেছে গ্রন্থ-চলচ্চিত্র-চিত্রশিল্প ইত্যাদির মাধ্যমে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের কাছে এক সূর্যমুখী সত্তার নব-উদ্বোধনের ইতিহাস। কীভাবে একটি জাতি সব বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে নির্ভীক চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতার জন্যে, তা একাত্তরের ইতিহাস পাঠ না করলে বোঝা যায় না। প্রচলিত যে পাকিস্তানি সমাজ, ‘পাকিস্তানি-ভূত’ সর্বস্ব দর্শন, তা ভেঙে দেয় বাঙালি অসাম্প্রদায়িক মানসকাঠামো এবং হাজার বছরের ঐতিহ্যলালিত সাংস্কৃতিক বোধের দীপাবলী জ্বালিয়ে। এর জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান থেকে যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান জানতেন, সমাজ ভাঙা যায় না রাষ্ট্রের গায়ে হস্তক্ষেপ না করে। ১৮৪৮ সালে ফরাসী দেশে গৃহযুদ্ধের ব্যর্থতার পর মার্কস তাঁর ‘লুই বোনাপার্তের অষ্টাদশ ব্রুমেয়ারে’ লিখেছেন- এযাবৎকালে বিপ্লবগুলো চেষ্টা করেছে রাষ্ট্রব্যবস্তাকে নিখুঁত করতে, কর্তব্য ছিলো ব্যবস্থাটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা। এ চূর্ণবিচূর্ণতার মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক একটি নতুন রাষ্ট্র, গড়ে ওঠে তার আলোকোজ্জ্বল আখ্যান। 
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, কর্নেল তাহের তখন আর বিলম্ব করেননি। সেনাবাহিনীর ছোটো কারাগার থেকে পালিয়ে এসে পাকিস্তান নামক বড়ো কারাগারটি ভাঙার কাজে যোগ দেন তিনি। সেই যুদ্ধে তিনি নিজ দেহের একটি অঙ্গ হারান, কিন্তু যুদ্ধের পর তিনি অবসর নেননি। কর্নেল তাহের জানতেন মুক্তিযুদ্ধের পর আরেকটি যুদ্ধ রয়েছে। সেই যুদ্ধ একাত্তরের কারা ভাঙার স্রোতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, নবগঠিত স্বাধীন বাংলাদেশকে বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে তৈরি করা। কর্নেল তাহেরের সাহস ছিলো। তাঁর বক্তব্যের সেই উদ্ধৃতিটি আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছে এক অবিনাশী উচ্চারণ। তিনি বলেছিলেন- নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর কোনো সম্পদ নেই। সাহস একটা গুণ বটে, বিশেষ করে ভয়ের দেশে; কিন্তু তা বড়ো গুণ নাও হতে পারে যদি নৈতিক মানে উঁচু না হয়, কেননা দুর্বৃত্তের ওতো সাহস থাকা সম্ভব। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, দেশের কাজ করতে হলে যে সাহসের প্রয়োজন, তা কীসের সাহস? কোথা থেকে তার উৎপত্তি? এ সাহসের নাম হলো নৈতিক চেতনার সাহস, যা বেড়ে উঠে বুকের পাঁজরে অনন্য দেশপ্রেম বোধের কারণে। সেই সাহসকে বুকে নিয়েই আমরা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেমেছি। গণজাগরণ মঞ্চের ছয়দফা দাবি সুস্পষ্টভাবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক সুবর্ণ পদক্ষেপ। একথা ধ্রুব সত্য যে, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা জনগণের চেতনায় ছিলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের নকশা। এ নকশাটি কখনোই বাস্তবায়িত হবে না, যদি যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত ও রায় কার্যকর করা না হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলাম এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করা না হয়। কারণ এ সংগঠনগুলো পাকিস্তানের অপ-আদর্শ বাস্তবায়নে হিংস্রভাবে বাংলাদেশ বিরোধী কাজ করে চলছে। একাত্তরে যেমন তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো প্রত্যক্ষভাবে, একাত্তর পরবর্তী সময়ে তারা বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যেতে চেয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী এই জামায়াতে ইসলাম দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে রাজনৈতিক মেরুদন্ডহীনতার সুযোগে। এ প্রেক্ষিতেই মুক্তিযোদ্ধা বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষের ঐক্যবদ্ধতার সূত্রটি বেশি প্রয়োজনীয়। রাষ্ট্রের সবচেয়ে সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তে মুক্তিযুদ্ধের বোধ নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষেরাই সবচেয়ে বড়ো শক্তি। একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধারাই সবচেয়ে বড়ো অনুপ্রেরণার আকর। কর্নেল তাহের সেই অনুপ্রেরণারই এক অনন্য উৎসদাতা। এই অনুপ্রেরণাকে বুকে নিয়েই নতুন প্রজন্ম সকল যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জামাত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিসহ ছয়দফা দাবি নিয়ে রাজপথে নেমেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গড়ে তুলেছে প্রবাদপ্রতিম গণ-বিদ্রোহ, যা আজ গণজাগরণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে সারা বাংলায়। এ কাজে গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিটি কর্মী আমৃত্যু লড়াই করে যাবে।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পালিয়ে গিয়ে কেউ কখনও মুক্তি পায় না, পলাতকেরা হয় ধরা পড়ে, না হয় সন্ত্রস্ত থাকে। তাই আমৃত্যু যুদ্ধ করতে পারাটাই সবচেয়ে বড়ো চেতনা। কর্নেল তাহের মৃত্যুর শেষক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধ করেছেন, ঐশ্বর্যশালী করেছেন নিজস্ব অন্তরাত্মাকে। এ তারুণ্য তাঁর কাছে ঋণী। আজকের তারুণ্য তাই কর্নেল তাহেরের ত্যাগ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে, প্রাণিত হয় নতুন আলোর সংগ্রামে। কর্নেল তাহের মুক্তিযুদ্ধের চেতনাপ্রসূত যে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই জন্য লড়াই করছে গণজাগরণ মঞ্চ, মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্নের বাংলাদেশের জন্য লড়াই করবে প্রজন্মের সৈনিকেরা। আমাদের এই দীর্ঘ লড়াইয়ে কর্নেল তাহেরও আছেন আমাদের সঙ্গে, শাশ্বত আর অনির্বাণ হয়ে। কারণ, কর্নেল তাহের তো ছুটি নেননি; যুদ্ধক্ষেত্রে কর্নেল তাহেররা ছুটি নেন না।

জয় বাংলা।

কর্নেল তাহের: নিঃশঙ্ক চিত্তের বাঁশিওয়ালা

.

সাঁইত্রিশ বছর আগের এক ২১ জুলাই ভোর চারটায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো বীরউত্তম খচিত একজন মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল আবু তাহেরকে। তাঁর অপরাধ ছিলো মুক্তিযুদ্ধের অর্জনকে তিনি আরও সম্প্রসারিত করতে চেয়েছিলেন শোষণমুক্তির দিকে। এই বীর মুক্তিযোদ্ধা স্বপ্ন দেখেছিলেন। মাতৃভূমি স্বাধীন করার স্বপ্ন, সমাজ-বদলের স্বপ্ন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়বার স্বপ্ন, সোনার বাংলা কায়েমের স্বপ্ন। সেইসব স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি এগিয়ে গেছেন সাহস ও সংকল্প নিয়ে। স্বপ্ন পূরণে নির্ভিক চিত্তে জীবন দিয়েছেন, কিন্তু মৃত্যু তাঁকে পরাভূত করতে পারেনি, বরং মৃত্যুকে জয় করার মধ্য দিয়ে অমরত্ব লাভ করেছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে ‘সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘সোনার বাংলা গড়তে হলে’ নামের একটি নাতিদীর্ঘ প্রবন্ধে কর্নেল আবু তাহের বীর উত্তম সোনার বাংলার একটি ছবি উপস্থাপন করেছিলেন। তাঁর আঁকা চিত্রের মূল উপজীব্য নদী ও মানুষ। সোনার বাংলার রূপ-কল্পটি তিনি শেষ করেছেন এই বলে- ‘নদীর বাঁধের উপর গড়ে ওঠা বাংলার এ জনপদ একটি নতুন সভ্যতা ও সংস্কৃতির অধিকারী। সুশৃঙ্খল এই জনপদের সভ্যতা ও সংস্কৃতি প্রেরণা দেয় সমগ্র পৃথিবীকে”।

.

কর্নেল তাহেরের জীবন ও কর্ম পাঠে আমরা জানতে পারি, প্রচলিত কায়দায় সামরিক চিন্তাভাবনার বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন এবং তার পাল্টা কাঠামোকে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিকভাবে দেখা ও প্রতিষ্ঠা করাই ছিলো তাহেরের মনোযোগের কেন্দ্রীয় বিষয়। তিনি সবসময়ই বলেছেন- তাঁর চিন্তার সামরিক সংগঠন প্রক্রিয়ার মূল নীতি ছিলো ‘উৎপাদনমুখী সেনাবাহিনী’। তিনি চেয়েছিলেন, সেনাবাহিনী কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে শ্রমিক-কৃষকের সঙ্গে উৎপাদনে অংশগ্রহণ করুক।

.

মূল বিষয়টি হলো কর্নেল তাহের একটি সামগ্রিক সত্তাকে বুকের গভীরে লালন করেছেন সুযতনে। বর্তমান বাংলাদেশের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই চারপাশে নানা মত, নানা পথ। কিন্তু মূল যে কেন্দ্র, যেখানে শিশিরের শব্দের মতোন জমে আছে বাংলার মানুষের প্রাণের স্পন্দন, সেই মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে যখন দ্বিমত লক্ষ্য করি, তখন আমরা যারপরনাই বিস্মিত হই। আমরা যাঁরা নতুন প্রজন্ম, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের কাছে এসেছে গ্রন্থ-চলচ্চিত্র-চিত্রশিল্প ইত্যাদির মাধ্যমে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আমাদের কাছে এক সূর্যমুখী সত্তার নব-উদ্বোধনের ইতিহাস। কীভাবে একটি জাতি সব বাধা বিপত্তিকে অতিক্রম করে নির্ভীক চিত্তে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতার জন্যে, তা একাত্তরের ইতিহাস পাঠ না করলে বোঝা যায় না। প্রচলিত যে পাকিস্তানি সমাজ, ‘পাকিস্তানি-ভূত’ সর্বস্ব দর্শন, তা ভেঙে দেয় বাঙালি অসাম্প্রদায়িক মানসকাঠামো এবং হাজার বছরের ঐতিহ্যলালিত সাংস্কৃতিক বোধের দীপাবলী জ্বালিয়ে। এর জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র। সাম্প্রদায়িক পাকিস্তান থেকে যুদ্ধের মাধ্যমে জন্ম নিয়েছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ। জাতির জনক বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমান জানতেন, সমাজ ভাঙা যায় না রাষ্ট্রের গায়ে হস্তক্ষেপ না করে। ১৮৪৮ সালে ফরাসী দেশে গৃহযুদ্ধের ব্যর্থতার পর মার্কস তাঁর ‘লুই বোনাপার্তের অষ্টাদশ ব্রুমেয়ারে’ লিখেছেন- এযাবৎকালে বিপ্লবগুলো চেষ্টা করেছে রাষ্ট্রব্যবস্তাকে নিখুঁত করতে, কর্তব্য ছিলো ব্যবস্থাটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করা। এ চূর্ণবিচূর্ণতার মধ্য দিয়েই জন্ম নেয় বাংলাদেশ নামক একটি নতুন রাষ্ট্র, গড়ে ওঠে তার আলোকোজ্জ্বল আখ্যান।

.

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ যখন শুরু হয়, কর্নেল তাহের তখন আর বিলম্ব করেননি। সেনাবাহিনীর ছোটো কারাগার থেকে পালিয়ে এসে পাকিস্তান নামক বড়ো কারাগারটি ভাঙার কাজে যোগ দেন তিনি। সেই যুদ্ধে তিনি নিজ দেহের একটি অঙ্গ হারান, কিন্তু যুদ্ধের পর তিনি অবসর নেননি। কর্নেল তাহের জানতেন মুক্তিযুদ্ধের পর আরেকটি যুদ্ধ রয়েছে। সেই যুদ্ধ একাত্তরের কারা ভাঙার স্রোতকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, নবগঠিত স্বাধীন বাংলাদেশকে বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকে তৈরি করা। কর্নেল তাহেরের সাহস ছিলো। তাঁর বক্তব্যের সেই উদ্ধৃতিটি আমাদের মতো নতুন প্রজন্মের কাছে এক অবিনাশী উচ্চারণ। তিনি বলেছিলেন- নিঃশঙ্ক চিত্তের চেয়ে জীবনে আর কোনো সম্পদ নেই। সাহস একটা গুণ বটে, বিশেষ করে ভয়ের দেশে; কিন্তু তা বড়ো গুণ নাও হতে পারে যদি নৈতিক মানে উঁচু না হয়, কেননা দুর্বৃত্তের ওতো সাহস থাকা সম্ভব। তাই প্রশ্ন উঠতেই পারে, দেশের কাজ করতে হলে যে সাহসের প্রয়োজন, তা কীসের সাহস? কোথা থেকে তার উৎপত্তি? এ সাহসের নাম হলো নৈতিক চেতনার সাহস, যা বেড়ে উঠে বুকের পাঁজরে অনন্য দেশপ্রেম বোধের কারণে। সেই সাহসকে বুকে নিয়েই আমরা নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে নেমেছি। গণজাগরণ মঞ্চের ছয়দফা দাবি সুস্পষ্টভাবেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার এক সুবর্ণ পদক্ষেপ। একথা ধ্রুব সত্য যে, একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা জনগণের চেতনায় ছিলো একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের নকশা। এ নকশাটি কখনোই বাস্তবায়িত হবে না, যদি যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত ও রায় কার্যকর করা না হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠন জামায়াতে ইসলাম এবং তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করা না হয়। কারণ এ সংগঠনগুলো পাকিস্তানের অপ-আদর্শ বাস্তবায়নে হিংস্রভাবে বাংলাদেশ বিরোধী কাজ করে চলছে। একাত্তরে যেমন তারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিলো প্রত্যক্ষভাবে, একাত্তর পরবর্তী সময়ে তারা বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যেতে চেয়েছে মধ্যযুগীয় বর্বরতায়। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী এই জামায়াতে ইসলাম দেশের রাষ্ট্রক্ষমö

Fida

Posted by Kh. Alam on July 19, 2013 at 10:20 AM Comments comments (0)

হিমুকে আর হলুদ পাঞ্জাবী পড়ে রাস্থায় দেখা যাবে না ।

---------------------------------------------------------------------------------------------------------------

.

Himaloy Himu

আমি আর আমার স্ত্রী ইয়াসমীন যখন হুমায়ূন আহমেদের পাশে থাকার জন্য নিউইয়র্ক গিয়েছিলাম, তখন একজন ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সে হুমায়ূন আহমেদের সেবা করার জন্য তার কেবিনে বসে থাকত। শেষ কয়েক সপ্তাহ যখন তাকে অচেতন করে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হলো, তখনো এই ছেলেটি সারা রাত হাসপাতালে থাকত। হুমায়ূন আহমেদ যখন আমাদের ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তখনো সে আমাদের সঙ্গে ছিল। সেই দিন রাতে একধরনের ঘোর লাগা অবস্থায় আমরা যখন নিউইয়র্ক শহরের পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছি, তখনো এই ছেলেটি নিঃশব্দে আমাদের সঙ্গে হেঁটে হেঁটে গেছে।

দেশে ফিরে এসে মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। শেষবার যখন তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, সে বলেছে এখনো মাঝেমধ্যে সে বেলভিউ হাসপাতালে গিয়ে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে বসে থাকে।

কেন বসে থাকে আমি জানি না। আমার ধারণা, সে নিজেও জানে না। শুধু এইটুকু জানি, এ ধরনের অসংখ্য মানুষের ভালোবাসা নিয়ে হুমায়ূন আহমেদ আমাদের ছেড়ে চলে গেছে।

মনে হয় এই ভালোবাসাটুকুই হচ্ছে জীবন।

.........................

...........................

বাংলার বাঘ: যে ব্যক্তি সারা জীবন নাটক সিনেমায় ইসলাম,মাওলানা, দাড়ি-টুপি কে ব্যঙ্গ করেছে!! দাড়ি-টুপি কে রাজাকারের পোষাকে রূপ দিছে!! যার পরকালে বিশ্বাস ছিল না!!বাংলাদেশে সমকামীতার জনক!! বিভিন্ন লেখার মধ্য দিয়ে খুপ সুক্ষভাবে ইসলামের অবমাননা করে গেছে! আজ সেই ব্যক্তি কে কতিপয় মানুষ মুখ দিয়া জোর করে মুসলিম সাঁজাতে চাইতাছে!! সেই ব্যক্তির জন্য আজ মায়া কান্না করে চোখের পানি, নাকের পানি একাকার করতেছে!! ইশটিটাসের পর ইশটিটাস দিতেছে!!হোমপেইজে উক্তব্যক্তির জন্য মায়া কান্না ছাড়া আর কিছু চোখে পড়তাছে না!! বলি বাপু তোমার কাছে জ্ঞানীগুনী বড় মাপের লেখকের লেখা বড় নাকি আল্লাহ রাসূল(সাঃআর দীন ইসলাম বড়??!! হোক সে অনেক বড় জ্ঞানীগুনী... হোক সে বিরাট বড় লেখক.. থাকুক তার অজস্র সুন্দর গল্প উপন্যাস,থাকুক তার লক্ষ্য কোটি ফ্যান.. যার মধ্য বিন্দুমাত্র ইসলাম বিদ্বেস আছে, আমার থেকে সে বিন্দুমাত্র সহানুভূতি পাবে না! তার কপালে হাজারবার লাথি দিতেও কুন্ঠিতবোধ করবো না!! কারন আমার কাছে আল্লাহ রাসূল (সাঃ আর দীন ইসলামের চেয়ে অধিক প্রিয় এবং বড় কেউ না!!

.

Ripon Canada: In Quran, you get understand most of the part like 90% and may be u don't understand 10% of the Quran. Allah said in Quran to understand those parts go to the Intelligent persons. Allah does not create every human body and mind equally. So, respect the Intelligent persons..

Mohammad Zafar Iqbal

Posted by Nipunservices on July 18, 2013 at 3:20 PM Comments comments (8)

humayan-1.gif

 

আমার বড় ভাই হুমায়ূন আহমেদ

মুহম্মদ জাফর ইকবাল |

.

হুমায়ূন আহমেদ আমার বড় ভাই তাকে নিয়ে নৈর্ব্যক্তিকভাবে কিছু লেখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, যেটাই লিখি তার মাঝে ব্যক্তিগত কথা চলে আসবে, আশা করছি পাঠকেরা সে জন্য আমাকে ক্ষমা করবেন।

.

হুমায়ুন আহমেদ এই দেশের একজন বিখ্যাত মানুষ ছিল, বিখ্যাত মানুষেরা সবসময় দূরের মানুষ হয়, সাধারণ মানুষের কাছে তাদের পৌঁছানোর সুযোগ থাকে না। হুমায়ূন আহমেদ মনে হয় একমাত্র ব্যতিক্রম, কমবয়সী তরুণেরা তার বই থেকে বই পড়া শিখেছে, যুবকেরা বৃষ্টি আর জোছনাকে ভালোবাসতে শিখেছে, তরুণীরা অবলীলায় প্রেমে পড়তে শিখেছে, সাধারণ মানুষেরা তার নাটক দেখে কখনও হেসে ব্যাকুল কিংবা কেঁদে আকুল হয়েছে।

.

(হুমায়ূন আহমেদ কঠিন বুদ্ধিজীবীদেরও নিরাশ করেনি, সে কীভাবে অপসাহিত্য রচনা করে সাহিত্যজগৎকে দূষিত করে দিচ্ছে তাদের সেটা নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ করে দিয়েছে!) হুমায়ূন আহমেদ শুধু বিখ্যাত হয়ে শেষ করে দেয়নি সে অসম্ভব জনপ্রিয় একজন মানুষ ছিল। আমিও সেটা জানতাম কিন্তু তার জনপ্রিয়তা কত বিশাল ছিল সেটা আমি নিজেও কখনও কল্পনা করতে পারিনি। তার পরিমাপটা পেয়েছি সে চলে যাওয়ার পর (আমি জানি এটি একধরনের ছেলেমানুষী, কিন্তু মৃত্যু কথাটি কেন জানি বলতে পারি না, লিখতে পারি না।)

.

ছেলেবেলায় বাবা-মা আর ছয় ভাইবোন নিয়ে আমাদের যে সংসারটি ছিল সেটি প্রায় রূপকথার একটি সংসার। একাত্তরে বাবাকে পাকিস্তানি মিলিটারিরা মেরে ফেলার পর প্রথমবার আমরা সত্যিকারের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিলাম। সেই দুঃসময়ে আমার মা কীভাবে বুক আগলে আমাদের রক্ষা করেছিলেন, সেটি এখনও আমার কাছে রহস্যের মতো। পুরো সময়টা আমরা রীতিমতো যুদ্ধ করে টিকে রইলাম। কেউ যদি সেই কাহিনিটুকু লিখে ফেলে সেটা বিভুতিভুষণ বন্দোপাধ্যায়ের উপন্যাসের মতো হয়ে যাবে। তখন লেখাপড়া শেষ করার জন্য প্রথমে আমি তারপর হুমায়ূন আহমেদ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছি। হুমায়ূন আহমেদ আগে, আমি তার অনেক পরে দেশে ফিরে এসেছি। হুমায়ূন আহমেদের আগেই সাহিত্যিক হিসেবে পরিচিতি ছিল, ফিরে এসে সে যখন লেখালেখির পাশাপাশি টেলিভিশনের নাটক লেখা শুরু করল, হঠাৎ করে তার জনপ্রিয়তা হয়ে গেল। আকাশ ছোঁয়া। দেশে ফিরে এসে প্রথমবার বইমেলায় গিয়ে তার জনপ্রিয়তার একটা নমুনা দেখে আমি হতবাক হয়ে গেলাম!

.

এতদিনে আমাদের ভাইবোনেরা বড় হয়েছে, সবারই নিজেদের সংসার হয়েছে। বাবা নেই, মা আছেন সবাইকে নিয়ে আবার নতুন এক ধরনের পরিবার। হুমায়ূন আহমেদের হাতে টাকা আসছে, সে খরচও করছে সেভাবে। ভাইবোন তাদের স্বামী-স্ত্রী, ছেলেমেয়ে সবাইকে নিয়ে সে দিল্লি না হয় নেপাল চলে যাচ্ছে। ঈদের দিন সবাই মিলে হৈচৈ করছে– সবকিছু কেউ যদি গুছিয়ে লিখে ফেলে আবার সেটি একটি উপন্যাস হয়ে যাবে একেবারে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস!

.

একসময় আমাদের সেই হাসিখুশি জীবনে আবার বিপর্যয় নেমে এল। তিন মেয়ে আর এক ছেলে নিয়ে ভাবী আর হুমায়ূন আহমেদের বিয়ে ভেঙে গেল। কেন ভেঙে গেল, কীভাবে ভেঙে গেল, সেটি গোপন কোনো বিষয় নয়, দেশের সবাই সেটি জানে। আমি তখন একদিন হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে দেখা করে তাকে বললাম, “দেখো, তুমি তো এ দেশের একজন খুব বিখ্যাত মানুষ। তোমার যদি শরীর খারাপ হয় তাহলে দেশের প্রেসিডেন্ট পর্যন্ত তোমাকে দেখতে চলে আসেন। তোমার তুলনায় ভাবী তার ছেলেমেয়ে নিয়ে খুব অসহায়– তার কেউ নেই। তোমার যদি আপত্তি না থাকে তাহলে আমি টিংকুভাবীর সঙ্গে থাকি? তোমার তো আর আমার সাহায্যের দরকার নেই! ছেলেমেয়ে নিয়ে ভাবীর হয়তো সাহায্যের দরকার।

.

হুমায়ূন আহমেদ আমার দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে বলল, “ঠিক আছে। তুই টিংকুর সঙ্গে থাক।”

.

সেই থেকে আমরা টিংকুভাবীর সঙ্গে ছিলাম, তার জন্য সে রকম কিছু করতে পারিনি। শুধু হয়তো মানসিকভাবে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ভাইয়ের স্ত্রী না হয়েও যেন আমাদের পরিবারের একজন হয়ে থাকতে পারে, সবাই মিলে সেই চেষ্টাই করেছি। খুব স্বাভাবিকভাবে ধীরে ধীরে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে একটা দূরত্ব তৈরি হতে শুরু করেছিল। মায়ের কাছ থেকে তার খবর ‍নিই, বেশিরভাগ সময় অবশ্যি খবরের কাগজেই তার খবর পেয়ে যাই। সে অনেক বিখ্যাত, অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তার জীবন অনেক বিচিত্র, সেই জীবনের কিছু কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিয়ে তার উপর যে অভিমান হয়নি তা নয়, দীর্ঘশ্বাস ফেলে মেনে নিয়েছি। পরিবর্তিত জীবনে তার চারপাশে অনেক শুভাকাঙ্খি, তার অনেক বন্ধু, তার অনেক ক্ষমতা, তার এই নতুন জীবনে আমার কোনো প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়নি।

.

গত বছর এ রকম সময়ে হঠাৎ করে মনে হল, এখন তার পাশে আমার থাকা প্রয়োজন। ক্যান্সারের চিকিৎসা করার জন্য নিউ ইয়র্ক গিয়েছে, সবকিছু ভালোভাবে হয়েছে। শেষ অপারেশনটি করার আগে দেশ থেকে ঘুরে গেল, সুস্থ সবল একজন মানুষ। যখন অপারেশন হয় প্রতি রাত ফোন করে খোঁজ নিয়েছি। সফল অপারেশন করে ক্যান্সারমুক্ত সুস্থ একজন মানুষ বাসায় তার আপনজনের কাছে ফিরে গেছে, এখন শুধু দেশে ফিরে আসার অপেক্ষা। তারপর হঠাৎ করে সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল, সার্জারিপরিবর্তিত অবিশ্বাস্য একটি জটিলতার কারণে তাকে আবার হাসপাতালে ফিরে যেতে হল। আমি আর আমার স্ত্রী চব্বিশ ঘণ্টার নোটিসে নিউ ইয়র্কে হাজির হলাম। ব্রুকলিন নামের শহরে আমার ছেলেমেয়েরা আমাদের জন্য একটা অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে রেখেছে। সেখানে জিনিসপত্র রেখে বেলভিউ হাসপাতালে ছুটে গেলাম। প্রকাশক মাজহার আমাদের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে নিয়ে গেলেন, সেখানে তার স্ত্রী শাওনের সঙ্গে দেখা হল। ওর বিছানায় নানা ধরনের যন্ত্রপাতি হুমায়ূন আহমেদকে ঘিরে রেখেছে। তাকে ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা হয়েছে। অবস্থা একটু ভালো হলে তাকে জাগিয়ে তোলা হবে।

.

আমরা প্রতিদিন কাকভোরে হাসপাতালে যাই। সারাদিন সেখানে অপেক্ষা করি, গভীর রাতে ব্রুকলিনে ফিরে আসি। হুমায়ূন আহমেদকে আর জাগিয়ে তোলা হয় না। আমি এত আশা করে দেশ থেকে ছুটে এসেছি, তার হাত ধরে চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলব, অভিমানের যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল– মুহূর্তে সেই দূরত্ব দূর হয়ে যাবে। কিন্তু সেই সুযোগটা পাই না।

.

ইনটেনসিভ কেয়ারের ডাক্তারদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, ঘনিষ্ঠতা হয়েছে। এতদিনে তারা বিছানায় অসহায়ভাবে শুয়ে থাকা মানুষটির গুরুত্বের কথাও জেনে গেছে। তারা আমাকে বলল, “হুমায়ূন আহমেদ ঘুমিয়ে থাকলেও তারা তোমাদের কথা শুনতে পায়। তার সঙ্গে কথা বলো।”

.

তাই যখন আশপাশে কেউ থাকে না তখন আমি তার সঙ্গে কথা বলি। আমি তাকে বলি– দেশের সব মানুষ, সব আপনজন তার ভালো হয়ে ওঠার জন্য দোয়া করছে। আমি তাকে মায়ের কথা বলি, ভাইবোনের কথা বলি, ছেলেমেয়ের কথা বলি। সে যখন ভালো হয়ে যাবে তখন তার এই চেতন-অচেতন রহস্যময় জগতের বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে কী অসাধারণ বই লিখতে পারবে তার কথা বলি। তার কাছে সবকিছু স্বপ্নের মতো মনে হলেও এটা যে স্বপ্ন নয় আমি তাকে মনে করিয়ে দিই, দেশ থেকে চলে এসে এখন আমি যে তার পাশে দাঁড়িয়ে আছি এটা যে সত্যি, সেটা তাকে বিশ্বাস করতে বলি।

.

ঘুমন্ত হুমায়ূন আহমেদ আমার কথা শুনতে পারছে কি না, সেটা জানার কোনো উপায় নেই। কিন্তু আমি বুঝতে পারি সে শুনছে। কারণ তার চোখ থেকে ফোটা ফোটা চোখের পানি গড়িয়ে পড়তে থাকে। আমি অসহায়ভাবে তাকিয়ে থাকি।

.

একদিন হুমায়ূন আহমেদের সবচেয়ে ছোট মেয়ে বিপাশা তার বাবাকে দেখতে এল। যে কারণেই হোক বহুকাল তারা বাবার কাছে যেতে পারেনি। ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে সে যখন গভীর মমতায় তার বাবার কপালে হাত রেখে তাকে ডাকল, কানের কাছে মুখ রেখে ফিসফিস করে কথা বলল, আমরা দেখলাম আবার তার দুই চোখ থেকে ফোটা ফোটা পানি গড়িয়ে পড়ল। সৃষ্টিকর্তা আমাদের অনেক কিছু দিয়েছেন, মনে হয় সে জন্যই এই দুঃখগুলো দিতেও কখনও কার্পণ্য করেনি।

.

১৯ জুলাই অন্যান্য দিনের মতো আমি হাসপাতালে গিয়েছি, ভোরবেলা হঠাৎ করে আমার মা আমাকে ফোন করলেন। ফোন ধরতেই আমার মা হাহাকার করে বললেন, “আমার খুব অস্থির লাগছে! কী হয়েছে বল।”

.

আমি অবাক হয়ে বললাম, “কী হবে? কিছুই হয়নি। প্রত্যেকদিন যে রকম, হাসপাতালে আমি আজকেও এসেছি। সবকিছু অন্যদিনের মতো, কোনো পার্থক্য নেই।”

.

আমার মায়ের অস্থিরতা তবুও যায় না, অনেক কষ্ট করে তাকে শান্ত করে ফোনটা রেখেছি ঠিক সঙ্গে সঙ্গে আমার কাছে খবর এল, আমি যেন এই মুহূর্তে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে যাই। হুমায়ূন আহমেদ মারা যাচ্ছে। আমি বিজ্ঞানের ছাত্র, তথ্য কেমন করে পাঠানো সম্ভব তার সকল বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আমি জানি। কিন্তু পৃথিবীর অপর পৃষ্ঠ থেকে একজন মা কেমন করে তার সন্তানের মৃত্যুক্ষণ নিজে থেকে বুঝে ফেলতে পারে আমার কাছে তার ব্যাখ্যা নেই।

.

আমি দ্রুত ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে গিয়েছি। হুমায়ূন আহমেদের কেবিনে সকল ডাক্তার ভিড় করেছে। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা ড. মিরারও আছেন। আমাদের দেখে অন্যদের বললেন, “আপনজনদের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করে দাও।”

.

আমি বুঝতে পারলাম হুমায়ূন আহমেদকে বাঁচিয়ে রাখার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে এখন তাকে চলে যেতে দিতে হবে।

.

আমার স্ত্রী ইয়াসমিন আমাকে বলল, আমার মাকে খবরটা দিতে হবে।

.

১৯৭১ সালে আমি আমার মাকে আমার বাবার মৃত্যু সংবাদ দিয়ে তার সারাটা জীবন ছিন্ন ভিন্ন করে দিয়েছিলাম। এতদিন পর আবার আমি নিষ্ঠুরের মতো তাকে তার সন্তানের আসন্ন মৃত্যুর কথা বলব? আমি অবুঝের মতো বললাম, “আমি পারব না।”

.

ইয়াসমিন তখন সেই নিষ্ঠুর দায়িত্বটি পালন করল– মুহূর্তে দেশে আমার মা-ভাইবোন সব আপনজনের হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে সব স্বপ্ন সব আশা এক ফুৎকারে নিভে গেল।

.

কেবিনের ভেতর উঁচু বিছানায় শুয়ে থাকা হুমায়ূন আহমেদকে অসংখ্য যন্ত্রপাতি বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। তার কাছে শাওন দাঁড়িয়ে আকুল হয়ে ডেকে হুমায়ূন আহমেদকে পৃথিবীতে ধরে রাখতে চাইছে। আমরা বোধশক্তিহীন মানুষের মতো স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। যে তরুণ ডাক্তার এতদিন প্রাণপণ চেষ্টা করে এসেছে সে বিষণ্ন গলায় আ্মাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করল। বলল, “আর খুব বেশি সময় নেই।”

.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “ও কি কষ্ট পাচ্ছে?”

.

তরুণ ডাক্তার বলল, “না কষ্ট পাচ্ছে না।”

.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি কেমন করে জান?”

.

সে বলল, “আমরা জানি। তাকে আমরা যে ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি তাতে তার কষ্ট হওয়ার কথা নয়। এ নিয়ে অনেক গবেষণা হয়েছে। এ রকম অবস্থা থেকে যখন কেউ ফিরে আসে তাদের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা জানি।”

.

আমি জিজ্ঞেস করলাম, “তার এখন কেমন লাগছে?”

.

সে বলল, “স্বপ্ন দেখার মতো। পুরো বিষয়টা তার কাছে মনে হচ্ছে একটা স্বপ্নের মতো।”

.

একটু পরে আমি জিজ্ঞেস করলাম, “যদি কোনো জাদুমন্ত্রবলে হঠাৎ সে জ্ঞান ফিরে পায়, হঠাৎ সে বেঁচে ওঠে– তাহলে কি সে আবার হুমায়ুন আহমেদ হয়ে বেঁচে থাকবে?”

.

তরুণ ডাক্তার বলল, “এখন যদি জেগে ওঠে, তাহলে হবে; একটু পরে আর হবে না। তার ব্লাড প্রেশার দ্রুত কমছে, তার মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ কমছে, মস্তিষ্কের নিউরন সেল ধীরে ধীরে মারা যেতে শুরু করেছে।”

.

আমরা সবাই স্তব্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে আছি। কমবয়সী তরুণী একজন নার্স তার মাথার কাছে সবগুলো যন্ত্রপাতির কাছে দাঁড়িয়ে আছে। হুমায়ূন আহমেদের জীবনের শেষ মুহূর্তটি যেন কষ্টহীন হয়, তার নিশ্চয়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে।

.

চারপাশে ঘিরে থাকা যন্ত্রপাতিগুলো এতদিন তাকে বাঁচিয়ে রেখে যেন ক্লান্ত হয়ে গেছে। একটি একটি যন্ত্র দেখাচ্ছে খুব ধীরে ধীরে তার জীবনের চিহ্নগুলো মুছে দিতে শুরু করেছে। ব্লাড প্রেশার যখন আরও কমে এসেছে, আমি তখন তরুণ ডাক্তারকে আবার জিজ্ঞেস করলাম, “এখন? এখন যদি হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে ওঠে তাহলে কী হবে?”

.

ডাক্তার মাথা নেড়ে বলল, “যদি এখন অলৌকিকভাবে তোমার ভাই জেগে ওঠে সে আর আগের মানুষটি থাকবে না। তার মস্তিষ্কের অনেক নিউরণ সেল এরমধ্যে মারা গেছে।”

.

আমি নিঃশব্দে হুমায়ূন আহমেদকে এই পৃথিবী থেকে বিদায় জানালাম। তার দেহটিতে এখনও জীবনের চিহ্ন আছে। কিন্তু আমার সামনে যে মানুষটি শুয়ে আছে সে আর অসম্ভব সৃষ্টিশীল, অসাধারণ প্রতিভাবান হুমায়ূন আহমেদ নয়। যে মস্তিষ্কটি তাকে অসম্ভব একজন সৃষ্টিশীল মানুষ করে রেখেছিল, তার কাছে সেই মস্তিষ্কটি আর নেই। সেটি হারিয়ে গেছে।

.

তরুণ ডাক্তার একটু পর ফিসফিস করে বলল, “এখন তার হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে থাকবে।”

.

সত্যি সত্যি তার হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে থাকল। ডাক্তার একটু পর বলল, “আর মাত্র কয়েক মিনিট।”

.

আমি বোধশক্তিহীন মানুষের মতো দাঁড়িয়ে ছিলাম, এবারে একটু কাছে গিয়ে তাকে ধরে রাখলাম। যে যন্ত্রটি এতদিন তার হৃৎস্পন্দন স্পন্দিত করে এসেছে, এটা শেষবার একটা ঝাঁকুনি দিয়ে চিরদিনের মতো থেমে গেল। মনিটরে শুধু একটি সরল রেখা, আশ্চর্য রকম নিষ্ঠুর একটি সরল রেখা। হুমায়ূন আহমদের দেহটা আমি ধরে রেখেছি কিন্তু মানুষটি চলে গেছে।

.

ছোট একটি ঘরের ভেতর কী অচিন্ত্যনীয় বেদনা এসে জমা হতে পারে আমি হতবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইলাম।

২.

আমি আর ইয়াসমিন ঢাকা ফিরেছি বাইশ তারিখ ভোরে। এয়ারপোর্ট থেকে বের হওয়ার আগেই অসংখ্য টেলিভিশন ক্যামেরা আমাদের ঘিরে ধরল, আমি নতুন করে বুঝতে পারলাম, হুমায়ূন আহমেদের জন্য শুধু তার আপনজনেরা নয়, পুরোদেশ শোকাহত।

.

এর পরের কয়েকদিনের ঘটনা আমি যেটুকু জানি এই দেশের মানুষ তার থেকে অনেক ভালো করে জানে। একজন লেখকের জন্য একটা জাতি এভাবে ব্যাকুল হতে পারে, আমি নিজের চোখে না দেখলে কখনও বিশ্বাস করতাম না। কোথায় কবর দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্তটি শুধু আপনজনদের বিষয় থাকল না। হঠাৎ করে সেটি সারাদেশের মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়াল। টেলিশিনের সব চ্যানেল একান্তই একটা পারিবারিক বিষয় চব্বিশ ঘণ্টা দেখিয়ে গেছে এতদিন, আমার

Adhare Opsori

Posted by Nipunservices on July 17, 2013 at 3:25 PM Comments comments (0)

 

আমার বাসাটা পার্কের পাশে হওয়াই অনেক কিছুই চোখে পরে। এই যেমন রমজান মাসে ইফতারের পর থেকে রাত দশটা পর্যন্ত পার্কের ঐ কোনার চায়ের দোকানের আসেপাশে অনেক ভিড় থাকে।

.

কি বুঝলেন????

.

নতুন টিনএজার পোলাপাইন তারাবী নামাজ পড়ার নাম করে বাসা থেকে বের হয় আর ঐ চায়ের দোকানে বইসে বইসে চা খায় আর বিড়ি ফুকে। কেউ আট রাকাত পড়ে এখানে ছুটে আসে, কেউ নামাজে যাইই না।

.

আসলে আমি খুব মিস করি আড্ডাটা, খালি মনে হয় আমিও যদি পারতাম ঠিক ঐভাবে আড্ডাটা দিতে। জানি সম্ভব না তবুও তোমাদের দেখে খুভ হিংসা হয় গায়েস.....।।

Tareq

Posted by Nipunservices on July 16, 2013 at 3:55 AM Comments comments (0)

আপনি কি হিজড়া জন্ম হওয়ার কারন জানেন ? ??

-

আমরা বিভিন্ন সময় রাস্ত- ঘাঁটে, ট্রেনএ হিজরা দেখি ভিক্ষা করতে। তাদেরকে দেখে আমরা অস্বস্তি বোধ করি।

হিজড়া জন্ম হওয়ার কারনঃ

.

হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ বলেছেনঃ হিজড়ারা জীনদের সন্তান। কোন এক বাক্তি আব্বাস (রাঃ কে প্রশ্ন করেছিলেন এটা কেমন করে হতে পারে। জবাবে তিনি বলেছিলেন “আল্লাহ্ ও রাসুল (সাঃ নিষেধ করেছেন যে মানুষ যেন তার স্ত্রীর মাসিক স্রাব চলাকালে যৌন সংগমনা করে”, সুতরাং কোন মহিলার সঙ্গে তার ঋতুস্রাব করা হলে শয়তান তার আগে থাকে এবং সেই শয়তান দারা অই মহিলা গর্ভবতী হয় ও হিজড়া সন্তান প্রসব করে। (মানুষও জীন এর যৌথ মিলনজাত সন্তানকে ইসলাম এ বলা হয় “খুন্নাস”।

.

প্রমানসুত্রঃ সূরা বানী ইস্রাইল- আর রাহমান, ইবনে আবি হাতিম, হাকিম তিরমিজি।

.

কিন্তু কেন তারা ভিক্ষা করে জানেন?

.

তারা দুবেলা-দুমুঠো খাবার এর জন্য আমাদের কাছে ভিক্ষা করে, তাদেকে ছোট করে দেখা ঠিক না। এই সভ্য জগতে আমরা তাদের কে নিয়ে হাসি-তামাশা করি। তাদের এই অবস্থার জন্য তো তারা দায়ী নয়, তবু ক্যানও তারা আজও অবহেলায়?আজ যারা এই পোস্টটি পড়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ রইলো হিজড়াদের প্রতি তাদের যেন একটু হলেও মানবতা বোধ জন্মায়।

Mahi Chowdhury

Posted by Nipunservices on July 13, 2013 at 3:40 PM Comments comments (0)

আমি আমার জীবনের দীর্ঘ ১৪টি বৎসর ছাত্রলীগ এর রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম ঠিক সেদিন পযদর্যন্তও যেদিন ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মীদের হাতে নৃশংস ভাবে খুন হয়েছিলনিশ্পাপ বিশ্বজিৎ। সেদিনও ছাত্রলীগের প্রতি ভালোবাসা কমে যায়নি ভালোবাসা কমে যায়নি নিজের দল আওয়ামীলীগের প্রতিও। সেদিন নিজের মনকে এইবলে শান্তনা দিয়েছিলাম যে গুটি কয়েক অমানুষের জন্য আমি আমার দলকে দোষ দিতে পারিনা বা ঘৃণা করতে পারিনা। কিন্তু ৬ই মে রাতের ঘটনায় নিজের মনকে কি বলে বুঝ দিব?

..

আজকে যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী শুধু মাত্র তাদেরকে সমর্থন করার কারণে যদি কাল কেয়ামতের দিন হাশরের ময়দানে আল্লাহ তায়ালা যদি আমাকেও প্রশ্ন করেন? কিংবা তাদের সাথেই যদি আমার হাশর হয়। তাহলেতো আমার আর নিস্তার নেই।

..

তাই সেইদিন থেকে আমি আর আর আওয়ামীলীগকে সমর্থন করিনা শুধু আওয়ামীলীগ কেন এখন আর আমি কোন রাজৈনতিক দলকেই সমর্থন করিনা। কারণ সমর্থন করার মত যথাপোযুক্ত দল এই মুহূর্তে আমার জানামতে নেই। তাই রাজনীতির খেতাপুড়ি।

..

বিঃ দ্রঃ কিছুদিন আগেও আমি সিটি স্টুডেন্টলীগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলাম।

Ayjuddin

Posted by Nipunservices on July 13, 2013 at 12:30 AM Comments comments (0)

সুশীল সমাজ তোরা কই ... কোটার পক্ষে বা বিপক্ষে একটা কিছু কইতে পারস না,

লীগের ছানা পোনারা শাহবাগে হায়নার মতো আক্রম্ন করল , কই সুশীল সমাজ।

..

আই লাবুউ সুশীল সমাজ...।। তোদের মুখে পেশাব করলাম।

Sowkot Ali Patowary

Posted by Nipunservices on July 12, 2013 at 9:35 AM Comments comments (0)

এই রুহুল আমিন হচ্ছেন বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় খেতাবপ্রাপ্ত সাত বীরশ্রেষ্ঠর একজন- বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন। বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিনেরই ছোট ছেলে হচ্ছে শওকত আলী পাটোয়ারী।

..

বাবা বীরশ্রেষ্ঠ হলেও নিজে যেন হেরে যাচ্ছেন জীবনযুদ্ধে। দারিদ্র্র্যের সঙ্গে লড়াই করে স্ত্রী ও একমাত্র শিশুকন্যাকে নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছেন শওকত। কখনো করাত কলে গাছ টেনে কখনো বা চায়ের দোকানের পানি টেনে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। স্ত্রী রাবেয়া আক্তার (৩০;) ও মেয়ে বৃষ্টিকে (৭;) নিয়ে শওকতের সংসার। থাকেন বাবার ভিটাতেই।

..

তিন বোন দুই ভাইয়ের মাঝে বোনেরা বিয়ের পর স্বামীর সংসারে আছেন। বড় ভাই মারা গেছেন ১৯৯৫ সালে। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বরে খুলনার রূপসা নদী সাতরে ক্লান্ত রুহুল আমিনকে যখন তীরে রাজাকাররা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করছিল, শওকতের বয়স তখন দুই।

.

শওকত জানান, নানান সময়ে নানান কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন তিনি। "বাবা বীরদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন- সেই গর্বে সব দুঃখ, কষ্ট ভুলে থাকি", বললেন তিনি।

.

আর্থিক সংকটের কারণে মংলায় বাবার কবরটি দেখার সৌভাগ্যও হয়নি এ কথা যখন বললেন শওকত, তখন তার চোখে পানি।

.

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন জাদুঘর ও গ্রন্থাগারের সভাপতি আতাউর রহমান বললেন, এলাকাবাসীর সহায়তায়ই শওকত ও তার পরিবার জীবিকার সংস্থান হচ্ছে। পরিবার ও স্থানীয়দের কাছ থেকেই জানা গেল, সরকারি কোন সাহায্য উল্লেখযোগ্য ভাবে পরিবারটির কাছে পৌঁছেনি।

.

মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে ব্যবসায় যখন রমরমা থাকে দেশের কত ব্যাক্তি, সমাজ, দল, প্রতিষ্ঠান আর গোষ্ঠী, তখন এই ক্রন্দনরত শওকতদের অদৃশ্য কোন হাসি যেন এই বাংলাদেশি জাতিকে বিদ্রুপ করে যায়!

Beyadop Chele

Posted by Nipunservices on July 12, 2013 at 9:20 AM Comments comments (10)

মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি / এদেশে বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই কোটা পদ্ধতি চালু হয় / পরবর্তী সময়ে কোন সরকার অই জায়গায় হাত দেয়নাই / এর অনেক কারন আছে / এবং ক্রমাগত সবাই এই সুবিধা বারাইছে / কারন যেই এইখানে হাত দিবে তার উপর মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির ট্যাগ লাইগা জাইবে / তাই সবাই এই ক্ষেত্রে পক্ষের শক্তি শুধু বাল সবার থেকে বেশী দাবি করে / সত্তুর -আশির দশক আর বর্তমান সময় এক না / আর মুক্তি যোদ্ধা তো নতুন সরকার গঠন করলেই বাড়ে ক্রমাগত / 

..

প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধার সংখ্যা কত / এই হিসাব এখনও প্রশ্ন বিদ্ধ / অনেকে ডাকাতি কইরাও তখনকার সময়ে চৌকিদার রে ৫ টাকা দিয়া নিজের নাম লেখাইয়া এহন তারা মুক্তি যোদ্ধার ট্যাগ লাগাইয়া ঘুরে / আবার অনেক সত্যিকারের মুক্তি যোদ্ধার ও সার্টিফিকেট নাই / আমার বিশ্বাস যারা প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধা তাদের সন্তান রা অধিকাংশ ই তাদের চাকুরি জীবনে ইতিপূর্বে প্রবেশ করেছেন / কিছু আছে করবেন / তয় বর্তমানে যারা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান আমি মনে করি তাদেরঅধিকাংশ মোডারেট মুক্তিযোদ্ধা / সময় আসছে নতুন করে ভাবার / আমি জানি বিম্পি যদি সরকার গঠন করে আবার মুক্তি যোদ্ধা বাড়বে / তার মানে এইরকম বাড়তেই থাকবে / 

..

পৃথিবীর কোন দেশে এইরাম নিওম নাই / শুধু বাংলাদেশেই আছে / এই কোঠা কিন্তু অনেক আগথেকেই বিতর্কিত / এইবার লাইম লাইটে আসছে শুধু মেধাবীদের হতাশার মাত্রা অনেক বেড়ে যায় যখন কেউ ৫৩ পাইয়া টিকা যায় আরেকজন ৭০+ পাইয়াও টিকে না / বৈষম্য বাড়তে থাকলে একসময় আন্দোলনে রুপ নেবেই / এই কোঠা পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছি :
.............with Beyadop chele

 

মুক্তি যোদ্ধাদের প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই বলছি / এদেশে বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই কোটা পদ্ধতি চালু হয় / পরবর্তী সময়ে কোন সরকার অই জায়গায় হাত দেয়নাই / এর অনেক কারন আছে / এবং ক্রমাগত সবাই এই সুবিধা বারাইছে / কারন যেই এইখানে হাত দিবে তার উপর মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের শক্তির ট্যাগ লাইগা জাইবে / তাই সবাই এই ক্ষেত্রে পক্ষের শক্তি শুধু বাল সবার থেকে বেশী দাবি করে / সত্তুর -আশির দশক আর বর্তমান সময় এক না / আর মুক্তি যোদ্ধা তো নতুন সরকার গঠন করলেই বাড়ে ক্রমাগত /

..

প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধার সংখ্যা কত / এই হিসাব এখনও প্রশ্ন বিদ্ধ / অনেকে ডাকাতি কইরাও তখনকার সময়ে চৌকিদার রে ৫ টাকা দিয়া নিজের নাম লেখাইয়া এহন তারা মুক্তি যোদ্ধার ট্যাগ লাগাইয়া ঘুরে / আবার অনেক সত্যিকারের মুক্তি যোদ্ধার ও সার্টিফিকেট নাই / আমার বিশ্বাস যারা প্রকৃত মুক্তি যোদ্ধা তাদের সন্তান রা অধিকাংশ ই তাদের চাকুরি জীবনে ইতিপূর্বে প্রবেশ করেছেন / কিছু আছে করবেন / তয় বর্তমানে যারা মুক্তি যোদ্ধার সন্তান আমি মনে করি তাদেরঅধিকাংশ মোডারেট মুক্তিযোদ্ধা / সময় আসছে নতুন করে ভাবার / আমি জানি বিম্পি যদি সরকার গঠন করে আবার মুক্তি যোদ্ধা বাড়বে / তার মানে এইরকম বাড়তেই থাকবে /

..

পৃথিবীর কোন দেশে এইরাম নিওম নাই / শুধু বাংলাদেশেই আছে / এই কোঠা কিন্তু অনেক আগথেকেই বিতর্কিত / এইবার লাইম লাইটে আসছে শুধু মেধাবীদের হতাশার মাত্রা অনেক বেড়ে যায় যখন কেউ ৫৩ পাইয়া টিকা যায় আরেকজন ৭০+ পাইয়াও টিকে না / বৈষম্য বাড়তে থাকলে একসময় আন্দোলনে রুপ নেবেই / এই কোঠা পদ্ধতির তীব্র বিরোধিতা করছি :

Dr. Akbor Ali

Posted by Nipunservices on July 11, 2013 at 1:35 PM Comments comments (0)

Dr-Akbar-Ali-Khan

২টি কোয়ালিফাইং মার্কসের নজির কোনো অসভ্য দেশেও নেই : ড. আকবর আলী

 

“একই চাকরির জন্য ভিন্ন ভিন্ন কোয়ালিফাইং মার্কস নির্ধারনের এখতিয়ার পিএসসি কোথায় পেল? সংবিধানে তাদের এরকম কোনো ক্ষমতা দেয়া নেই। তাছাড়া কোনো পরীক্ষার ক্ষেত্রে ২টি কোয়ালিফাইং মার্কসের নজির পৃথিবীর সভ্য-অসভ্য কোনো দেশেই নেই। আর কোয়ালিফাই না করলেও কোটাধারীদের চাকরি দেয়ার দায়িত্ব পিএসসির নয়। পিএসসির এরকম সিদ্ধান্ত অশিদ্ধ হয়েছে।”

..

বৃহস্পতিবার রাতে ৭১ টিভির লাইভ টকশোতে ড. আকবর আলী খান এসব কথা বলেন।

..

তিনি আরো বলেন, ৫০ শতাংশের অধিক কোটা কোনোভাবেই সংবিধান সম্মত নয়। তাছাড়া কোটা কোনো চিরস্থায়ী বিষয় হতে পারে না। কেউ ৮০ পেয়ে কোয়ালিফাই করবে না, আর কেউ ৪০ পেয়েও টিকবে তা আইনশিদ্ধ নয়। প্রিলিমিনারিতে ৮০ পেয়েও যে কোয়ালিফাই করল না, লিখিত পরীক্ষায় সে যে প্রথম হতোনা তার গ্যারান্টি কেউ দিতে পারবে কি? কুইজ পদ্ধতির প্রিলিমিনারির সাথে লিখিত পরীক্ষার অনেক পার্থক্য রয়েছে।

 

Pinaki + Bhowmik

Posted by Nipunservices on July 10, 2013 at 5:20 PM Comments comments (0)

Pinaki

পুরুষের একটা সুগন্ধির বিজ্ঞাপনে দেখলাম একজন মেয়ে সেলস ম্যান বলছে, “ছেলেরা কি জানে মেয়েরা কেমন গন্ধ পছন্দ করে?” এটা শুনে মনে হতে পারে সব মেয়েই পুরুষের গায়ে একই ধরণের গন্ধ পছন্দ করে।

..

এই বিজ্ঞাপনগুলোর বিজ্ঞান হচ্ছে যে, পুরুষের গায়ের গন্ধ নারীদের আকর্ষণ করে। কিন্তু কেন? কারণ পুরুষের গায়ের গন্ধ তৈরি হয় তার ইমুনিটির প্যাটার্ন বা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনুসারে। যেহেতু একেক পুরুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেক রকম তাই তাঁর নিজস্ব শরীরী গন্ধও ভিন্ন ভিন্ন। নারীদের কাছে সেই গন্ধই আকর্ষণীয় মনে হয় যে গন্ধটি তাঁর পরিপুরক ইমুনিটির ধারক। তাঁর মানে সেই পুরুষই কোন বিশেষ নারীকে আকর্ষণ করবে যে পুরুষের সেই নারীর নেই এমন ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যেহেতু বংশপরম্পরায় এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে প্রবাহিত করে দেয়া যায়, তাই এমন দুজনের মিলনে যে শিশুর জন্ম হবে সে বাবার কাছে থেকে এক রকম আর মায়ের মাছে থেকে আরেক রকম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে সব ধরণের রোগের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ সুরক্ষা নিয়ে জন্মাবে।

..

যেহেতু একেক মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেক রকম তাই, একেক নারীর একেক রকমের গন্ধ ভালো লাগবে। এবং কোন অবস্থাতেই সব নারীর একই গন্ধ ভালো লাগতে পারেনা।

.

বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আমরা ভোক্তা, আর আমাদের মনোভূমি তাঁদের মুনাফার উৎপাদক, তাই চর দখলের মতো মনোভূমির দখল নিতে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো বিজ্ঞাপনের অস্ত্র নিয়ে মরিয়া যুদ্ধ চালায়। মনোভূমির চর দখলের এই যুদ্ধটা অনেক জটিল এবং বন্ধুর তাই বিজ্ঞাপন নির্মাণে আইডিয়ার চমক দেখাতে হয়, সৃজনশীলতার ছাপ রাখতে হয়।

..

এই জটিল যুদ্ধে জয়ী হতে গিয়ে তথাকথিত সৃজনশীলতা বিজ্ঞাপনগুলিকে অনেক উচ্চকিত করে দেয়। বিজ্ঞাপনকে অনেক কিছুই বাড়িয়ে বলতে হয়, কখনো কখনো মিথ্যা বলতে হয়। সমস্যাটা হয় সেখানেই, কারণ আজকাল বিজ্ঞাপন শুধু পণ্যের গুনাগুন নয়; একটা জীবনদর্শন নিয়ে হাজির হয়। বিজ্ঞাপন শুধু নিজের পণ্যের প্রচার নয় বরং আমাদের পরিপার্শ্বকে নির্মাণ করে দিতে চায়। পুরুষের সুগন্ধির বিজ্ঞাপনগুলিও উদ্ভট আইডিয়ার আতিশয্যে একটা বিপদজনক আর অবৈজ্ঞানিক প্রচারণায় পর্যবসিত হচ্ছে।

..

গবেষণা থেকে জানা যায়, প্রায় ৩০ শতাংশ দর্শক টিভিতে প্রচারিত অন্য অনুষ্ঠানাদির চাইতে বিজ্ঞাপন বেশি উপভোগ করে। এর কারণ সম্ভবত মডেলদের আকর্ষণীয় উপস্থাপনা। বিজ্ঞাপনের মডেল আজ আর শুধু পর্দার মডেল থাকেনা, সমাজের জন্য হয়ে ওঠে অনুকরণীয় আদর্শ! এভাবেই বিজ্ঞাপন ভোক্তার মধ্যে অনবরত ছড়িয়ে যায় এক ধরণের মনন কলুষ। আমাদের এখন আর যেন কিছুই অবশিষ্ট নেই, যেখানে ঢুকে যায় নি বিজ্ঞাপনের বলবান হাত; যা একই সাথে দখল করছে আমাদের মনোভূমি আর কলুষিত করছে জন মানস।

..

শেষপর্যন্ত বিজ্ঞাপনের হাত ধরে আমরা যেখানে যাচ্ছি সেখানে মানুষ তাঁর স্বাভাবিক প্রবৃত্তিকে নির্মূল করে দিচ্ছে। যে প্রকৃতিক নির্বাচন মানুষকে কোটি কোটি বছর ধরে গড়ে তুলেছে, গড়ে তুলেছে আমাদের প্রকৃতির সাথে লড়াই করার শক্তি, আর প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সেটাকে আরও শানিত করার জৈবিক স্বাভাবিক প্রবণতা, তুমুল আগ্রাসী এই বিজ্ঞাপনের দাপটের কাছে আমাদের সেই শক্তি অসহায় হয়ে পড়ছে।

..

আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গোল্লায় যাকনা কেন, মানুষের যৌন সুরসুরিকে কাজে লাগিয়ে মনোহরণ-বাণিজ্যের সাফল্যে নিশ্চিত মুনাফা আসলেই “সব কাফি”। বিজ্ঞান-ফিজ্ঞান এসব তো সবই ফালতু আলাপ।

========================================================

Bhowmik

"পুরুষের গায়ের গন্ধ তৈরি হয় তার ইমুনিটির প্যাটার্ন বা রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা অনুসারে। যেহেতু একেক পুরুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেক রকম তাই তাঁর নিজস্ব শরীরী গন্ধও ভিন্ন ভিন্ন। নারীদের কাছে সেই গন্ধই আকর্ষণীয় মনে হয় যে গন্ধটি তাঁর পরিপুরক ইমুনিটির ধারক। তাঁর মানে সেই পুরুষই কোন বিশেষ নারীকে আকর্ষণ করবে যে পুরুষের সেই নারীর নেই এমন ধরণের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে।"

..

বিষয়টা আরেকটু গভীর। নারীরা সেইসব পুরুষেরই গায়ের গন্ধে আকৃষ্ট হন, যাদের সাথে তাদের জেনেটিক ডিসটেন্স বেশি। জেনেটিক ডিসটেন্স বেশি হলেই সেই বাবা-মায়ের মাধ্যমে উৎপাদিত সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো হয়। উদাহরণ দেয়া যেতে পারে ‘হিস্টো কম্পিট্যাবিলিটি কমপ্লেক্স জিন’ বা MHC জিনের।

..

দেখা গেছে, অনেক প্রাণী গন্ধের মাধ্যমে MHC জিন সনাক্ত করতে পারে। এভাবে তারা গন্ধ শুঁকে নিজেদের পরিবারে কিংবা নিকটাত্মীয়দের সাথে সঙ্গম করা থেকে বিরত থাকতে পারে। এই বিরত থাকার ব্যাপারটা কিন্তু বিবর্তনীয় পথেই সৃষ্ট হয়েছে। মানব সমাজেও খুব কাছের পরিবার পরিজনদের (বাবা , মা ভাই বোন কিংবা নিকটাত্মীয়) মধ্যে যৌনসঙ্গমকে ঘৃণার চোখে দেখা হয়, সামাজিকভাবেই একে ‘ব্যাভিচার’ হিসেবে গন্য করা হয়।

..

এর কারণ হচ্ছে, খুব কাছের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ব্যাভিচারের ফলে যেসব সন্তান জন্মায়, দেখা গেছে যে, তাদের জেনেটিক বৈচিত্র্য হ্রাস পায়, ফলে সে ধরণের সন্তানের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়। শুধু তাই নয়, জীববিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন যে, বাবা কিংবা মায়ের পরিবারে যদি কোন জিনবাহিত রোগ থাকে, তবে শতকরা ২৫ ভাগের মতো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সম্ভাবনা থেকে যায় ত্রুটিপূর্ণ জেনেটিক বৈশিষ্ট নিয়ে সন্তান জন্মানোর। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলে ‘কনজেনিটাল বার্থ ডিফেক্ট’ (congenital birth defects) বা জন্মগত সমস্যা।

..

নিঃসন্দেহে আমাদের আদিম পুর্বপুরুষেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যাপারটি অনুধাবন করেছিলেন যে, কাছাকাছি পারিবারিক সম্পর্কযুক্ত মানুষজনের মধ্যে যৌনসম্পর্ক হলে বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিচ্ছে এবং সে সমস্ত শিশুর মৃত্যুর হার বেশি। সামাজিকভাবেই এটিকে প্রতিহত করার প্রবণতা দেখা দেয়। সেজন্যই বিবর্তনের দীর্ঘ পথপরিক্রমায় আমাদের প্রবৃত্তিগুলো এমনভাবে তৈরি হয়েছে যে, বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের পরিবারের সদস্যদের গন্ধে যৌন আকাংক্ষায় উদ্দীপ্ত হয় না।

..

ফাইনাল ব্যাপারটা দাঁড়াচ্ছে এমন যে, সম্পর্ক যতো দূরের হবে, গন্ধে আকৃষ্ট হওয়ার চান্স ততো বাড়বে। একটা গবেষণা করেছিলেন সুইজারল্যাণ্ডের বার্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ক্লাউস ওয়্যাইণ্ড।

...

তিনি ১০০ জন কলেজ ছাত্রকে আলাদা করে তাদের সুতির জামা পরিয়ে রেখেছিলেন দুই দিন ধরে। সেই দুই দিন তারা কোন ঝাল ঝোল ওয়ালা খাবার খায়নি, ধূমপান করেনি, কোন ডিওডোরেন্ট ব্যবহার করেনি, এমনি কোন সুগন্ধী সাবানও নয়, যাতে নমুনাক্ষেত্র প্রভাবান্বিত হবার ঝামেলা টামেলা না হয়। তারপর তাদের জামা একত্রিত করে একটি বাক্সে ভরে আরেকদল অপরিচিত ছাত্রীদের দিয়ে শোঁকানো হয়। তাদের গন্ধ শুঁকে বলতে বলা হয় কোন টি শার্টের গন্ধকে তারা ‘সেক্সি’ বলে মনে করে।

..

দেখা গেল মেয়েরা সেসমস্ত টিশার্টের গন্ধকেই পছন্দ করছে কিংবা যৌনোদ্দীপক বলে রায় দিচ্ছে যে সমস্ত টি-শার্টের অধিকারীদের দেহজ MHC জিন নিজেদের থেকে অনেকটাই আলাদা। আর যাদের MHC জিন নিজের জিনের কাছাকাছি বলে প্রতীয়মান হয়, তাকে মেয়েরা অনেকটা নিজের ভাই এর মত মনে করে।

 

Valo laga ar valobasha ek noi

Posted by Nipunservices on July 9, 2013 at 2:35 PM Comments comments (0)

Cover Photo

একটি ছেলে একটি মেয়েকে ভালবাসতকিন্তু মেয়েটি ছেলেটিকে ঘৃনা করত...

..

ছেলেটি বললঃ আমি তোমার ঘৃনাকে ভালবাসায় পরিনত করব এবং আমি তোমার বাড়ির সামনে আগামী ১০০ দিন দাড়িয়ে থাকব।কখনো প্রচন্ড রোদ ওঠে ,কখনো বৃষ্টি হয় কিন্তু ছেলেটি সেই মেয়েটির বাড়ির সামনে দাড়িয়ে রইলো।৯৯ তম দিন থেকে মেয়েটি ছেলেটিকে ভালবাসতে শুর ুকরল।মেয়েটিস্ব­িদ্ধান্ত নিলো সে ছেলেটিকে তার ভালবাসার কথা জানাবে।১০০ তম দিনে সূর্য ওঠার সাথে সাথে মেয়েটি ছেলেটি যে জায়গায ়দাড়িয়ে ছিল সেখানে গেল কিন্তু ছেলেটি সেখানে ছিল না !সে একটি "চিরকুট" খুজে পেল ,যেখানে লেখা ছিলঃ“

..

তুমি বাড়িতে বসে যখন রোদ বৃষ্টি উপভোগ করছিলে ঠিক সেই সময় গুলোতে তোমার পাশের বাড়ির মেয়ে টি আমায় ভালবাসতে শুরু করে সেআমায় ২৭ দিনের দিনথেকে বলছিল সে আমায় ভালোবাসে আমি ৯৯দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি এর মাঝে সে প্রতিদিন জানিয়েছে সে আমায ়ভালোবাসে অবশেষে আমি আমার সত্যিকারের ভালবাসা খুঁজে পেয়েছি ♥তাই আমি তোমার পাশের বাড়ির মেয়েটিকে কথা দিয়েছি তোমার মাঝে যে পৃথিবী খুঁজেছিলাম ঐমেয়ে আমার মাঝে খুঁজে ভালো থেকো....!!!

..

”মোরাল :যখন তুমি সত্যিকারের ভালবাসা পাও তাকে সন্মান করতে শেখো ।কারন আজ যা তুমি খুব সহজে পেতে পারো ,হয়ত কাল তা তুমি হাজার কাদলেও পাবে না।


Oops! This site has expired.

If you are the site owner, please renew your premium subscription or contact support.